রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেসিকে বিদায় জানাতে আর্জেন্টিনার বিশেষ পরিকল্পনা

শেষ বাঁশি বেজে গেছে লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক অধ্যায়ের। কিন্তু আর্জেন্টাইনদের হৃদয় থেকে তাকে বিদায় জানানোর পালা এখনো বাকি। বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচটিই যে জাতীয় দলের হয়ে মেসির শেষ ম্যাচ হয়ে থাকবে, তা হয়তো এত দ্রুত কেউ ভাবেনি। এবার তাই মাঠে আনুষ্ঠানিক বিদায়ের যে পরিকল্পনা ছিল, সেটি নতুন করে সাজাতে হচ্ছে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে (এএফএ)।

২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনে সোমবার (৩১ আগস্ট) জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন মেসি। নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে আবেগঘন বার্তায় তিনি বলেন, ‘ফাইনালে খেলার পর এতগুলো দিন কেটে যাওয়ার পর এবং দীর্ঘ চিন্তাভাবনার পর, আমি সবাইকে জানাতে চাই যে আমি জাতীয় দল থেকে অবসর নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

মেসির এই ঘোষণায় যেমন বিশ্বজুড়ে সমর্থকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বিস্ময়, তেমনি বদলে গেছে এএফএর আগের পরিকল্পনাও। কারণ, আগামী আন্তর্জাতিক বিরতিতে দেশের মাটিতে মেসিকে শেষবারের মতো দর্শকদের সামনে দেখা এবং বিদায়ী সংবর্ধনা দেয়ার ভাবনা ছিল তাদের।

বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে যায় আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচটিই এখন মেসির জাতীয় দলের হয়ে শেষ ম্যাচ হয়ে থাকল। অথচ পরিকল্পনাটা ছিল ঠিকঠাক, দেশের মাটিতে একটি ম্যাচ আয়োজন করে সমর্থকদের সামনে প্রিয় অধিনায়ককে আনুষ্ঠানিক বিদায় জানাবে দেশটি।

আগামী আন্তর্জাতিক উইন্ডো ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত। এই সময়ে আর্জেন্টিনার সামনে চারটি প্রীতি ম্যাচ খেলার সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে চীন সফরের পরিকল্পনাও ছিল তাদের। কিন্তু মেসির অবসরের সিদ্ধান্তের পর সেই পরিকল্পনাও এখন আর আগের মতো নেই।

আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, মেসিকে দেশে এনে সমর্থকদের সামনে বিদায় জানানোর ভাবনা এখনো পুরোপুরি বাতিল হয়নি। তবে এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, মেসি নিজে কী চান।

আর্জেন্টিনার ঘরের মাঠে ম্যাচ আয়োজন নিয়েও রয়েছে জটিলতা। বিশ্বকাপের বিভিন্ন ঘটনার পর ফিফার দেয়া শাস্তির কারণে পরবর্তী দুটি হোম ম্যাচের ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রথম হোম ম্যাচে স্টেডিয়ামের সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতার ৫০ শতাংশ দর্শক উপস্থিত থাকতে পারবেন। দ্বিতীয় ম্যাচের শাস্তি আপাতত স্থগিত রয়েছে। ফলে মেসিকে বিদায় জানাতে আর্জেন্টিনা ঘরের মাঠে ম্যাচ আয়োজন করতে চাইলেও দর্শকসংখ্যার বিষয়টি বড় হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

সব পরিকল্পনার কেন্দ্রে এখন একজনই- লিওনেল মেসি। এএফএ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে আর্জেন্টাইন গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, কিংবদন্তি অধিনায়ককে দেশের সমর্থকদের সামনে বিদায় জানানোর ইচ্ছা রয়েছে তাদের।

শেষ পর্যন্ত মেসি সম্মতি দিলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই হতে পারে সেই আবেগঘন মুহূর্ত। আকাশি-সাদা জার্সিতে ২১ বছরের মহাকাব্যিক পথচলার আনুষ্ঠানিক বিদায়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

‘সৎ সাহস থাকলে আইনের মুখোমুখি হোন’

মেসিকে বিদায় জানাতে আর্জেন্টিনার বিশেষ পরিকল্পনা

প্রকাশিত সময় : ০৫:৩৫:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শেষ বাঁশি বেজে গেছে লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক অধ্যায়ের। কিন্তু আর্জেন্টাইনদের হৃদয় থেকে তাকে বিদায় জানানোর পালা এখনো বাকি। বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচটিই যে জাতীয় দলের হয়ে মেসির শেষ ম্যাচ হয়ে থাকবে, তা হয়তো এত দ্রুত কেউ ভাবেনি। এবার তাই মাঠে আনুষ্ঠানিক বিদায়ের যে পরিকল্পনা ছিল, সেটি নতুন করে সাজাতে হচ্ছে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে (এএফএ)।

২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনে সোমবার (৩১ আগস্ট) জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন মেসি। নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে আবেগঘন বার্তায় তিনি বলেন, ‘ফাইনালে খেলার পর এতগুলো দিন কেটে যাওয়ার পর এবং দীর্ঘ চিন্তাভাবনার পর, আমি সবাইকে জানাতে চাই যে আমি জাতীয় দল থেকে অবসর নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

মেসির এই ঘোষণায় যেমন বিশ্বজুড়ে সমর্থকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বিস্ময়, তেমনি বদলে গেছে এএফএর আগের পরিকল্পনাও। কারণ, আগামী আন্তর্জাতিক বিরতিতে দেশের মাটিতে মেসিকে শেষবারের মতো দর্শকদের সামনে দেখা এবং বিদায়ী সংবর্ধনা দেয়ার ভাবনা ছিল তাদের।

বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে যায় আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচটিই এখন মেসির জাতীয় দলের হয়ে শেষ ম্যাচ হয়ে থাকল। অথচ পরিকল্পনাটা ছিল ঠিকঠাক, দেশের মাটিতে একটি ম্যাচ আয়োজন করে সমর্থকদের সামনে প্রিয় অধিনায়ককে আনুষ্ঠানিক বিদায় জানাবে দেশটি।

আগামী আন্তর্জাতিক উইন্ডো ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত। এই সময়ে আর্জেন্টিনার সামনে চারটি প্রীতি ম্যাচ খেলার সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে চীন সফরের পরিকল্পনাও ছিল তাদের। কিন্তু মেসির অবসরের সিদ্ধান্তের পর সেই পরিকল্পনাও এখন আর আগের মতো নেই।

আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, মেসিকে দেশে এনে সমর্থকদের সামনে বিদায় জানানোর ভাবনা এখনো পুরোপুরি বাতিল হয়নি। তবে এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, মেসি নিজে কী চান।

আর্জেন্টিনার ঘরের মাঠে ম্যাচ আয়োজন নিয়েও রয়েছে জটিলতা। বিশ্বকাপের বিভিন্ন ঘটনার পর ফিফার দেয়া শাস্তির কারণে পরবর্তী দুটি হোম ম্যাচের ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রথম হোম ম্যাচে স্টেডিয়ামের সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতার ৫০ শতাংশ দর্শক উপস্থিত থাকতে পারবেন। দ্বিতীয় ম্যাচের শাস্তি আপাতত স্থগিত রয়েছে। ফলে মেসিকে বিদায় জানাতে আর্জেন্টিনা ঘরের মাঠে ম্যাচ আয়োজন করতে চাইলেও দর্শকসংখ্যার বিষয়টি বড় হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

সব পরিকল্পনার কেন্দ্রে এখন একজনই- লিওনেল মেসি। এএফএ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে আর্জেন্টাইন গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, কিংবদন্তি অধিনায়ককে দেশের সমর্থকদের সামনে বিদায় জানানোর ইচ্ছা রয়েছে তাদের।

শেষ পর্যন্ত মেসি সম্মতি দিলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই হতে পারে সেই আবেগঘন মুহূর্ত। আকাশি-সাদা জার্সিতে ২১ বছরের মহাকাব্যিক পথচলার আনুষ্ঠানিক বিদায়।