শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘পাকিস্তানের উস্কানিতে বিশ্বকাপ খেলেনি বাংলাদেশ’

মুস্তাফিজুর রহমান আইপিএল থেকে বাদ পড়লে খুব দ্রুতই দৃশ্যপট বদলে যেতে থাকে।  অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ভারতের রাজনৈতিক সম্পর্কে চরম অবনতির সুযোগ নিয়েছিল পাকিস্তান। বাংলাদেশকে উস্কে দিয়ে টাইগারদের বিশ্বকাপ থেকে বঞ্চিত করেছিল দেশটির কিকেট বোর্ড (পিসিবি)। ভারত, পাকিস্তান তো বটেই বিশ্বের স্বনামধ্য অনেক বিশ্লেষকই সেটি স্পস্ট করে বলেছিলেন। এবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও এসিসির সাবেক সিইও সৈয়দ আশরাফুল হকও তাতে একমত পোষণ করলেন।

এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্তের দায় যেভাবে বিসিবি ও ক্রিকেটারদের ওপর দিয়েছেন, তাতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয় দেখিয়েছেন মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। বর্তমানে জাতীয় দলের ব্যাটিংয়ের তত্ত্ববধানে থাকা দেশসেরা এ কোচ জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ চঞ্চিত হওয়ায় একাধিক ক্রিকেটারের মনের অবস্থা ‘কোমায় চলে যাওয়ার মতো’ হয়েছিল। কোচিং প্যানেল ও ম্যানেজমেন্ট তাদের স্বাভাবিক হতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
‘আমি খেলার মধ্যে রাজনীতি টেনে আনা পছন্দ করি না। ক্রিকেট প্রশাসক হিসেবে আমি সততা ও দায়িত্ববোধের দিকে বেশি নজর দিই। আমার মনে হয় বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল সম্ভবত পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) প্রধাণ মহসিন নাকভির দ্বারা প্ররোচিত হয়েছেন। দিন শেষে কে জিতেছে?’ আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম রেভস্পোর্টজকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে বলেন সৈয়দ আশরাফুল হক।  বাংলাদেশের বিশ্বকাপ না খেলার সূত্রপাত মুস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়াকে কেন্দ্র করেই। ৩ জানুয়ারি কলকাতা নাইট রাইডার্স ছেড়ে দেওয়ার পরদিনই (৪ জানুয়ারি) বিসিবি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যাবে না বাংলাদেশ।

শ্রীলঙ্কায় লিটনদের ম্যাচ স্থানান্তর করতে আইসিসিকে বিসিবি অনেক অনুরোধ করেছিল। কিন্তু যার যার সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে আইসিসি। নিরাপত্তাজনিত কারণেই মূলত বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে টি২০ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেয়নি তৎকালীন সরকার। আশরাফুল বলেন,‘আমি সব সময় বিশ্বাস করি বাংলাদেশের তৎকালীন সরকার বিশেষ করে ক্রীড়া উপদেষ্টা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেটা ছিল অপরিপক্ব। মুস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর হঠাৎ এত বড় সিদ্ধান্ত (ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়া)। আমাদের হাতে বিসিসিআইয়ের সঙ্গে দেনদরবার করার যথেষ্ট সুযোগ ছিল। ভারতীয় সরকারের সঙ্গেও কথা বলতে পারতাম। আইসিসি এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করে ও নিরাপত্তা দিয়ে থাকে। যদি আমাদের দুশ্চিন্তার জায়গা থাকত, তাহলে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার ব্যাপারে সরকার অনুরোধ করতে পারত।’
সৈয়দ আশরাফুল হক নিজেও এক সময় এসিসির সিইওর দায়িত্বে ছিলেন। এই অঞ্চলের ক্রিকেটীয় বাস্তবতা তিনি ভালই বোঝেন, ‘ভারত যদি সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ সফরে খেলতে না আসে তাহলে বাংলাদেশের ক্রিকেট ৫ থেকে ১০ বছর পিছিয়ে যাবে। বর্তমান সরকারের দায়িত্ব, ভারতকে রাজি করিয়ে খেলতে নিয়ে আসা। আশা করছি সেই দৃশ্যই দেখতে পাব।’ উল্লেখ্য সম্পর্ক খারাপ হওয়ায় গত বছর বাংলাদেশ সফর স্থগিত করে ইন্ডিয়ান ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)।  বিশ্বকাপ শুরুর আগে সদ্য সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়েছিলেন বাংলাদেশ দলের বিশ্বকাপ না খেলা সরকারের সিদ্ধান্ত। পরে বক্তব্য পাল্টে ফের জানান এটি সরকারের নয়, বরং বিসিবি এবং ক্রিকেটারদের সিদ্ধান্ত ছিল।

শুক্রবার মিরপুরে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন,‘উনি খাঁড়ার ওপর এরকম মিথ্যা কথা বলবে আমি আসলে ভাবতেও পারছি না। আমি কিভাবে আসলে ছেলেদের সামনে মুখ দেখাব। উনি একজন শিক্ষক মানুষ, ঢাকা ইউনিভার্সিটির শিক্ষক। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের একজন শিক্ষক এভাবে মিথ্যা বলবে আমরা আসলে এটা মানতে পারতেছি না।’ তিনি আরও যোগ করেন,‘আমিতো জানি আমার দুইটা খেলোয়াড় কোমাতে চলে গিয়েছিল। পাঁচ দিন ধরে কোথায় যেন হারায় গিয়েছিল তারা। আমরা তাদের (অদম্য কাপ) টুর্নামেন্টে মাঠে ফিরিয়ে আনতে পেরেছি ওইটাই বেশি। এটা সবচেয়ে বড় সাফল্য আমার জীবনে। একটা দলকে আপনি এক সেকেন্ডে নষ্ট করে দিয়েছেন।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

‘পাকিস্তানের উস্কানিতে বিশ্বকাপ খেলেনি বাংলাদেশ’

প্রকাশিত সময় : ১০:৪৪:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মুস্তাফিজুর রহমান আইপিএল থেকে বাদ পড়লে খুব দ্রুতই দৃশ্যপট বদলে যেতে থাকে।  অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ভারতের রাজনৈতিক সম্পর্কে চরম অবনতির সুযোগ নিয়েছিল পাকিস্তান। বাংলাদেশকে উস্কে দিয়ে টাইগারদের বিশ্বকাপ থেকে বঞ্চিত করেছিল দেশটির কিকেট বোর্ড (পিসিবি)। ভারত, পাকিস্তান তো বটেই বিশ্বের স্বনামধ্য অনেক বিশ্লেষকই সেটি স্পস্ট করে বলেছিলেন। এবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও এসিসির সাবেক সিইও সৈয়দ আশরাফুল হকও তাতে একমত পোষণ করলেন।

এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্তের দায় যেভাবে বিসিবি ও ক্রিকেটারদের ওপর দিয়েছেন, তাতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয় দেখিয়েছেন মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। বর্তমানে জাতীয় দলের ব্যাটিংয়ের তত্ত্ববধানে থাকা দেশসেরা এ কোচ জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ চঞ্চিত হওয়ায় একাধিক ক্রিকেটারের মনের অবস্থা ‘কোমায় চলে যাওয়ার মতো’ হয়েছিল। কোচিং প্যানেল ও ম্যানেজমেন্ট তাদের স্বাভাবিক হতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
‘আমি খেলার মধ্যে রাজনীতি টেনে আনা পছন্দ করি না। ক্রিকেট প্রশাসক হিসেবে আমি সততা ও দায়িত্ববোধের দিকে বেশি নজর দিই। আমার মনে হয় বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল সম্ভবত পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) প্রধাণ মহসিন নাকভির দ্বারা প্ররোচিত হয়েছেন। দিন শেষে কে জিতেছে?’ আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম রেভস্পোর্টজকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে বলেন সৈয়দ আশরাফুল হক।  বাংলাদেশের বিশ্বকাপ না খেলার সূত্রপাত মুস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়াকে কেন্দ্র করেই। ৩ জানুয়ারি কলকাতা নাইট রাইডার্স ছেড়ে দেওয়ার পরদিনই (৪ জানুয়ারি) বিসিবি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যাবে না বাংলাদেশ।

শ্রীলঙ্কায় লিটনদের ম্যাচ স্থানান্তর করতে আইসিসিকে বিসিবি অনেক অনুরোধ করেছিল। কিন্তু যার যার সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে আইসিসি। নিরাপত্তাজনিত কারণেই মূলত বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে টি২০ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেয়নি তৎকালীন সরকার। আশরাফুল বলেন,‘আমি সব সময় বিশ্বাস করি বাংলাদেশের তৎকালীন সরকার বিশেষ করে ক্রীড়া উপদেষ্টা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেটা ছিল অপরিপক্ব। মুস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর হঠাৎ এত বড় সিদ্ধান্ত (ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়া)। আমাদের হাতে বিসিসিআইয়ের সঙ্গে দেনদরবার করার যথেষ্ট সুযোগ ছিল। ভারতীয় সরকারের সঙ্গেও কথা বলতে পারতাম। আইসিসি এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করে ও নিরাপত্তা দিয়ে থাকে। যদি আমাদের দুশ্চিন্তার জায়গা থাকত, তাহলে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার ব্যাপারে সরকার অনুরোধ করতে পারত।’
সৈয়দ আশরাফুল হক নিজেও এক সময় এসিসির সিইওর দায়িত্বে ছিলেন। এই অঞ্চলের ক্রিকেটীয় বাস্তবতা তিনি ভালই বোঝেন, ‘ভারত যদি সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ সফরে খেলতে না আসে তাহলে বাংলাদেশের ক্রিকেট ৫ থেকে ১০ বছর পিছিয়ে যাবে। বর্তমান সরকারের দায়িত্ব, ভারতকে রাজি করিয়ে খেলতে নিয়ে আসা। আশা করছি সেই দৃশ্যই দেখতে পাব।’ উল্লেখ্য সম্পর্ক খারাপ হওয়ায় গত বছর বাংলাদেশ সফর স্থগিত করে ইন্ডিয়ান ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)।  বিশ্বকাপ শুরুর আগে সদ্য সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়েছিলেন বাংলাদেশ দলের বিশ্বকাপ না খেলা সরকারের সিদ্ধান্ত। পরে বক্তব্য পাল্টে ফের জানান এটি সরকারের নয়, বরং বিসিবি এবং ক্রিকেটারদের সিদ্ধান্ত ছিল।

শুক্রবার মিরপুরে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন,‘উনি খাঁড়ার ওপর এরকম মিথ্যা কথা বলবে আমি আসলে ভাবতেও পারছি না। আমি কিভাবে আসলে ছেলেদের সামনে মুখ দেখাব। উনি একজন শিক্ষক মানুষ, ঢাকা ইউনিভার্সিটির শিক্ষক। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের একজন শিক্ষক এভাবে মিথ্যা বলবে আমরা আসলে এটা মানতে পারতেছি না।’ তিনি আরও যোগ করেন,‘আমিতো জানি আমার দুইটা খেলোয়াড় কোমাতে চলে গিয়েছিল। পাঁচ দিন ধরে কোথায় যেন হারায় গিয়েছিল তারা। আমরা তাদের (অদম্য কাপ) টুর্নামেন্টে মাঠে ফিরিয়ে আনতে পেরেছি ওইটাই বেশি। এটা সবচেয়ে বড় সাফল্য আমার জীবনে। একটা দলকে আপনি এক সেকেন্ডে নষ্ট করে দিয়েছেন।’