বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আশুলিয়ায় ভাড়া বাসা থেকে জাবি শিক্ষার্থীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার

ঢাকার আশুলিয়ায় ভাড়া বাসা থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক শিক্ষার্থীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

রবিবার বিকেলে আশুলিয়া থানাধীন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকার ওই বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

ওই শিক্ষার্থীর নাম শারমিন জাহান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০২১-২২ (৫১ ব্যাচ) শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মৃত শারমিন জাহানের স্বামী ফাহিম হাসান ওইদিন বিকেল ৩টার দিকে বাইরে থেকে এসে বাসার দরজা বন্ধ দেখতে পেয়ে বাড়িওয়ালাকে জানান। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তারা শারমিনকে মাথায় গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে বিকেল ৪টার দিকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে শারমিনের স্বামী ফাহিম হাসান জানান, সকালে মুঠোফোন কেনার জন্য ঢাকায় যাওয়ার কথা ছিল তাদের। কিন্তু শারমিনের প্রেসার লো থাকায় তিনি একাই ঢাকায় যান। এরপর তিনি ঢাকা থেকে কয়েকবার শারমিনকে মেসেজ দেন, তবে কোনো উত্তর পাননি। ঢাকা থেকে ফিরে দুপুর ২টার দিকে ফাহিম বাসার সামনের দরজা বন্ধ দেখতে পান। কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি বিষয়টি বাড়িওয়ালাকে জানান। পরে দরজা ভেঙে বাসায় ঢুকে শারমিনের রক্তাক্ত লাশ দেখতে পান তারা। শারমিনের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। এতে গুরুতর জখম ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ঘটনা ঘটেছে।

ফাহিম আরও জানান, ঈদে বাসায় যাওয়ার জন্য তারা লাগেজ গুছিয়ে রেখেছিলেন। সেই লাগেজটি এলোমেলো অবস্থায় পাওয়া গেছে। সেই সাথে শারমিনের ব্যবহৃত ফোন ও ল্যাপটপটি পাওয়া যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ওসি রুবেল হাওলাদার বলেন, আমরা ঘটনা জানতে পেরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। তদন্তের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে। এখনই কোনো মন্তব্য করা যাচ্ছে না। তবে প্রাথমিকভাবে বলা যাচ্ছে এটি একটি হত্যাকাণ্ড ছিল। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক একেএম রাশিদুল আলম বলেন, আমরা ঘটনাটি জানার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে যাই। নিহত শিক্ষার্থীর মাথার পেছনে আঘাতের চিহ্ন ছিল। পুলিশকে আমরা সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছি। এর সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানাচ্ছি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আশুলিয়ায় ভাড়া বাসা থেকে জাবি শিক্ষার্থীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশিত সময় : ১০:৫০:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

ঢাকার আশুলিয়ায় ভাড়া বাসা থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক শিক্ষার্থীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

রবিবার বিকেলে আশুলিয়া থানাধীন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকার ওই বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

ওই শিক্ষার্থীর নাম শারমিন জাহান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০২১-২২ (৫১ ব্যাচ) শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মৃত শারমিন জাহানের স্বামী ফাহিম হাসান ওইদিন বিকেল ৩টার দিকে বাইরে থেকে এসে বাসার দরজা বন্ধ দেখতে পেয়ে বাড়িওয়ালাকে জানান। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তারা শারমিনকে মাথায় গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে বিকেল ৪টার দিকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে শারমিনের স্বামী ফাহিম হাসান জানান, সকালে মুঠোফোন কেনার জন্য ঢাকায় যাওয়ার কথা ছিল তাদের। কিন্তু শারমিনের প্রেসার লো থাকায় তিনি একাই ঢাকায় যান। এরপর তিনি ঢাকা থেকে কয়েকবার শারমিনকে মেসেজ দেন, তবে কোনো উত্তর পাননি। ঢাকা থেকে ফিরে দুপুর ২টার দিকে ফাহিম বাসার সামনের দরজা বন্ধ দেখতে পান। কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি বিষয়টি বাড়িওয়ালাকে জানান। পরে দরজা ভেঙে বাসায় ঢুকে শারমিনের রক্তাক্ত লাশ দেখতে পান তারা। শারমিনের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। এতে গুরুতর জখম ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ঘটনা ঘটেছে।

ফাহিম আরও জানান, ঈদে বাসায় যাওয়ার জন্য তারা লাগেজ গুছিয়ে রেখেছিলেন। সেই লাগেজটি এলোমেলো অবস্থায় পাওয়া গেছে। সেই সাথে শারমিনের ব্যবহৃত ফোন ও ল্যাপটপটি পাওয়া যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ওসি রুবেল হাওলাদার বলেন, আমরা ঘটনা জানতে পেরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। তদন্তের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে। এখনই কোনো মন্তব্য করা যাচ্ছে না। তবে প্রাথমিকভাবে বলা যাচ্ছে এটি একটি হত্যাকাণ্ড ছিল। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক একেএম রাশিদুল আলম বলেন, আমরা ঘটনাটি জানার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে যাই। নিহত শিক্ষার্থীর মাথার পেছনে আঘাতের চিহ্ন ছিল। পুলিশকে আমরা সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছি। এর সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানাচ্ছি।