রোজা আধ্যাত্মিক অনুশীলনের পাশাপাশি শরীরের বিপাকপ্রক্রিয়াতেও পরিবর্তন আনে। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা ও খাবারের সময়সূচির পরিবর্তনের কারণে শরীরের ওপর এর প্রভাব পড়ে। তবে ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য রোজা উপকারী নাকি ঝুঁকিপূর্ণ—এ প্রশ্নের একক কোনো উত্তর নেই। রোগের অবস্থা ও ব্যক্তির শারীরিক সক্ষমতার ওপরই বিষয়টি নির্ভর করে।
ফ্যাটি লিভার এমন একটি অবস্থা, যেখানে লিভারের কোষে অতিরিক্ত চর্বি জমে যায়। অতিরিক্ত ওজন, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে চর্বির মাত্রা বৃদ্ধি এবং অনিয়মিত জীবনযাপন এর প্রধান কারণ। শুরুতে তেমন উপসর্গ না থাকলেও অবহেলা করলে লিভারে প্রদাহ, ফাইব্রোসিস বা সিরোসিসের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।
কার জন্য উপকারী হতে পারে
চিকিৎসকদের মতে, যাদের ফ্যাটি লিভার প্রাথমিক পর্যায়ে এবং লিভারের কার্যকারিতা স্বাভাবিক রয়েছে, তাদের জন্য সঠিক খাদ্যাভ্যাস মেনে রোজা রাখা উপকারী হতে পারে। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে শরীর জমে থাকা চর্বি ব্যবহার করতে শুরু করে, যা ওজন কমাতে সহায়তা করে। আর ওজন নিয়ন্ত্রণই ফ্যাটি লিভার ব্যবস্থাপনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
রোজার সময় ভাজাপোড়া, অতিরিক্ত চিনি ও মিষ্টি এড়িয়ে সুষম খাবার গ্রহণ করলে লিভারের ওপর চাপ কমে।
কার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ
সব রোগীর ক্ষেত্রে রোজা নিরাপদ নয়। যাদের লিভারে প্রদাহ রয়েছে, লিভার এনজাইমের মাত্রা বেশি বা সিরোসিসের মতো জটিলতা আছে, তাদের দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা বা পানিশূন্যতা ক্ষতিকর হতে পারে। দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, বমি ভাব বা তীব্র পেটব্যথা থাকলে রোজা রাখা নিরাপদ নাও হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা রোজা শুরুর আগে লিভার রোগীদের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন।
রোজায় খাদ্যাভ্যাসের পরামর্শ
ইফতারে ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার কম খাওয়া
মিষ্টি ও চিনি নিয়ন্ত্রিত রাখা
ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পান করা
শাকসবজি, ফল, পূর্ণ শস্য ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া
কোমল পানীয় ও অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট এড়িয়ে চলা
বিশেষজ্ঞদের মতে, সারাদিন না খেয়ে থাকার পর রাতে অতিরিক্ত খেলে উপকারের বদলে ক্ষতি হতে পারে। অনেকেই মনে করেন রোজা রেখে যেকোনো খাবার বেশি পরিমাণে খাওয়া যায়—এ ধারণা ভুল।
যারা নিয়মিত ওষুধ খান, তাদের ক্ষেত্রে ওষুধের সময় ও মাত্রা পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধের সময় পরিবর্তন বা বন্ধ করা উচিত নয়। রোজা শুরুর আগে লিভার ফাংশন পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া ভালো।
যেসব লক্ষণ দেখা দিলে সতর্ক হবেন
রোজা অবস্থায় তীব্র দুর্বলতা, জন্ডিস (চোখ বা ত্বক হলুদ হওয়া), তীব্র পেটব্যথা, বমি বা বমিতে রক্ত, অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব বা বিভ্রান্তি দেখা দিলে তা জটিলতার লক্ষণ হতে পারে। এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ফ্যাটি লিভার রোগীদের জন্য রোজা অনেক ক্ষেত্রে ওজন নিয়ন্ত্রণ ও বিপাক স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক হতে পারে, আবার জটিল অবস্থায় ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। তাই ব্যক্তিভেদে চিকিৎসকের পরামর্শই হওয়া উচিত প্রধান নির্দেশনা।
চিকিৎসকদের ভাষায়, রোজা নিজে ক্ষতিকর নয়—অসচেতন খাদ্যাভ্যাস ও অনিয়ন্ত্রিত রোগই মূল সমস্যা। সচেতন থাকলে অনেক ক্ষেত্রেই নিরাপদে রোজা রাখা সম্ভব।

ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম ডেস্ক 























