শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আখুন্দজাদা নিহত

আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী পরিচালিত ‘অপারশন গজব-লিল হক’ অভিযানে নিহত হয়েছেন কাবুলে ক্ষমতাসীন তালেবান সরকারের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা নিহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা থিঙ্কট্যাংক সংস্থা ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স (ওসিন্ট)- এর ইউরোপ শাখা এক বার্তায় এ দাবি করেছে।

আজ শুক্রবার ভোর ৬ টা ৩ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় ওসিন্ট ইউরোপের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “পাকিস্তানি বিমান বাহিনীর হামলায় কাবুলে ইসলামিক এমিরেত অব আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা কয়েকজন শীর্ষ তালেবান কমান্ডার-সহ নিহত হয়েছেন।”

২০২১ সালে মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনী আফগানিস্তান ত্যাগের পর দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতা দখল করে সরকার গঠন করে তালেবান বাহিনী। বাহিনীর শীর্ষনেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা হন সেই সরকারের সর্বোচ্চ নেতা। তালেবান সরকার মূলত তার নির্দেশ ও দিকনির্দেশনা অনুযায়ী চলে।

তালেবান সরকারের মদতপুষ্ট নিষিদ্ধ রাজনৈতিক গোষ্ঠী তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-কে নির্মূলের অংশ হিসেবে গত ২১ ফেব্রুয়ারি আফগানিস্তানের নানগারহার ও পাকতিয়া প্রদেশে সংক্ষিপ্ত বিমান অভিযান চালিয়েছিল পাকিস্তানের বিমানবাহিনী। অভিযানে দুই প্রদেশে নিহত হন ৮০ জনেরও বেশি মানুষ।

সেই অভিযানের ‘বদলা’ নিতে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় পাক-আফগান সীমান্তবর্তী ডুরান্ড লাইন এলাকায় পাক সেনাচৌকিগুলো লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালায় আফগানিস্তানের সেনাবাহিনী। আফগান সংবাদমাধ্যম তোলো নিউজ এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেনাপ্রধান ফাসিহুদ্দিন ফিৎরাতের নির্দেশ অনুযায়ী রাত ১২টা পর্যন্ত ডুরান্ড লাইন এলাকায় অভিযান চালিয়েছে আফগান সেনারা। তাদের হামলায় নিহত হয়েছেন বেশ কয়েক পাক সেনা। এর পাশাপাশি বেশ কয়েকজন সেনাকে বন্দি করে নিয়ে যায় তারা।

ডুরান্ড লাইন এলাকায় হামলার সময়ে তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক এক্সপোস্টে বলেছিলেন, ““আমাদের সেনারা নাইট ভিশন এবং লেজার নিয়ন্ত্রিত অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে। এবার ওদের (পাকিস্তানি সেনাবাহিনী) আমরা নরকে পাঠাব।”

এদিকে, ডুরান্ড লাইনে হামলার মাত্র সাড়ে তিন ঘণ্টা পর রাত ৩টা ৪৫ মিনিটে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ অভিযান শুরু করে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। অভিযান শুরুর পর এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেন, “আমাদের ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। এখন আপনাদের সঙ্গে আমাদের কেবল যুদ্ধ হবে…পাকিস্তানের সেনাবাহিনী সাগর থেকে ভেসে আসেনি। আমরা আপনাদের প্রতিবেশী: আপনাদের মতিগতি আমরা খুব ভালোভাবে জানি।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আখুন্দজাদা নিহত

প্রকাশিত সময় : ১০:৫৭:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী পরিচালিত ‘অপারশন গজব-লিল হক’ অভিযানে নিহত হয়েছেন কাবুলে ক্ষমতাসীন তালেবান সরকারের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা নিহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা থিঙ্কট্যাংক সংস্থা ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স (ওসিন্ট)- এর ইউরোপ শাখা এক বার্তায় এ দাবি করেছে।

আজ শুক্রবার ভোর ৬ টা ৩ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় ওসিন্ট ইউরোপের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “পাকিস্তানি বিমান বাহিনীর হামলায় কাবুলে ইসলামিক এমিরেত অব আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা কয়েকজন শীর্ষ তালেবান কমান্ডার-সহ নিহত হয়েছেন।”

২০২১ সালে মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনী আফগানিস্তান ত্যাগের পর দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতা দখল করে সরকার গঠন করে তালেবান বাহিনী। বাহিনীর শীর্ষনেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা হন সেই সরকারের সর্বোচ্চ নেতা। তালেবান সরকার মূলত তার নির্দেশ ও দিকনির্দেশনা অনুযায়ী চলে।

তালেবান সরকারের মদতপুষ্ট নিষিদ্ধ রাজনৈতিক গোষ্ঠী তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-কে নির্মূলের অংশ হিসেবে গত ২১ ফেব্রুয়ারি আফগানিস্তানের নানগারহার ও পাকতিয়া প্রদেশে সংক্ষিপ্ত বিমান অভিযান চালিয়েছিল পাকিস্তানের বিমানবাহিনী। অভিযানে দুই প্রদেশে নিহত হন ৮০ জনেরও বেশি মানুষ।

সেই অভিযানের ‘বদলা’ নিতে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় পাক-আফগান সীমান্তবর্তী ডুরান্ড লাইন এলাকায় পাক সেনাচৌকিগুলো লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালায় আফগানিস্তানের সেনাবাহিনী। আফগান সংবাদমাধ্যম তোলো নিউজ এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেনাপ্রধান ফাসিহুদ্দিন ফিৎরাতের নির্দেশ অনুযায়ী রাত ১২টা পর্যন্ত ডুরান্ড লাইন এলাকায় অভিযান চালিয়েছে আফগান সেনারা। তাদের হামলায় নিহত হয়েছেন বেশ কয়েক পাক সেনা। এর পাশাপাশি বেশ কয়েকজন সেনাকে বন্দি করে নিয়ে যায় তারা।

ডুরান্ড লাইন এলাকায় হামলার সময়ে তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক এক্সপোস্টে বলেছিলেন, ““আমাদের সেনারা নাইট ভিশন এবং লেজার নিয়ন্ত্রিত অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে। এবার ওদের (পাকিস্তানি সেনাবাহিনী) আমরা নরকে পাঠাব।”

এদিকে, ডুরান্ড লাইনে হামলার মাত্র সাড়ে তিন ঘণ্টা পর রাত ৩টা ৪৫ মিনিটে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ অভিযান শুরু করে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। অভিযান শুরুর পর এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেন, “আমাদের ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। এখন আপনাদের সঙ্গে আমাদের কেবল যুদ্ধ হবে…পাকিস্তানের সেনাবাহিনী সাগর থেকে ভেসে আসেনি। আমরা আপনাদের প্রতিবেশী: আপনাদের মতিগতি আমরা খুব ভালোভাবে জানি।”