শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হাসিনাসহ সব ফাঁসির আসামিকে দেশে এনে শাস্তি দিতে হবে: সরকারকে আখতার

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পলাতকদের দেশে ফেরত এনে শাস্তি কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘বিএনপি সরকারের কাছে আমরা আহ্বান জানাব, শেখ হাসিনাসহ যারা ফাঁসির আসামি আছে, যারা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আছে, তারা বিদেশের যেখানেই থাকুক না কেন, তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তির কার্যকর করতে হবে। এই দায়িত্ব নির্বাচিত সরকারের প্রধানতম দায়িত্ব বলে আমরা মনে করি।’

আজ বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও প্রসিকিউশনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলে তিনি এ দাবি জানান।

আখতার হোসেন বিএনপি সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়ে আরও বলেন, ‘কোনোভাবেই যেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার মন্থর গতিতে না আসে। কোনোভাবেই যেন বিচার বাধাগ্রস্ত না হয়। বরং এই বিচারকে গতিশীল করার জন্য যে ধরনের লজিস্টিক সাপোর্ট প্রয়োজন তা দিতে হবে। আমরা আহ্বান জানাই, যে ঘটনাগুলোতে এখনো মামলা হয়নি, সেগুলোতে যারা আসামি হবে, তাদের প্রত্যেককে আন্তর্জাতিক আইনকানুন মাথায় রেখে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলাপ-আলোচনা করে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে এসে যাতে বিচারের মুখোমুখি করা হয়।’

সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে তাঁরা শপথের বিষয়ে আখতার হোসেন বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের মধ্য দিয়েই এবারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। সেই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশের একটা অংশ অর্থাৎ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে তারা শপথ নিলেন। কিন্তু সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে তারা (বিএনপি) শপথ নিলেন না। এ বিষয়টা আমাদের সামনে স্পষ্টত তুলে ধরে যে, যে বিষয়টা তাদের ক্ষমতা গ্রহণের জন্য পছন্দসই তারা শুধুমাত্র ততটুকু মানবেন। আর যেটা তাদের ক্ষমতাকে জবাবদিহির আওতায় নিয়ে আসতে পারে সেই অংশগুলোকে তারা বাদ দিয়ে দিবেন। এ ধরনের একটা মনোভাব তাঁরা প্রথম দিকে প্রকাশ করেছেন।’

আখতার হোসেন আরও বলেন, ‘আমরা জানি, শুরুতেও সংস্কারের বিপক্ষে তাদের (বিএনপি) অবস্থান ছিল। সংস্কার কমিশনেও তারা সংস্কারের বিপক্ষে ছিল। যখন “হ্যাঁ” এবং “না” ভোটের ক্যাম্পেইন চলে ছাত্রদল তাদের অফিশিয়াল পেজে না ভোটের ক্যাম্পেইন করছে, তাদের বুদ্ধিজীবীরা না ভোটের ক্যাম্পেইন করেছে। শেষে গিয়ে জনগণের চাপে পড়ে তারেক রহমান রংপুরে গিয়ে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে তাঁর বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। এত বড় বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে বিএনপি যদি ওভারটেক করার চেষ্টা করে, জন চাপে পড়েই তারা এটা আর পারবে না। তারা জল ঘোলা করে জন চাপে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিতে বাধ্য হবে।’

আখতার হোসেন আরও বলেন, দুটি মামলায় ট্রাইব্যুনালে তাঁর সাক্ষ্য দেওয়ার কথা রয়েছে। সেই বিষয়ে খোঁজ নিতে ট্রাইব্যুনালে এসেছিলেন। তার মধ্যে একটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহিংসতা এবং অপরটি হচ্ছে ২০২১ সালে মোদিবিরোধী আন্দোলনে চালানো হত্যাকাণ্ড।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

হাসিনাসহ সব ফাঁসির আসামিকে দেশে এনে শাস্তি দিতে হবে: সরকারকে আখতার

প্রকাশিত সময় : ১০:৫৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পলাতকদের দেশে ফেরত এনে শাস্তি কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘বিএনপি সরকারের কাছে আমরা আহ্বান জানাব, শেখ হাসিনাসহ যারা ফাঁসির আসামি আছে, যারা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আছে, তারা বিদেশের যেখানেই থাকুক না কেন, তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তির কার্যকর করতে হবে। এই দায়িত্ব নির্বাচিত সরকারের প্রধানতম দায়িত্ব বলে আমরা মনে করি।’

আজ বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও প্রসিকিউশনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলে তিনি এ দাবি জানান।

আখতার হোসেন বিএনপি সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়ে আরও বলেন, ‘কোনোভাবেই যেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার মন্থর গতিতে না আসে। কোনোভাবেই যেন বিচার বাধাগ্রস্ত না হয়। বরং এই বিচারকে গতিশীল করার জন্য যে ধরনের লজিস্টিক সাপোর্ট প্রয়োজন তা দিতে হবে। আমরা আহ্বান জানাই, যে ঘটনাগুলোতে এখনো মামলা হয়নি, সেগুলোতে যারা আসামি হবে, তাদের প্রত্যেককে আন্তর্জাতিক আইনকানুন মাথায় রেখে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলাপ-আলোচনা করে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে এসে যাতে বিচারের মুখোমুখি করা হয়।’

সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে তাঁরা শপথের বিষয়ে আখতার হোসেন বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের মধ্য দিয়েই এবারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। সেই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশের একটা অংশ অর্থাৎ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে তারা শপথ নিলেন। কিন্তু সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে তারা (বিএনপি) শপথ নিলেন না। এ বিষয়টা আমাদের সামনে স্পষ্টত তুলে ধরে যে, যে বিষয়টা তাদের ক্ষমতা গ্রহণের জন্য পছন্দসই তারা শুধুমাত্র ততটুকু মানবেন। আর যেটা তাদের ক্ষমতাকে জবাবদিহির আওতায় নিয়ে আসতে পারে সেই অংশগুলোকে তারা বাদ দিয়ে দিবেন। এ ধরনের একটা মনোভাব তাঁরা প্রথম দিকে প্রকাশ করেছেন।’

আখতার হোসেন আরও বলেন, ‘আমরা জানি, শুরুতেও সংস্কারের বিপক্ষে তাদের (বিএনপি) অবস্থান ছিল। সংস্কার কমিশনেও তারা সংস্কারের বিপক্ষে ছিল। যখন “হ্যাঁ” এবং “না” ভোটের ক্যাম্পেইন চলে ছাত্রদল তাদের অফিশিয়াল পেজে না ভোটের ক্যাম্পেইন করছে, তাদের বুদ্ধিজীবীরা না ভোটের ক্যাম্পেইন করেছে। শেষে গিয়ে জনগণের চাপে পড়ে তারেক রহমান রংপুরে গিয়ে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে তাঁর বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। এত বড় বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে বিএনপি যদি ওভারটেক করার চেষ্টা করে, জন চাপে পড়েই তারা এটা আর পারবে না। তারা জল ঘোলা করে জন চাপে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিতে বাধ্য হবে।’

আখতার হোসেন আরও বলেন, দুটি মামলায় ট্রাইব্যুনালে তাঁর সাক্ষ্য দেওয়ার কথা রয়েছে। সেই বিষয়ে খোঁজ নিতে ট্রাইব্যুনালে এসেছিলেন। তার মধ্যে একটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহিংসতা এবং অপরটি হচ্ছে ২০২১ সালে মোদিবিরোধী আন্দোলনে চালানো হত্যাকাণ্ড।