ইরান ও ইসরায়েল-আমেরিকা সংঘাতের প্রভাব শুধু তেলের বাজারেই সীমাবদ্ধ নেই, এবার তা সরাসরি আঘাত হেনেছে ভারতের গর্ভনিরোধক শিল্পে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভারতের কনডম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এক নজিরবিহীন সংকটের মুখে পড়েছে। এইচএলএল লাইফকেয়ার, কিউপিড লিমিটেড এবং ম্যানকাইন্ড ফার্মার মতো শীর্ষস্থানীয় সংস্থাগুলো জানিয়েছে, কাঁচামালের তীব্র সংকটে উৎপাদন খরচ এক ধাক্কায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বেড়ে গেছে।
মূলত কনডম তৈরির অপরিহার্য উপাদান সিলিকন অয়েল এবং ল্যাটেক্স প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যামোনিয়ার সরবরাহ প্রায় বন্ধ। ভারতে ব্যবহৃত অ্যামোনিয়ার ৮৬ শতাংশই আসে সৌদি আরব, কাতার ও ওমান থেকে। কিন্তু যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় এই সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। বাজারে লুব্রিকেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত সিলিকন অয়েলের দাম এখন নাগালের বাইরে।
ভারতের প্রায় ৮ হাজার কোটি রুপির এই বিশাল শিল্প এখন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে। শুধু কাঁচামালই নয়, মোড়কজাত করার জন্য প্রয়োজনীয় অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল ও পিভিসি-র দামও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অ্যামোনিয়া ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের দাম প্রতি কেজিতে প্রায় ২০ টাকা করে বেড়ে যাওয়ায় আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই খুচরা বাজারে কনডমের দাম অনেকটা বেড়ে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতিকে কেবল ব্যবসায়িক ক্ষতি হিসেবে দেখছেন না, বরং এটিকে একটি আসন্ন সামাজিক সংকট হিসেবে দেখছেন। ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (আইএমএ) সাবেক সভাপতি রাজীব জয়দেবন সতর্ক করে বলেছেন, এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ কনডম ব্যবহার কমিয়ে দিতে পারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে জনস্বাস্থ্যের ওপর—বাড়তে পারে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ, মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যুহার এবং যৌনবাহিত রোগের ঝুঁকি। মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্র থেকে হাজার মাইল দূরে ভারতের সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত সুরক্ষাও এখন যুদ্ধের কালো মেঘে ঢাকা। সূত্র- এনডিটিভি

ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম ডেস্ক 





















