বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে বিস্ফোরণে একই পরিবারের ছয়জনের মৃত্যু, কারণ খুঁজছে তদন্তদল

চট্টগ্রামের হালিশহরে একটি ফ্ল্যাটে বিস্ফোরণে একই পরিবারের ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনায় দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি। বুধবার (৩ মার্চ) সকালে হালিশহর এলাকার এইচ ব্লকে ছয়তলাবিশিষ্ট ‘হালিমা মঞ্জিল’ ভবনের তৃতীয় তলার ক্ষতিগ্রস্ত ফ্ল্যাটটি সরেজমিন পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা।

প্রথম দিনের তদন্ত শেষে তদন্ত দলের প্রধান, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স চট্টগ্রাম বিভাগের উপপরিচালক মো. জসীম উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা পুরো ভবনটি রেকি করেছি এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তৃতীয় তলার যে ফ্ল্যাটটিতে আগুন ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, সেটি আমরা ঘুরে দেখেছি।

প্রতিটি কক্ষ তল্লাশি করা হয়েছে। কেন ঘটনাটি ঘটেছে, তা উদ্ঘাটনে আমরা কাজ করছি। এখানে এসে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য পেয়েছি। কেউ বলছেন লিফটের কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে, কেউ বলছেন এসি বা আইপিএস থেকে, আবার কেউ বলছেন কেমিক্যাল থেকে বিস্ফোরণ ঘটেছে।

কেউ কেউ নাশকতার অভিযোগও করেছেন—বাইরে থেকে বিস্ফোরক নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন। আবার কেউ বলছেন, গ্যাস লিকেজ থেকে ঘটনা ঘটেছে। আমরা পর্যালোচনা করে দেখেছি, রান্নাঘরে ঘটনাটি ঘটেছে এবং সেখানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। লাইনের গ্যাস পরীক্ষা করা হয়েছে।

কোনো বদ্ধ ঘরে গ্যাস জমে থাকলে এবং সেখানে স্পার্ক বা আগুনের সঞ্চার হলে এ ধরনের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। আমরা পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে কী কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদন দেব।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা ভবনের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলব। তবে মালিকপক্ষকে উপস্থিত থাকতে বলেছিলাম, তিনি থাকেননি। মালিকপক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আমাদের অফিসে যেতে বলা হয়েছে।

আমরা খতিয়ে দেখব কেন এই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।’
ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তদন্ত শেষে দুর্ঘটনার কারণ উল্লেখ করা হবে। এখানে বিস্ফোরণ ঘটেছে, এটি নিশ্চিত। কী কারণে এবং কেন ঘটেছে, তা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ও আলামত সংগ্রহের মাধ্যমে বিস্তারিত প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে। তদন্ত শেষ হলে বলা যাবে, কার দায় রয়েছে এবং কিভাবে ঘটনাটি ঘটেছে।’

এর আগে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ভোরে ওই আবাসিক ভবনের একটি ফ্ল্যাটে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে একই পরিবারের মোট নয়জন দগ্ধ হন। তাদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছয়জন মারা গেছেন। বাকি তিনজন এখনো আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

চট্টগ্রামে বিস্ফোরণে একই পরিবারের ছয়জনের মৃত্যু, কারণ খুঁজছে তদন্তদল

প্রকাশিত সময় : ১১:০৪:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

চট্টগ্রামের হালিশহরে একটি ফ্ল্যাটে বিস্ফোরণে একই পরিবারের ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনায় দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি। বুধবার (৩ মার্চ) সকালে হালিশহর এলাকার এইচ ব্লকে ছয়তলাবিশিষ্ট ‘হালিমা মঞ্জিল’ ভবনের তৃতীয় তলার ক্ষতিগ্রস্ত ফ্ল্যাটটি সরেজমিন পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা।

প্রথম দিনের তদন্ত শেষে তদন্ত দলের প্রধান, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স চট্টগ্রাম বিভাগের উপপরিচালক মো. জসীম উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা পুরো ভবনটি রেকি করেছি এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তৃতীয় তলার যে ফ্ল্যাটটিতে আগুন ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, সেটি আমরা ঘুরে দেখেছি।

প্রতিটি কক্ষ তল্লাশি করা হয়েছে। কেন ঘটনাটি ঘটেছে, তা উদ্ঘাটনে আমরা কাজ করছি। এখানে এসে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য পেয়েছি। কেউ বলছেন লিফটের কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে, কেউ বলছেন এসি বা আইপিএস থেকে, আবার কেউ বলছেন কেমিক্যাল থেকে বিস্ফোরণ ঘটেছে।

কেউ কেউ নাশকতার অভিযোগও করেছেন—বাইরে থেকে বিস্ফোরক নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন। আবার কেউ বলছেন, গ্যাস লিকেজ থেকে ঘটনা ঘটেছে। আমরা পর্যালোচনা করে দেখেছি, রান্নাঘরে ঘটনাটি ঘটেছে এবং সেখানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। লাইনের গ্যাস পরীক্ষা করা হয়েছে।

কোনো বদ্ধ ঘরে গ্যাস জমে থাকলে এবং সেখানে স্পার্ক বা আগুনের সঞ্চার হলে এ ধরনের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। আমরা পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে কী কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদন দেব।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা ভবনের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলব। তবে মালিকপক্ষকে উপস্থিত থাকতে বলেছিলাম, তিনি থাকেননি। মালিকপক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আমাদের অফিসে যেতে বলা হয়েছে।

আমরা খতিয়ে দেখব কেন এই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।’
ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তদন্ত শেষে দুর্ঘটনার কারণ উল্লেখ করা হবে। এখানে বিস্ফোরণ ঘটেছে, এটি নিশ্চিত। কী কারণে এবং কেন ঘটেছে, তা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ও আলামত সংগ্রহের মাধ্যমে বিস্তারিত প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে। তদন্ত শেষ হলে বলা যাবে, কার দায় রয়েছে এবং কিভাবে ঘটনাটি ঘটেছে।’

এর আগে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ভোরে ওই আবাসিক ভবনের একটি ফ্ল্যাটে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে একই পরিবারের মোট নয়জন দগ্ধ হন। তাদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছয়জন মারা গেছেন। বাকি তিনজন এখনো আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।