বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইফতারের পর মাথাব্যথা? এড়াবেন যেভাবে

পবিত্র রমজান মাসে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর ইফতারের পরপরই অনেকেরই মাথাব্যথা বা মাথা ধরার সমস্যা দেখা দেয়। চিকিৎসকদের মতে, এই ব্যথা সাধারণত মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের হলেও অনেক সময় তা তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।

একটি গবেষণা বলছে, রমজান মাসে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি মাইগ্রেনের রোগীদের সমস্যার প্রকোপ অনেকটাই বেড়ে যায়। মূলত জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং খাদ্যাভ্যাসই এর নেপথ্য কারণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য কারণ রয়েছে:

• পানিশূন্যতা: সারাদিন পানি পান না করায় শরীরের জলীয় অংশ কমে যায়, যা মাথাব্যথার প্রধান কারণ।

• ক্যাফেইন উইথড্রয়াল: যারা দিনে বারবার চা বা কফি পানে অভ্যস্ত, রোজায় হঠাৎ তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালনের পরিবর্তনে ব্যথা হতে পারে।

• রক্তে শর্করার হ্রাস: দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকায় রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে যায়, ফলে ক্লান্তি ও মাথা ঘোরা অনুভূত হয়।

ইফতারের পর মাথাব্যথা এড়ানোর ৫টি মহৌষধ:

১. পানির ঘাটতি পূরণ করুন- মাথাব্যথা থেকে বাঁচতে ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত সময়টুকুকে কাজে লাগান। পর্যাপ্ত সাধারণ পানি পানের পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় শসা, তরমুজ ও ফলের রসের মতো হাইড্রেটিং খাবার রাখুন। শরীর আর্দ্র থাকলে ব্যথার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।

২. ক্যাফেইন ও মিষ্টিতে লাগাম- ইফতারের পর অনেকেরই প্রথম পছন্দ থাকে কড়া চা বা কফি। কিন্তু অতিরিক্ত ক্যাফেইন শরীরকে পানিশূন্য করে ফেলে। একইভাবে অতিরিক্ত মিষ্টি জাতীয় খাবার হুট করে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা পরবর্তীতে ক্লান্তিবোধ ও মাথাব্যথার সৃষ্টি করে। তাই এগুলো এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।

৩. সুষম সেহরি ও ইফতার- খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিন নিশ্চিত করুন। চিনিযুক্ত পানীয় বা প্রক্রিয়াজাত খাবারের বদলে প্রাকৃতিক শর্করা গ্রহণ করুন। এটি দীর্ঘ সময় শরীরে শক্তির জোগান দেবে।

৪. পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ‘পাওয়ার ন্যাপ’- রোজায় ঘুমের রুটিন বদলে যায়। সেহরির পর সকালে কিছুটা সময় বাড়তি ঘুমিয়ে নিন। এছাড়া দুপুরে ২০ থেকে ৩০ মিনিটের একটি ছোট ঘুম বা ‘পাওয়ার ন্যাপ’ আপনার স্নায়ুকে শান্ত রাখবে এবং ক্লান্তি দূর করবে।

৫. মানসিক প্রশান্তি- অহেতুক দুশ্চিন্তা বা টেনশন মাথাব্যথা বাড়িয়ে দেয়। রোজার পবিত্রতা বজায় রেখে নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করুন।

সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করলে এই রমজানে মাথাব্যথা ছাড়াই ইবাদত করা সম্ভব। এরপরও যদি ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ইফতারের পর মাথাব্যথা? এড়াবেন যেভাবে

প্রকাশিত সময় : ১০:৫৪:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

পবিত্র রমজান মাসে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর ইফতারের পরপরই অনেকেরই মাথাব্যথা বা মাথা ধরার সমস্যা দেখা দেয়। চিকিৎসকদের মতে, এই ব্যথা সাধারণত মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের হলেও অনেক সময় তা তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।

একটি গবেষণা বলছে, রমজান মাসে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি মাইগ্রেনের রোগীদের সমস্যার প্রকোপ অনেকটাই বেড়ে যায়। মূলত জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং খাদ্যাভ্যাসই এর নেপথ্য কারণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য কারণ রয়েছে:

• পানিশূন্যতা: সারাদিন পানি পান না করায় শরীরের জলীয় অংশ কমে যায়, যা মাথাব্যথার প্রধান কারণ।

• ক্যাফেইন উইথড্রয়াল: যারা দিনে বারবার চা বা কফি পানে অভ্যস্ত, রোজায় হঠাৎ তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালনের পরিবর্তনে ব্যথা হতে পারে।

• রক্তে শর্করার হ্রাস: দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকায় রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে যায়, ফলে ক্লান্তি ও মাথা ঘোরা অনুভূত হয়।

ইফতারের পর মাথাব্যথা এড়ানোর ৫টি মহৌষধ:

১. পানির ঘাটতি পূরণ করুন- মাথাব্যথা থেকে বাঁচতে ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত সময়টুকুকে কাজে লাগান। পর্যাপ্ত সাধারণ পানি পানের পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় শসা, তরমুজ ও ফলের রসের মতো হাইড্রেটিং খাবার রাখুন। শরীর আর্দ্র থাকলে ব্যথার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।

২. ক্যাফেইন ও মিষ্টিতে লাগাম- ইফতারের পর অনেকেরই প্রথম পছন্দ থাকে কড়া চা বা কফি। কিন্তু অতিরিক্ত ক্যাফেইন শরীরকে পানিশূন্য করে ফেলে। একইভাবে অতিরিক্ত মিষ্টি জাতীয় খাবার হুট করে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা পরবর্তীতে ক্লান্তিবোধ ও মাথাব্যথার সৃষ্টি করে। তাই এগুলো এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।

৩. সুষম সেহরি ও ইফতার- খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিন নিশ্চিত করুন। চিনিযুক্ত পানীয় বা প্রক্রিয়াজাত খাবারের বদলে প্রাকৃতিক শর্করা গ্রহণ করুন। এটি দীর্ঘ সময় শরীরে শক্তির জোগান দেবে।

৪. পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ‘পাওয়ার ন্যাপ’- রোজায় ঘুমের রুটিন বদলে যায়। সেহরির পর সকালে কিছুটা সময় বাড়তি ঘুমিয়ে নিন। এছাড়া দুপুরে ২০ থেকে ৩০ মিনিটের একটি ছোট ঘুম বা ‘পাওয়ার ন্যাপ’ আপনার স্নায়ুকে শান্ত রাখবে এবং ক্লান্তি দূর করবে।

৫. মানসিক প্রশান্তি- অহেতুক দুশ্চিন্তা বা টেনশন মাথাব্যথা বাড়িয়ে দেয়। রোজার পবিত্রতা বজায় রেখে নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করুন।

সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করলে এই রমজানে মাথাব্যথা ছাড়াই ইবাদত করা সম্ভব। এরপরও যদি ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।