বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফের বাড়ছে ডলারের দাম

বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের দাম ফের বাড়তে শুরু করেছে। গত শনিবার ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে আক্রমন চালানোর পর থেকে ডলারের দাম আরও বাড়ছে।

মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের নীতি সুদের হার না কমানোর কারণেও ডলারের দাম বাড়ছে।

এছাড়া যুদ্ধের কারণে ডলারের দাম আগামীতে আরও বাড়তে পারে এমন আশঙ্কায় অনেক বিনিয়োগকারী ডলার কিনছেন। ফলে বাংলাদেশি টাকাসহ ইউরো, পাউন্ড, জাপানী ইয়েনের বিপরীতে ডলারেরর দাম বেড়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, বুধবার (৪ মার্চ) বাংলাদেশের আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে প্রতি ডলার সর্বোচ্চ বিক্রি হয়েছে ১২২ টাকা ৩৫ পয়সা দরে। এর আগে প্রায় এক সপ্তাহ ডলারের সর্বোচ্চ দর ১২২ টাকা ৩০ পয়সার মধ্যে সীমিত ছিল। এদিন ডলারের সর্বনিম্ম দাম ছিল ১২২ টাকা ৩২ পয়সা। ফলে গড় দাম ছিল ১২২ টাকা ৩৩ পয়সা।

এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রণীত ডলারের রেফারেন্স রেটও বেড়েছে। বুধবার এই রেট ছিল ১২২ টাকা ৩৩ পয়সা। এর আগে গত ১৫ ফের্রুয়ারি রেফারেন্স রেট ১২২ টাকা ৩৭ পয়সায় ওঠেছিল। ওই সময়ের পর থেকে রেফারেন্স রেট বুধবারেই সবচেয়ে বেশি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, বাজারে ডলারের প্রবাহ বেশি আছে। দৈনন্দিন চাহিদা ও সরবরাহের সমন্বয়জনিত কারণে এক দিনের ডলারের দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে বাংলাদেশে এর দাম স্থিতিশীল থাকবে বলে আশাবাদী কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এদিকে গত শনিবার প্রতি ৮৫ ইউরো দিয়ে এক ডলার পাওয়া যেত। এখন তা বেড়ে দশমিক ৮৬ ডলার দিয়ে এক ডলার কিনতে হচ্ছে।

একই সময়ের ব্যবধানে পাউন্ডের দামও এক পয়সা বেড়েছে। গত শনিবার দশমিক ৭৪ পাউন্ড দিয়ে এক ডলার পাওয়া যেত। এখন তা বেড়ে দশমিক ৭৫ পাউন্ড হয়েছে।

ডলারের দাম বাড়ার নেপথ্যে দুটি কারণ কাজ করছে বলে মনে করছেন ব্যাংকাররা। মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক বা এফআরবি নতুন করে নীতি সুদের হার কমায়নি। সহসা কমানোর কোন ঘোষণাও দেয়নি। যুদ্ধের কারণে ডলারের চাহিদা বাড়তে পারে। এ কারণে ডলারের দাম বাড়ছে।

এদিকে রপ্তানি আয় কমলেও রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়ছে রেকর্ড পরিমাণে। ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়ে যাচ্ছে। গ্রস রিজার্ভ বেড়ে এখন ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ফের বাড়ছে ডলারের দাম

প্রকাশিত সময় : ১১:০৬:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের দাম ফের বাড়তে শুরু করেছে। গত শনিবার ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে আক্রমন চালানোর পর থেকে ডলারের দাম আরও বাড়ছে।

মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের নীতি সুদের হার না কমানোর কারণেও ডলারের দাম বাড়ছে।

এছাড়া যুদ্ধের কারণে ডলারের দাম আগামীতে আরও বাড়তে পারে এমন আশঙ্কায় অনেক বিনিয়োগকারী ডলার কিনছেন। ফলে বাংলাদেশি টাকাসহ ইউরো, পাউন্ড, জাপানী ইয়েনের বিপরীতে ডলারেরর দাম বেড়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, বুধবার (৪ মার্চ) বাংলাদেশের আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে প্রতি ডলার সর্বোচ্চ বিক্রি হয়েছে ১২২ টাকা ৩৫ পয়সা দরে। এর আগে প্রায় এক সপ্তাহ ডলারের সর্বোচ্চ দর ১২২ টাকা ৩০ পয়সার মধ্যে সীমিত ছিল। এদিন ডলারের সর্বনিম্ম দাম ছিল ১২২ টাকা ৩২ পয়সা। ফলে গড় দাম ছিল ১২২ টাকা ৩৩ পয়সা।

এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রণীত ডলারের রেফারেন্স রেটও বেড়েছে। বুধবার এই রেট ছিল ১২২ টাকা ৩৩ পয়সা। এর আগে গত ১৫ ফের্রুয়ারি রেফারেন্স রেট ১২২ টাকা ৩৭ পয়সায় ওঠেছিল। ওই সময়ের পর থেকে রেফারেন্স রেট বুধবারেই সবচেয়ে বেশি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, বাজারে ডলারের প্রবাহ বেশি আছে। দৈনন্দিন চাহিদা ও সরবরাহের সমন্বয়জনিত কারণে এক দিনের ডলারের দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে বাংলাদেশে এর দাম স্থিতিশীল থাকবে বলে আশাবাদী কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এদিকে গত শনিবার প্রতি ৮৫ ইউরো দিয়ে এক ডলার পাওয়া যেত। এখন তা বেড়ে দশমিক ৮৬ ডলার দিয়ে এক ডলার কিনতে হচ্ছে।

একই সময়ের ব্যবধানে পাউন্ডের দামও এক পয়সা বেড়েছে। গত শনিবার দশমিক ৭৪ পাউন্ড দিয়ে এক ডলার পাওয়া যেত। এখন তা বেড়ে দশমিক ৭৫ পাউন্ড হয়েছে।

ডলারের দাম বাড়ার নেপথ্যে দুটি কারণ কাজ করছে বলে মনে করছেন ব্যাংকাররা। মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক বা এফআরবি নতুন করে নীতি সুদের হার কমায়নি। সহসা কমানোর কোন ঘোষণাও দেয়নি। যুদ্ধের কারণে ডলারের চাহিদা বাড়তে পারে। এ কারণে ডলারের দাম বাড়ছে।

এদিকে রপ্তানি আয় কমলেও রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়ছে রেকর্ড পরিমাণে। ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়ে যাচ্ছে। গ্রস রিজার্ভ বেড়ে এখন ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।