ওয়াশিংটনে ক্যাপিটল ভবনের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস চেম্বার থেকে বুধবার ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে গুরুত্বপূর্ণ এ ভাষণেও তিনি যথারীতি নানা সত্য-মিথ্যা দাবি ও অভিযোগ করেছেন। তার ভাষণে দেশটির অর্থনীতি, সীমান্ত সমস্যা, অপরাধ এবং ভেনেজুয়েলা, ইরানের পরমাণু কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয় স্থান পায়। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণ এটি। প্রথা অনুযায়ী, মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট ও নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের (প্রতিনিধি পরিষদ) যৌথ অধিবেশনে তিনি এই ভাষণ দেন। ট্রাম্প যখন ভাষণ শুরু করেন, তখন তার সমর্থকরা ‘ইউএসএ’ বলে সেøাগান দিতে থাকেন। আল-জাজিরা।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার ভাষণের শুরুতে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত বন্ধ রাখা, অর্থনীতির এগিয়ে চলা ও অপরাধ কমার বিষয় জোরালোভাবে তুলে ধরেন। ট্রাম্প দাবি করেন, ‘আজ আমাদের সীমান্ত নিরাপদ। দেশের উদ্যম ফিরেছে। মূল্যস্ফীতি কমছে। আয়ও দ্রুত বাড়ছে। অর্থনীতি আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে জোরালোভাবে এগোচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘শত্রুরা এখন ভয় পাচ্ছে। আমাদের সেনা ও পুলিশ শক্তিশালী হয়েছে। বিশ্বে আবার যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদা বেড়েছে।’ ট্রাম্প আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য দেশের সীমান্ত বন্ধ করার সিদ্ধান্তের ওপর জোর দেন। তবে অভিবাসীদের ব্যাপক
হারে বহিষ্কার করার কর্মসূচির কথা ভাষণে উল্লেখ করেননি। তার এ কর্মসূচি রাজনৈতিকভাবে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্প ‘বৈধ’ অভিবাসনের পক্ষে তার অবস্থানের কথা মার্কিন আইনপ্রণেতাদের জানান।
দেশজুড়ে অপরাধের হার নাটকীয়ভাবে কমার কৃতিত্বও দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কোভিড মহামারীর সময় অপরাধের সংখ্যা বেড়ে গিয়েছিল এবং এরপর থেকেই এর নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে।
বিভিন্ন দেশের ওপর ট্রাম্পের আরোপ করা পাল্টা বাণিজ্য শুল্ক নিয়ে শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, পুরো বিশ্বে আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। এর মধ্যে মার্কিন সুপ্রিমকোর্ট অতিসম্প্রতি এ শুল্কের বড় অংশকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করেছেন। এ প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প ভাষণে বলেন, তার শুল্ক নীতির বড় অংশ অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া সুপ্রিমকোর্টের সাম্প্রতিক আদেশ ‘দুর্ভাগ্যজনক’। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও বলেন, অন্য আইনি ধারার মাধ্যমে বাণিজ্য শুল্ক বহাল রাখা হবে। এ জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে না।
লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা থেকে জ্বালানি তেল পাওয়ার বিষয়টিও ট্রাম্পের ভাষণে উঠে এসেছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমরা আমাদের নতুন বন্ধু ও অংশীদার ভেনেজুয়েলা থেকে ৮ কোটি ব্যারেলের বেশি জ্বালানি তেল পেয়েছি।’ এ বছরের শুরুর দিকে কারাকাসে সামরিক অভিযান চালিয়ে সস্ত্রীক ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে নিউইয়র্কে তুলে নিয়ে যায় মার্কিন বিশেষ বাহিনী।
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর বিশ্বে আটটি যুদ্ধ থামিয়েছেনÑ এমন দাবি ট্রাম্প আগেও করেছেন। এবার ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণে সেই দাবি পুনর্ব্যক্ত করলেন এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এর মধ্যে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যকার যুদ্ধবিরতিকে নিজের সাফল্য হিসেবে আইনপ্রণেতাদের সামনে তুলে ধরেন তিনি।
গত বছর যখন ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ চলছিল, তখন ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্রও। সেই প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প তার ভাষণে বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করা হয়েছে। ট্রাম্পের এমন বক্তব্য তারই মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফের পুরোপুরি বিপরীত। এ সপ্তাহের শুরুর দিকে তিনি বলেছিলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে ‘সপ্তাহখানেক’ পিছিয়ে আছে। ভাষণে ট্রাম্প এটাও বলেন, ইরান এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে; যেটা মার্কিন ভূখণ্ডে আঘাত হানতে পারবে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে কোনো তথ্যপ্রমাণ দেননি তিনি।
প্রযুক্তি খাতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলো বৃহৎ আকারের ও অনেক বিদ্যুৎ খরচ হয়Ñ এমন এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ডেটা সেন্টার বা তথ্যভাণ্ডার নির্মাণ করছে বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। এসব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর জন্য বাধ্যবাধকতা থাকবে বলে জানান তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে জানাচ্ছি, নিজেদের বিদ্যুতের চাহিদা নিজেদেরই মেটাতে হবে।’

রিপোর্টারের নাম 
























