যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ডে একটি হাসপাতাল জাহাজ পাঠানোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জেনস-ফ্রেডেরিক নিলসেন। ডেনমার্কের এই স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটি ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। খবর আরটির।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে, তিনি এই আর্কটিক দ্বীপে একটি ‘বিশাল হাসপাতাল জাহাজ’ পাঠাতে চান। তার দাবি অনুযায়ী, সেখানকার ‘অনেক মানুষ অসুস্থ এবং তাদের সঠিক চিকিৎসা হচ্ছে না।’
এর জবাবে রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) এক ফেসবুক পোস্টে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী নিলসেন বলেন, “আমাদের পক্ষ থেকে উত্তর হলো- জি না, ধন্যবাদ।”
মার্কিন স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা টেনে তিনি আরো বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডে একটি মার্কিন হাসপাতাল জাহাজ পাঠানোর যে ধারণা পোষণ করেছেন, তা আমরা লক্ষ্য করেছি। কিন্তু আমাদের একটি সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা রয়েছে যেখানে নাগরিকদের চিকিৎসা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হয়।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যেকোনো আলোচনার জন্য গ্রিনল্যান্ডের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা জরুরি।”
ডেনমার্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ট্রোয়েলস লুন্ড পৌলসেনও জানিয়েছেন যে, ট্রাম্পের কাছ থেকে এই ধরনের অযাচিত সাহায্যের প্রয়োজন গ্রিনল্যান্ডের নেই। রবিবার ডেনিশ সংবাদমাধ্যম ডিআর-কে তিনি বলেন, “গ্রিনল্যান্ডের জনগণ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে।” তিনি আরো উল্লেখ করেন, নাগরিকরা দ্বীপেই চিকিৎসা পায় অথবা প্রয়োজনে ডেনমার্কে গিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করে।
গত বছর থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ডেনমার্কের এই স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটি দখলের প্রচেষ্টা জোরদার করেছেন। এমনকি তিনি দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে উপহাস করে বলেছিলেন যে, সেখানে কেবল ‘দুটি কুকুরে টানা স্লেজ গাড়ি’ রয়েছে। তিনি দাবি করেন, চীন ও রাশিয়ার হাত থেকে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ড আমেরিকার জন্য প্রয়োজন- যদিও চীন ও রাশিয়া এই দাবি নাকচ করে দিয়েছে।
অঞ্চলটি অন্তর্ভুক্ত করার এই জোরালো প্রচেষ্টা ওয়াশিংটন এবং তার ইউরোপীয় ন্যাটো মিত্রদের মধ্যে কূটনৈতিক দূরত্ব বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সম্প্রতি ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, তিনি এবং ন্যাটো প্রধান মার্ক রুটে গ্রিনল্যান্ড ও আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তার বিষয়ে একটি কাঠামোতে সম্মত হয়েছেন। গ্রিনল্যান্ড দখল ইস্যুতে ট্রাম্প তার সুর কিছুটা নরমও করেছেন। তবে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন গত সপ্তাহে সতর্ক করে জানান, ট্রাম্প এখনও এই অঞ্চলটি দখলের বিষয়ে ‘বেশ গুরুত্বের সাথে’ কাজ করছেন।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম 
























