বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রোজা রেখে ব্যায়াম করলে শরীরে যা ঘটে

রোজা বা ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং হলো এমন একটি খাদ্যাভ্যাস যেখানে নির্দিষ্ট সময় না খেয়ে থাকা এবং নির্দিষ্ট সময় খাওয়ার মধ্যে চক্রাকারে পরিবর্তন করা হয়। কিছু কিছু মানুষ মনে করেন, রোজা রেখে ব্যায়াম করলে অতিরিক্ত স্বাস্থ্য উপকারিতা পাওয়া যেতে পারে। চিকিৎসকেরাও এ বিষয়ে একমত। তবে তারা কিছু ঝুঁকির কথাও জানিয়েছেন। চলুন বিস্তারিত জানা যাক।

ওজন কমে
দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে কার্বোহাইড্রেটকে শরীর গ্লুকোজে রূপান্তর করে। গ্লুকোজ শরীরে গ্লাইকোজেন হিসেবে সঞ্চিত থাকে।রোজার সময় গ্লাইকোজেন ফুরিয়ে গেলে শরীর শক্তির জন্য চর্বি (ফ্যাট) পোড়ানো শুরু করে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, খালি পেটে ব্যায়াম করলে বেশি ফ্যাট বার্ন হতে পারে।
২০১৪ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, খালি পেটে ব্যায়াম করা ব্যক্তিদের ওজন কমার হার খাবার খেয়ে ব্যায়াম করা ব্যক্তিদের তুলনায় বেশি ছিল না।আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, রোজা রেখে ব্যায়াম না করলে স্বাস্থ্যগত অনেক সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। যেমন ওজন কমতে পারে। সেক্ষেত্রে দৈনিক দৈনিক ক্যালোরি গ্রহণের চেয়ে বেশি ক্যালোরি পোড়াতে হবে।

স্বাস্থ্যকর কোষ তৈরি করে
অটোফ্যাজি হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে শরীর ক্ষতিগ্রস্ত বা অপ্রয়োজনীয় কোষ ভেঙে নতুন ও স্বাস্থ্যকর কোষ তৈরি করে। গবেষণায় দেখা গেছে, উপবাস ও ব্যায়াম একসাথে করলে এই প্রক্রিয়া বৃদ্ধি পেতে পারে।

বার্ধক্য প্রতিরোধে সম্ভাব্য ভূমিকা
২০১৮ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, রোজা রেখে ব্যায়াম শরীরের বিপাকীয় পরিবর্তনের মাধ্যমে বয়সজনিত রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

উল্লেখ্য, রোজা রেখে ব্যায়াম করলে রক্তচাপ কমে যেতে পারে। এবং দুর্বল লাগতে পারে।  খালি পেটে ব্যায়াম করার কারণে রক্তে শর্করা কমে যেতে পারে।শর্করা অতিরিক্ত কমে গেলে অজ্ঞান হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এসব ঝুঁকি এড়াতে রোজা রেখে কেমন ব্যায়াম করবেন এবং কখন ব্যায়াম করবেন—এ বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন।

সূত্র: মেডিকেল নিউজ টুডে

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

রোজা রেখে ব্যায়াম করলে শরীরে যা ঘটে

প্রকাশিত সময় : ১১:০৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রোজা বা ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং হলো এমন একটি খাদ্যাভ্যাস যেখানে নির্দিষ্ট সময় না খেয়ে থাকা এবং নির্দিষ্ট সময় খাওয়ার মধ্যে চক্রাকারে পরিবর্তন করা হয়। কিছু কিছু মানুষ মনে করেন, রোজা রেখে ব্যায়াম করলে অতিরিক্ত স্বাস্থ্য উপকারিতা পাওয়া যেতে পারে। চিকিৎসকেরাও এ বিষয়ে একমত। তবে তারা কিছু ঝুঁকির কথাও জানিয়েছেন। চলুন বিস্তারিত জানা যাক।

ওজন কমে
দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে কার্বোহাইড্রেটকে শরীর গ্লুকোজে রূপান্তর করে। গ্লুকোজ শরীরে গ্লাইকোজেন হিসেবে সঞ্চিত থাকে।রোজার সময় গ্লাইকোজেন ফুরিয়ে গেলে শরীর শক্তির জন্য চর্বি (ফ্যাট) পোড়ানো শুরু করে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, খালি পেটে ব্যায়াম করলে বেশি ফ্যাট বার্ন হতে পারে।
২০১৪ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, খালি পেটে ব্যায়াম করা ব্যক্তিদের ওজন কমার হার খাবার খেয়ে ব্যায়াম করা ব্যক্তিদের তুলনায় বেশি ছিল না।আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, রোজা রেখে ব্যায়াম না করলে স্বাস্থ্যগত অনেক সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। যেমন ওজন কমতে পারে। সেক্ষেত্রে দৈনিক দৈনিক ক্যালোরি গ্রহণের চেয়ে বেশি ক্যালোরি পোড়াতে হবে।

স্বাস্থ্যকর কোষ তৈরি করে
অটোফ্যাজি হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে শরীর ক্ষতিগ্রস্ত বা অপ্রয়োজনীয় কোষ ভেঙে নতুন ও স্বাস্থ্যকর কোষ তৈরি করে। গবেষণায় দেখা গেছে, উপবাস ও ব্যায়াম একসাথে করলে এই প্রক্রিয়া বৃদ্ধি পেতে পারে।

বার্ধক্য প্রতিরোধে সম্ভাব্য ভূমিকা
২০১৮ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, রোজা রেখে ব্যায়াম শরীরের বিপাকীয় পরিবর্তনের মাধ্যমে বয়সজনিত রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

উল্লেখ্য, রোজা রেখে ব্যায়াম করলে রক্তচাপ কমে যেতে পারে। এবং দুর্বল লাগতে পারে।  খালি পেটে ব্যায়াম করার কারণে রক্তে শর্করা কমে যেতে পারে।শর্করা অতিরিক্ত কমে গেলে অজ্ঞান হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এসব ঝুঁকি এড়াতে রোজা রেখে কেমন ব্যায়াম করবেন এবং কখন ব্যায়াম করবেন—এ বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন।

সূত্র: মেডিকেল নিউজ টুডে