রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আসিফ মাহমুদসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুদক

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে উপদেষ্টা থাকাকালে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেনের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সঙ্গে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি ও কেনাকাটায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগও অনুসন্ধান করছে সংস্থাটি।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের মুখপাত্র আকতারুল ইসলাম।

তিনি জানান, যুব উন্নয়নের ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে অর্থ লেনদেনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।

অভিযোগ সংশ্লিষ্ট অন্য তিনজন হলেন—যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জুবায়েদ হোসেন এবং উপসচিব মো. মাসুম আহমেদ।

দুদক সূত্র জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি, পদায়ন ও কেনাকাটাকে কেন্দ্র করে অনিয়ম-দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগ সম্প্রতি সংস্থাটিতে আসে। ওই সময়ে মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

অভিযোগের প্রাথমিক অনুসন্ধানে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে ১৮৮ কর্মকর্তাকে বদলির ঘটনায় আসিফ মাহমুদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে দুদক। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি ও কেনাকাটায় একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অনিয়মের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এসব অভিযোগ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে চার সদস্যের একটি তদন্ত দল গঠন করেছে দুদক। দলের প্রধান করা হয়েছে সংস্থাটির উপপরিচালক জাহিদ কালামকে।

এদিকে, এর আগে আসিফ মাহমুদের সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান করেছিল দুদক। ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তদবির-বাণিজ্য ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে প্রায় ১১ মাস অনুসন্ধানের পর গত ফেব্রুয়ারিতে তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

বর্তমানে আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি ও কেনাকাটাসহ সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলোর বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধান শেষে অভিযোগগুলোর বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দুদক।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

‘সৎ সাহস থাকলে আইনের মুখোমুখি হোন’

আসিফ মাহমুদসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুদক

প্রকাশিত সময় : ০৫:১৮:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে উপদেষ্টা থাকাকালে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেনের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সঙ্গে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি ও কেনাকাটায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগও অনুসন্ধান করছে সংস্থাটি।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের মুখপাত্র আকতারুল ইসলাম।

তিনি জানান, যুব উন্নয়নের ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে অর্থ লেনদেনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।

অভিযোগ সংশ্লিষ্ট অন্য তিনজন হলেন—যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জুবায়েদ হোসেন এবং উপসচিব মো. মাসুম আহমেদ।

দুদক সূত্র জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি, পদায়ন ও কেনাকাটাকে কেন্দ্র করে অনিয়ম-দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগ সম্প্রতি সংস্থাটিতে আসে। ওই সময়ে মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

অভিযোগের প্রাথমিক অনুসন্ধানে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে ১৮৮ কর্মকর্তাকে বদলির ঘটনায় আসিফ মাহমুদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে দুদক। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি ও কেনাকাটায় একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অনিয়মের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এসব অভিযোগ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে চার সদস্যের একটি তদন্ত দল গঠন করেছে দুদক। দলের প্রধান করা হয়েছে সংস্থাটির উপপরিচালক জাহিদ কালামকে।

এদিকে, এর আগে আসিফ মাহমুদের সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান করেছিল দুদক। ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তদবির-বাণিজ্য ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে প্রায় ১১ মাস অনুসন্ধানের পর গত ফেব্রুয়ারিতে তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

বর্তমানে আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি ও কেনাকাটাসহ সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলোর বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধান শেষে অভিযোগগুলোর বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দুদক।