বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বৈশাখী সাজে

বছর ঘুরে চলে এলো বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। ঈদের পরপরই বৈশাখ। তাই তো বাঙালির কাছে এ উৎসবের আমেজ দ্বিগুণ হয়ে ধরা দিয়েছে। অনেকে ঈদের পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে কিনেছেন বৈশাখের পোশাকটিও। তাই তো পোশাকের পাশাপাশি গুরুত্ব পাবে বৈশাখের বিশেষ সাজ। এ নিয়ে লিখেছেন নিশাত তানিয়া

পোশাকে বৈশাখী আমেজ

সময়টা এখন বেশ গরমের। তাই তো যে কোনো ফ্যাশন বা স্টাইলিং করার আগে অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে আরামের কথা। সবার পোশাক হিসেবে বেছে নিতে পারেন তাঁত বা সুতির কোনো কাপড়। আমাদের দেশে বৈশাখের পোশাক হিসেবে মেয়েদের শাড়ি আর ছেলেদের পাঞ্জাবি পরার প্রতিই ঝোঁক থাকে বেশি। এই গরমে ভিন্ন পোশাক বেছে নিয়ে খুব একটা ক্ষতি হবে না। লাল-সাদা রঙের ওপর দেশীয় নানারকম মোটিফ বা ট্রেডিশনাল ডিজাইন থাকতে পারে। যেমন ধরুন ঢোল, হাতপাখা, বাঁশি, গ্রামের দৃশ্য বা টেপা পুতুল। রয়েছে এবার উজ্জ্বল রঙের প্রাধান্যও।

এই মোটিফগুলো খুব ভালোভাবে ফুটে উঠবে কুর্তি বা কামিজে। মেয়েদের জন্য গরমে শাড়ি থেকে অনেক ভালো অপশন হতে পারে এই পোশাকটি। পরতে পারেন এক বা দুই রঙা কনট্রাস্ট কালারের জামা। আপনার পোশাকে জমিনে থাকতেই পারে একেবারে সাধারণ ব্লকপ্রিন্টের হালকা ডিজাইন। অথবা ফ্লোরাল প্রিন্ট। বাড়তি পোশাক কেনা না থাকলে, এটাই চালিয়ে দিতে পারেন ট্রেন্ডি হিসেবে। অবশ্য বৈশাখে এবারের পোশাক ট্রেন্ডে রয়েছে কলমকারি, বাগড়ু প্রিন্ট ও ইন্ডিগো। পোশাকের সঙ্গে আনুষঙ্গিক হিসেবে চুলে, হাতে বা গলায় ফুলের কিছু তো একেবারে জুতসই। আর বেশ পরিচিত হলেও ব্লাউজের হাতে-গলায় কুশিকাঁটা অথবা কাপড়ের লেইস সব সময় বৈশাখী আমেজ ধরেই রাখে। এছাড়া একটু ভারী বা এলিগেন্ট গেটআপ আনতে জামদানি বা সিল্ক বেছে নিতে পারেন। এ বছর মেয়েদের পছন্দের তালিকায় আছে গাদোয়াল। এই শাড়িতে সিল্ক ও কটন দুরকমই সুতা মেশানো থাকে। এখন অনেক ধরনের জামদানি মোটিফের কাপড়ের দেখা মেলে শাড়ির দোকানে। যেমন মসলিন জামদানির কথাই যদি বলি। ঢাকাই জামদানির মতো এত দামও নয়, আর এই গরমের মধ্যে পরতে একেবারে আদর্শ। সেখান থেকেও একটা বেছে নিতে পারেন এবারের বৈশাখের জন্য। আর কোলাজের যে কোনো ধরনের পোশাক দেশীয় একটা আমেজ আনতে পারে, সেটা শাড়ি, ব্লাউজ, কুর্তি এমনকি হতে পারে কোটিও।

সাজে রঙিন

বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভের স্বত্বাধিকারী এবং বিউটি এক্সপার্ট শারমিন কচি বলেন, এ সময়টা হালকা মেকআপ করায় ভালো। আর পহেলা বৈশাখ যেহেতু একটা সনাতনী প্রোগ্রাম, তাই সাজেও সেটা থাকতে হবে। দিনের বেলা হলে তো হালকা বেজ, লাইট শ্যাডো এবং আইলাইনার দেওয়া যায়। সঙ্গে টিপ-চুড়ি তো থাকবেই। চুল ছাড়া রাখা যেতে পারে তবে ভিড়ের মধ্যে চুলটা খোঁপা করলে স্বস্তি পাওয়া যাবে। রাতের অনুষ্ঠানে একটু ভারী মেকআপ করা যায়। সে ক্ষেত্রে ডিপ ব্লাশন, হাইলাইটার এবং লাল লিপস্টিক দিয়ে নিজেকে ফুটিয়ে তোলা যায়। আর চোখে কাজল, টিপ সব সময় বাঙালিয়াানার ছোঁয়া আনবেই।

তাই মেকআপের ক্ষেত্রে হালকা মেকআপ বাঞ্ছনীয়। তাহলে আপনাকে দেবে শুভ্র ও কোমল লুক। অবশ্যই গরমের কথা মাথায় রেখে করতে হবে মেকআপ। ঘামে মেকআপ যাতে নষ্ট না হয়ে যায় সে ধরনের প্রডাক্ট ব্যবহার করতে হবে। তীব্র রোদে ত্বকের যাতে ক্ষতি না হয় সেজন্য সানস্ক্রিনের কোনো বিকল্প নেই। মেকআপ ভালো করে সেট হওয়ার জন্য আগে কোল্ড ওয়াটার ট্রিটমেন্ট নিন। আর মেকআপের পর সেটিং স্প্রে কিন্তু বেশ কার্যকরী। যদি কেউ এই গরমে একেবারেই মেকআপ না করতে চান, সেটিও সম্ভব। শুধু কাজল, লিপস্টিক আর কপালে টিপ দিয়েই দারুণভাবে কাটিয়ে দিতে পারবেন বৈশাখের সারাদিন। আর হাতে যদি কাচের রেশমি চুড়ি পরতে পারেন, তবে ব্যাপারটা মন্দ হবে না। সারাদিন নিজেকে রিফ্রেশ রাখতে বডি স্প্রে হিসেবে ফুলের সুঘ্রাণ ভালো লাগবে। তবে অবশ্যই পোশাকের সঙ্গে যেন সাজটা মানানসই হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। যদিও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সাবেকি সাজই বেশি প্রাধান্য পায়। তাই এদিন শাড়ির সঙ্গে মানানসই গহনা বেশ বড় ভূমিকা পালন করে। এক্ষেত্রে আপনি গোল্ডেন স্টেটমেন্ট জুয়েলারি তো পরতেই পারেন। পাশাপাশি কাপড়ের গহনা, কাঠের গহনা কিংবা পোড়া মাটির গহনাতেও সাজতে পারেন। এমনকি সিলভার জুয়েলারি কিংবা অক্সিডাইজড জুয়েলারিও আপনার সাজকে অনন্য মাত্রায় পৌঁছে দেবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

বৈশাখী সাজে

প্রকাশিত সময় : ০৮:১৮:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

বছর ঘুরে চলে এলো বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। ঈদের পরপরই বৈশাখ। তাই তো বাঙালির কাছে এ উৎসবের আমেজ দ্বিগুণ হয়ে ধরা দিয়েছে। অনেকে ঈদের পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে কিনেছেন বৈশাখের পোশাকটিও। তাই তো পোশাকের পাশাপাশি গুরুত্ব পাবে বৈশাখের বিশেষ সাজ। এ নিয়ে লিখেছেন নিশাত তানিয়া

পোশাকে বৈশাখী আমেজ

সময়টা এখন বেশ গরমের। তাই তো যে কোনো ফ্যাশন বা স্টাইলিং করার আগে অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে আরামের কথা। সবার পোশাক হিসেবে বেছে নিতে পারেন তাঁত বা সুতির কোনো কাপড়। আমাদের দেশে বৈশাখের পোশাক হিসেবে মেয়েদের শাড়ি আর ছেলেদের পাঞ্জাবি পরার প্রতিই ঝোঁক থাকে বেশি। এই গরমে ভিন্ন পোশাক বেছে নিয়ে খুব একটা ক্ষতি হবে না। লাল-সাদা রঙের ওপর দেশীয় নানারকম মোটিফ বা ট্রেডিশনাল ডিজাইন থাকতে পারে। যেমন ধরুন ঢোল, হাতপাখা, বাঁশি, গ্রামের দৃশ্য বা টেপা পুতুল। রয়েছে এবার উজ্জ্বল রঙের প্রাধান্যও।

এই মোটিফগুলো খুব ভালোভাবে ফুটে উঠবে কুর্তি বা কামিজে। মেয়েদের জন্য গরমে শাড়ি থেকে অনেক ভালো অপশন হতে পারে এই পোশাকটি। পরতে পারেন এক বা দুই রঙা কনট্রাস্ট কালারের জামা। আপনার পোশাকে জমিনে থাকতেই পারে একেবারে সাধারণ ব্লকপ্রিন্টের হালকা ডিজাইন। অথবা ফ্লোরাল প্রিন্ট। বাড়তি পোশাক কেনা না থাকলে, এটাই চালিয়ে দিতে পারেন ট্রেন্ডি হিসেবে। অবশ্য বৈশাখে এবারের পোশাক ট্রেন্ডে রয়েছে কলমকারি, বাগড়ু প্রিন্ট ও ইন্ডিগো। পোশাকের সঙ্গে আনুষঙ্গিক হিসেবে চুলে, হাতে বা গলায় ফুলের কিছু তো একেবারে জুতসই। আর বেশ পরিচিত হলেও ব্লাউজের হাতে-গলায় কুশিকাঁটা অথবা কাপড়ের লেইস সব সময় বৈশাখী আমেজ ধরেই রাখে। এছাড়া একটু ভারী বা এলিগেন্ট গেটআপ আনতে জামদানি বা সিল্ক বেছে নিতে পারেন। এ বছর মেয়েদের পছন্দের তালিকায় আছে গাদোয়াল। এই শাড়িতে সিল্ক ও কটন দুরকমই সুতা মেশানো থাকে। এখন অনেক ধরনের জামদানি মোটিফের কাপড়ের দেখা মেলে শাড়ির দোকানে। যেমন মসলিন জামদানির কথাই যদি বলি। ঢাকাই জামদানির মতো এত দামও নয়, আর এই গরমের মধ্যে পরতে একেবারে আদর্শ। সেখান থেকেও একটা বেছে নিতে পারেন এবারের বৈশাখের জন্য। আর কোলাজের যে কোনো ধরনের পোশাক দেশীয় একটা আমেজ আনতে পারে, সেটা শাড়ি, ব্লাউজ, কুর্তি এমনকি হতে পারে কোটিও।

সাজে রঙিন

বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভের স্বত্বাধিকারী এবং বিউটি এক্সপার্ট শারমিন কচি বলেন, এ সময়টা হালকা মেকআপ করায় ভালো। আর পহেলা বৈশাখ যেহেতু একটা সনাতনী প্রোগ্রাম, তাই সাজেও সেটা থাকতে হবে। দিনের বেলা হলে তো হালকা বেজ, লাইট শ্যাডো এবং আইলাইনার দেওয়া যায়। সঙ্গে টিপ-চুড়ি তো থাকবেই। চুল ছাড়া রাখা যেতে পারে তবে ভিড়ের মধ্যে চুলটা খোঁপা করলে স্বস্তি পাওয়া যাবে। রাতের অনুষ্ঠানে একটু ভারী মেকআপ করা যায়। সে ক্ষেত্রে ডিপ ব্লাশন, হাইলাইটার এবং লাল লিপস্টিক দিয়ে নিজেকে ফুটিয়ে তোলা যায়। আর চোখে কাজল, টিপ সব সময় বাঙালিয়াানার ছোঁয়া আনবেই।

তাই মেকআপের ক্ষেত্রে হালকা মেকআপ বাঞ্ছনীয়। তাহলে আপনাকে দেবে শুভ্র ও কোমল লুক। অবশ্যই গরমের কথা মাথায় রেখে করতে হবে মেকআপ। ঘামে মেকআপ যাতে নষ্ট না হয়ে যায় সে ধরনের প্রডাক্ট ব্যবহার করতে হবে। তীব্র রোদে ত্বকের যাতে ক্ষতি না হয় সেজন্য সানস্ক্রিনের কোনো বিকল্প নেই। মেকআপ ভালো করে সেট হওয়ার জন্য আগে কোল্ড ওয়াটার ট্রিটমেন্ট নিন। আর মেকআপের পর সেটিং স্প্রে কিন্তু বেশ কার্যকরী। যদি কেউ এই গরমে একেবারেই মেকআপ না করতে চান, সেটিও সম্ভব। শুধু কাজল, লিপস্টিক আর কপালে টিপ দিয়েই দারুণভাবে কাটিয়ে দিতে পারবেন বৈশাখের সারাদিন। আর হাতে যদি কাচের রেশমি চুড়ি পরতে পারেন, তবে ব্যাপারটা মন্দ হবে না। সারাদিন নিজেকে রিফ্রেশ রাখতে বডি স্প্রে হিসেবে ফুলের সুঘ্রাণ ভালো লাগবে। তবে অবশ্যই পোশাকের সঙ্গে যেন সাজটা মানানসই হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। যদিও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সাবেকি সাজই বেশি প্রাধান্য পায়। তাই এদিন শাড়ির সঙ্গে মানানসই গহনা বেশ বড় ভূমিকা পালন করে। এক্ষেত্রে আপনি গোল্ডেন স্টেটমেন্ট জুয়েলারি তো পরতেই পারেন। পাশাপাশি কাপড়ের গহনা, কাঠের গহনা কিংবা পোড়া মাটির গহনাতেও সাজতে পারেন। এমনকি সিলভার জুয়েলারি কিংবা অক্সিডাইজড জুয়েলারিও আপনার সাজকে অনন্য মাত্রায় পৌঁছে দেবে।