বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নারীদের যেসব রোগের ঝুঁকি বেশি

নারীর সুস্বাস্থ্যের ওপর নির্ভর করে পরিবারের অন্য সদস্যদের সামগ্রিক স্বাস্থ্য। কিন্তু নারীদের স্বাস্থ্যসমস্যা অনেক সময় পুরুষদের তুলনায় আলাদা প্রকৃতির হয়। আবার কিছু রোগ পুরুষ ও নারী উভয়ের হলেও নারীদের ক্ষেত্রে এর লক্ষণ ও চিকিৎসা ভিন্ন হতে পারে।

আমাদের দেশে অনেক নারী ক্যালসিয়ামের ঘাটতি, স্তন ক্যানসার, জরায়ুর ক্যানসার, প্রজননসংক্রান্ত রোগ, ঋতুস্রাবের জটিলতা, বিষণ্নতা ও হরমোনজনিত সমস্যায় ভোগেন। কিন্তু সামাজিক সংকোচ বা সচেতনতার অভাবে অনেকেই এসব সমস্যা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করতে পারেন না। ফলে ছোট সমস্যা ধীরে ধীরে জটিল আকার ধারণ করে।

নারীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ  কিছু রোগ

১. হৃদ্‌রোগ
গবেষণায় দেখা গেছে, হৃদ্‌রোগের কারণে নারীদের মধ্যে প্রতি চারজনের একজনের মৃত্যু ঘটে। অনেকেই মনে করেন হৃদ্‌রোগ পুরুষদের রোগ, কিন্তু বাস্তবে এটি নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই সমান ঝুঁকিপূর্ণ। উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল ও ডায়াবেটিস হৃদ্‌রোগের প্রধান কারণ। নারীদের ক্ষেত্রে কখনো কখনো উপসর্গ ভিন্ন হতে পারে। বিশেষ করে মেনোপজের পর হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।রাইজিংবিডি.কম

২. স্তন ক্যানসার
বিশ্বব্যাপী নারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় স্তন ক্যানসার। প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে স্তনে পিণ্ড বা অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। স্তনের কোনো অস্বাভাবিকতা অনুভব করলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি নারীদের নিয়মিত নিজের স্তন নিজে পরীক্ষা করার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।

৩. ডিম্বাশয় ও জরায়ুমুখের ক্যানসার
জরায়ুমুখের ক্যানসার জরায়ুর নিচের অংশে এবং ডিম্বাশয়ের ক্যানসার ডিম্বাশয় বা ফ্যালোপিয়ান টিউবে শুরু হতে পারে। এর লক্ষণ হিসেবে তলপেটে ব্যথা, সহবাসের সময় ব্যথা, অস্বাভাবিক স্রাব বা রক্তক্ষরণ দেখা দিতে পারে। এসব উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

৪. স্ত্রীরোগসংক্রান্ত স্বাস্থ্যসমস্যা
মাসিকের সময় কিছু রক্তপাত ও স্রাব স্বাভাবিক। তবে অতিরিক্ত রক্তপাত, তলপেটে তীব্র ব্যথা, অনিয়মিত মাসিক বা ঘন ঘন প্রস্রাবের মতো সমস্যা দেখা দিলে তা অবহেলা করা উচিত নয়। এ ছাড়া যৌন সংক্রামিত রোগ (এসটিডি) সময়মতো চিকিৎসা না করলে বন্ধ্যাত্ব বা একটোপিক প্রেগনেন্সির মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।

৫. গর্ভাবস্থাজনিত সমস্যা
গর্ভাবস্থায় রক্তস্বল্পতা, হাঁপানি, ডায়াবেটিস এবং বিষণ্নতা মা ও শিশুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই গর্ভাবস্থায় নিয়মিত অ্যান্টিনাটাল চেকআপ জরুরি। এ সময় রক্তের শর্করা, হিমোগ্লোবিন, থাইরয়েডসহ বিভিন্ন পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।

৬. অটোইমিউন রোগ
অটোইমিউন রোগে শরীরের প্রতিরোধব্যবস্থা ভুল করে নিজের সুস্থ কোষকেই আক্রমণ করে। বিভিন্ন অটোইমিউন রোগের মধ্যে বাতজনিত রোগগুলো নারীদের মধ্যে তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।

নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় করণীয়
১. প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট শরীরচর্চা করলে শরীরের মেটাবলিজম ঠিক থাকে এবং শক্তি বাড়ে। ব্যায়াম মানেই জিমে যাওয়া—এমন ধারণা সঠিক নয়। সকালে বা বিকেলে বাইরে গিয়ে হাঁটা, ঘরে বসে হালকা স্ট্রেচিং বা যোগব্যায়াম করলেও শরীর সুস্থ রাখা সম্ভব।

২. বাদাম প্রোটিনসমৃদ্ধ একটি পুষ্টিকর খাবার, যা শরীরে শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে এবং পেশীর রক্ষণাবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় বাদাম রাখলে এসব সমস্যা প্রতিরোধে সাহায্য পাওয়া যায় এবং শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায়।

৩. প্রতিদিন ফলমূল ও শাকসবজি খেতে হবে। যাতে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হয়।

সূত্র: ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস অবলম্বনে

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

নারীদের যেসব রোগের ঝুঁকি বেশি

প্রকাশিত সময় : ০৭:৫২:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

নারীর সুস্বাস্থ্যের ওপর নির্ভর করে পরিবারের অন্য সদস্যদের সামগ্রিক স্বাস্থ্য। কিন্তু নারীদের স্বাস্থ্যসমস্যা অনেক সময় পুরুষদের তুলনায় আলাদা প্রকৃতির হয়। আবার কিছু রোগ পুরুষ ও নারী উভয়ের হলেও নারীদের ক্ষেত্রে এর লক্ষণ ও চিকিৎসা ভিন্ন হতে পারে।

আমাদের দেশে অনেক নারী ক্যালসিয়ামের ঘাটতি, স্তন ক্যানসার, জরায়ুর ক্যানসার, প্রজননসংক্রান্ত রোগ, ঋতুস্রাবের জটিলতা, বিষণ্নতা ও হরমোনজনিত সমস্যায় ভোগেন। কিন্তু সামাজিক সংকোচ বা সচেতনতার অভাবে অনেকেই এসব সমস্যা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করতে পারেন না। ফলে ছোট সমস্যা ধীরে ধীরে জটিল আকার ধারণ করে।

নারীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ  কিছু রোগ

১. হৃদ্‌রোগ
গবেষণায় দেখা গেছে, হৃদ্‌রোগের কারণে নারীদের মধ্যে প্রতি চারজনের একজনের মৃত্যু ঘটে। অনেকেই মনে করেন হৃদ্‌রোগ পুরুষদের রোগ, কিন্তু বাস্তবে এটি নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই সমান ঝুঁকিপূর্ণ। উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল ও ডায়াবেটিস হৃদ্‌রোগের প্রধান কারণ। নারীদের ক্ষেত্রে কখনো কখনো উপসর্গ ভিন্ন হতে পারে। বিশেষ করে মেনোপজের পর হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।রাইজিংবিডি.কম

২. স্তন ক্যানসার
বিশ্বব্যাপী নারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় স্তন ক্যানসার। প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে স্তনে পিণ্ড বা অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। স্তনের কোনো অস্বাভাবিকতা অনুভব করলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি নারীদের নিয়মিত নিজের স্তন নিজে পরীক্ষা করার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।

৩. ডিম্বাশয় ও জরায়ুমুখের ক্যানসার
জরায়ুমুখের ক্যানসার জরায়ুর নিচের অংশে এবং ডিম্বাশয়ের ক্যানসার ডিম্বাশয় বা ফ্যালোপিয়ান টিউবে শুরু হতে পারে। এর লক্ষণ হিসেবে তলপেটে ব্যথা, সহবাসের সময় ব্যথা, অস্বাভাবিক স্রাব বা রক্তক্ষরণ দেখা দিতে পারে। এসব উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

৪. স্ত্রীরোগসংক্রান্ত স্বাস্থ্যসমস্যা
মাসিকের সময় কিছু রক্তপাত ও স্রাব স্বাভাবিক। তবে অতিরিক্ত রক্তপাত, তলপেটে তীব্র ব্যথা, অনিয়মিত মাসিক বা ঘন ঘন প্রস্রাবের মতো সমস্যা দেখা দিলে তা অবহেলা করা উচিত নয়। এ ছাড়া যৌন সংক্রামিত রোগ (এসটিডি) সময়মতো চিকিৎসা না করলে বন্ধ্যাত্ব বা একটোপিক প্রেগনেন্সির মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।

৫. গর্ভাবস্থাজনিত সমস্যা
গর্ভাবস্থায় রক্তস্বল্পতা, হাঁপানি, ডায়াবেটিস এবং বিষণ্নতা মা ও শিশুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই গর্ভাবস্থায় নিয়মিত অ্যান্টিনাটাল চেকআপ জরুরি। এ সময় রক্তের শর্করা, হিমোগ্লোবিন, থাইরয়েডসহ বিভিন্ন পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।

৬. অটোইমিউন রোগ
অটোইমিউন রোগে শরীরের প্রতিরোধব্যবস্থা ভুল করে নিজের সুস্থ কোষকেই আক্রমণ করে। বিভিন্ন অটোইমিউন রোগের মধ্যে বাতজনিত রোগগুলো নারীদের মধ্যে তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।

নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় করণীয়
১. প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট শরীরচর্চা করলে শরীরের মেটাবলিজম ঠিক থাকে এবং শক্তি বাড়ে। ব্যায়াম মানেই জিমে যাওয়া—এমন ধারণা সঠিক নয়। সকালে বা বিকেলে বাইরে গিয়ে হাঁটা, ঘরে বসে হালকা স্ট্রেচিং বা যোগব্যায়াম করলেও শরীর সুস্থ রাখা সম্ভব।

২. বাদাম প্রোটিনসমৃদ্ধ একটি পুষ্টিকর খাবার, যা শরীরে শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে এবং পেশীর রক্ষণাবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় বাদাম রাখলে এসব সমস্যা প্রতিরোধে সাহায্য পাওয়া যায় এবং শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায়।

৩. প্রতিদিন ফলমূল ও শাকসবজি খেতে হবে। যাতে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হয়।

সূত্র: ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস অবলম্বনে