শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঢাবি ছাত্রদল নেতা হামিমকে শোকজ, ভিডিও বার্তায় জবাব

সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কবি জসীম উদ্দীন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও ডকসুর জিএস প্রার্থী শেখ তানভীর বারী হামিমকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।

গতকাল শুক্রবার সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম এই নোটিশ পাঠান। পরে রাত ১টার দিকে এক ভিডিও বার্তায় শোকজের জবাব দেন হামিম ।

তবে কি কারণে ছাত্রদল নেতা হামিম কি ধরণের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন তা নোটিশে উল্লেখ করা হয়নি।

শোকজ নোটিশে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার অধীনস্থ কবি জসীম উদ্দীন হল ছাত্রদলের দায়িত্বশীল পদে আসীন থেকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে আপনার বিরুদ্ধে কেন স্থায়ী সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, এই মর্মে আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হলো।

কবি জসীম উদ্দীন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক শেখ তানভীর বারী হামিম নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক একাউন্ট থেকে এক ভিডিও বার্তায় শোকজের জবাব দেন।

ভিডিওতে হামিম বলেন, ‘তারা বলেছে লিখিত জবাব দিতে। আমি লিখিত জবাব চাইলেই দিতে পারতাম। কিন্তু আমি লিখিত জবাব দিব না। এমন কোনো বড় অন্যায় করিনি যে, আমাকে পার্সোনালি পাঠানো যাবে না, ডিরেক্ট ফেসবুকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ধরনের একটি শোকজ পত্র দিয়ে…সারা বাংলাদেশের মানুষ এখন আমাকে ফোন করছে। সারা বাংলাদেশের মানুষ এখন জানতে চাচ্ছে কি এমন অন্যায় করেছি।’

তিনি ভিডিওতে বলেন, ‘যদিও আমি এখন পর্যন্ত জানি না কেন শোকজ করা হয়েছে এবং আমি কিন্তু তখনই তাৎক্ষণিক এটি যখন পেলাম, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম ভাইকে আমি ফোন করে জিজ্ঞেস করলাম- ‘ভাই কি কারণে আমাকে শোকজ করা হয়েছে? সেটাই তো জানি না, উত্তরটা দিব কি?’ উনি আমাকে বললেন উনিও জানেন না, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সেক্রেটারি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট বলেছেন, এজন্যই উনি করেছেন।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘পরবর্তীতে আমি জানতে পারলাম যে, গতকালকে ২৬শে ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমি একটি ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছিলাম। কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ছিল, তার পরবর্তীতে আমি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একটি ইফতার মাহফিল করেছি। সেই ইফতার মাহফিল কেন করলাম সে কারণেই নাকি আমাকে শোকজ করা হয়েছে। এই কাজের কারণে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, ছাত্রদলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মী যদি মনে করেন আমি অন্যায় করেছি, তাহলে এই অন্যায় মাথা পেতে নিচ্ছি।’

এমনকি এই অন্যায়ের জন্য আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি বলেও তিনি ভিডিওতে উল্লেখ করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ঢাবি ছাত্রদল নেতা হামিমকে শোকজ, ভিডিও বার্তায় জবাব

প্রকাশিত সময় : ১১:৩০:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কবি জসীম উদ্দীন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও ডকসুর জিএস প্রার্থী শেখ তানভীর বারী হামিমকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।

গতকাল শুক্রবার সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম এই নোটিশ পাঠান। পরে রাত ১টার দিকে এক ভিডিও বার্তায় শোকজের জবাব দেন হামিম ।

তবে কি কারণে ছাত্রদল নেতা হামিম কি ধরণের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন তা নোটিশে উল্লেখ করা হয়নি।

শোকজ নোটিশে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার অধীনস্থ কবি জসীম উদ্দীন হল ছাত্রদলের দায়িত্বশীল পদে আসীন থেকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে আপনার বিরুদ্ধে কেন স্থায়ী সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, এই মর্মে আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হলো।

কবি জসীম উদ্দীন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক শেখ তানভীর বারী হামিম নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক একাউন্ট থেকে এক ভিডিও বার্তায় শোকজের জবাব দেন।

ভিডিওতে হামিম বলেন, ‘তারা বলেছে লিখিত জবাব দিতে। আমি লিখিত জবাব চাইলেই দিতে পারতাম। কিন্তু আমি লিখিত জবাব দিব না। এমন কোনো বড় অন্যায় করিনি যে, আমাকে পার্সোনালি পাঠানো যাবে না, ডিরেক্ট ফেসবুকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ধরনের একটি শোকজ পত্র দিয়ে…সারা বাংলাদেশের মানুষ এখন আমাকে ফোন করছে। সারা বাংলাদেশের মানুষ এখন জানতে চাচ্ছে কি এমন অন্যায় করেছি।’

তিনি ভিডিওতে বলেন, ‘যদিও আমি এখন পর্যন্ত জানি না কেন শোকজ করা হয়েছে এবং আমি কিন্তু তখনই তাৎক্ষণিক এটি যখন পেলাম, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম ভাইকে আমি ফোন করে জিজ্ঞেস করলাম- ‘ভাই কি কারণে আমাকে শোকজ করা হয়েছে? সেটাই তো জানি না, উত্তরটা দিব কি?’ উনি আমাকে বললেন উনিও জানেন না, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সেক্রেটারি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট বলেছেন, এজন্যই উনি করেছেন।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘পরবর্তীতে আমি জানতে পারলাম যে, গতকালকে ২৬শে ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমি একটি ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছিলাম। কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ছিল, তার পরবর্তীতে আমি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একটি ইফতার মাহফিল করেছি। সেই ইফতার মাহফিল কেন করলাম সে কারণেই নাকি আমাকে শোকজ করা হয়েছে। এই কাজের কারণে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, ছাত্রদলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মী যদি মনে করেন আমি অন্যায় করেছি, তাহলে এই অন্যায় মাথা পেতে নিচ্ছি।’

এমনকি এই অন্যায়ের জন্য আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি বলেও তিনি ভিডিওতে উল্লেখ করেন।