শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আওয়ামীলীগ কোনো রাজনৈতিক দল না, একটা মাফিয়া পার্টি: খুবি শিক্ষক

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও সভ্যতা বিভাগের শিক্ষক মাহমুদ সাকী বলেছেন, ‘আওয়ামীলীগ আদতে কোনো রাজনৈতিক দল না, এটা একটা মাফিয়া পার্টি। যারা মাফিয়াতন্ত্রের মাধ্যমে মানুষকে দমিয়ে রেখেছিল। তারা জেলায় জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় বানিয়ে ছাত্রলীগের দুর্গ গড়ে তুলেছিল। ছাত্রলীগের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের দমিয়ে রেখেছিল। সবাই জানে কিভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে অবৈধ দখল ছিল, প্রত্যেকটা হলে হলে কিভাবে টর্চার সেল গড়ে তুলেছিল। সাউন্ড বক্সে গান বাজিয়ে ছেলেদের নির্যাতন করা হতো।’
বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস কমপ্লেক্সে আয়োজিত ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং ইনসাফের লড়াই’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। আলোচনা সভাটির আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্টুডেন্টস রাইটস এসোসিয়েশন’, ‘পাঠশালা: সেন্টার ফর বাংলাদেশ’ এবং ‘সেভ আওয়ার সোসাইটি’।
মাহমুদ সাকী বলেন, ছাত্রলীগ ‘ট্যাগ’র সংস্কৃতি চালু করেছিল। যে কাউকে ট্যাগের ভয় দিয়ে চাপ সৃষ্টি করতো। সবাই দেখেছে কিভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সনাতন শিক্ষার্থীকে শিবির ট্যাগ দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এখন যেকোনো ধরণের একটি রাজনৈতিক দলের জন্য সুষ্ঠু ধারার রাজনীতি পরিচালনা করার পরিবেশ তারা রাখেনি। তখন রাজনৈতিক দলগুলো গোপনে তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে। এটা নিয়ে আবার বর্তমানে উঠে-পড়ে লাগছে কারা গুপ্ত রাজনীতি করে, কারা প্রকাশ্যে রাজনীতি করে। কিন্তু কেন গুপ্ত আর কেন প্রকাশ্য রাজনীতি তৈরি হলো সেটার কারণ কেউ জানছে না।
খুবির এই শিক্ষক আরও বলেন, সম্প্রতি জাতিসংঘের একটা রিপোর্ট প্রকাশ হয়েছে। যে রিপোর্টে আওয়ামীলীগের সকল অবৈধ কর্মকাণ্ড ফুটে উঠেছে। সেটা নিয়ে আমরা কোনো আলোচনা করছি না, কোনো লেখা লিখছি না। অথচ যেটা নিয়ে আমাদের লেখালেখি করার দরকার ছিল, মানুষের কাছে পৌছে দেওয়ার কথা ছিল। সেটা না করে আমরা নিজেদের মধ্যে বিভেদ করার চেষ্টা করছি। এই জায়গাগুলোতে আমাদের আরও স্পষ্ট হতে হবে যে নতুন বাংলাদেশ কোনদিকে যাবে, আর আমাদের অবস্থান কী হবে।
আলোচনা সভায় রাবি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক মেহেদী সজিব বলেন, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের নামে কার্যত স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠা করেছে, যার সূচনা হয় পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে। ইতিহাসে এমন ঘটনা বিরল। যারা স্বৈরাচারী শাসনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদেরকে ভারতের সহযোগীতায় একে একে নির্মূল করা হয়েছে। এই অঞ্চলে আওয়ামী লীগ কার্যত নাৎসি মতাদর্শের একটি দল গড়ে তুলেছে, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মানবাধিকারের জন্য মারাত্মক হুমকি।
তিনি আরও বলেন, শাপলা চত্বরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালানো হয় অথচ পরবর্তী সময়ে সেটি অস্বীকার করা হয়। আর ২০২৪ সালে সংঘটিত ভয়াবহ দমন-পীড়নে ১৪০০-র বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে, যার মধ্যে ১১-১৩% ছিল শিশু। এছাড়া, এই দমননীতির অংশ হিসেবে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতাও আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে।
এ সময় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আবুল বাশার নাহিদ বলেন, আওয়ামীলীগ এই দেশে মাফিয়াতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক, যা কোনো রাজনৈতিক দলের পরামর্শে তৈরি হয়নি। এটি ভুয়া বা রাজনৈতিক এজেন্ডার অংশ নয় বরং বাস্তব সত্যকে তুলে ধরে।
তিনি আরও বলেন, এই প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ দুটি কারণে। প্রথমত, এটি প্রমাণ করে যে তথ্যগুলো সঠিক এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত নয়। দ্বিতীয়ত, এটি দেখায় কেন রাষ্ট্র ৫৩-৫৪ বছরের মাথায়ও এমন ভয়াবহ সংকটে পড়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে কী করণীয়। দেশে অপরাধের মাত্রা ভয়াবহভাবে বেড়েছে, যা এই প্রতিবেদনের মাত্র ৩টি পৃষ্ঠা পড়লেই স্পষ্ট হয়ে যায়, যেখানে নারী, শিশু ও সামগ্রিক অপরাধের পরিসংখ্যান বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আন্তজার্তিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. সাঈদ হোসেন৷ আলোচনা সভাটি সঞ্চালনা করেন আরবী বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাহায়ের ইসলাম। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আওয়ামীলীগ কোনো রাজনৈতিক দল না, একটা মাফিয়া পার্টি: খুবি শিক্ষক

প্রকাশিত সময় : ১০:৫২:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ মার্চ ২০২৫
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও সভ্যতা বিভাগের শিক্ষক মাহমুদ সাকী বলেছেন, ‘আওয়ামীলীগ আদতে কোনো রাজনৈতিক দল না, এটা একটা মাফিয়া পার্টি। যারা মাফিয়াতন্ত্রের মাধ্যমে মানুষকে দমিয়ে রেখেছিল। তারা জেলায় জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় বানিয়ে ছাত্রলীগের দুর্গ গড়ে তুলেছিল। ছাত্রলীগের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের দমিয়ে রেখেছিল। সবাই জানে কিভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে অবৈধ দখল ছিল, প্রত্যেকটা হলে হলে কিভাবে টর্চার সেল গড়ে তুলেছিল। সাউন্ড বক্সে গান বাজিয়ে ছেলেদের নির্যাতন করা হতো।’
বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস কমপ্লেক্সে আয়োজিত ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং ইনসাফের লড়াই’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। আলোচনা সভাটির আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্টুডেন্টস রাইটস এসোসিয়েশন’, ‘পাঠশালা: সেন্টার ফর বাংলাদেশ’ এবং ‘সেভ আওয়ার সোসাইটি’।
মাহমুদ সাকী বলেন, ছাত্রলীগ ‘ট্যাগ’র সংস্কৃতি চালু করেছিল। যে কাউকে ট্যাগের ভয় দিয়ে চাপ সৃষ্টি করতো। সবাই দেখেছে কিভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সনাতন শিক্ষার্থীকে শিবির ট্যাগ দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এখন যেকোনো ধরণের একটি রাজনৈতিক দলের জন্য সুষ্ঠু ধারার রাজনীতি পরিচালনা করার পরিবেশ তারা রাখেনি। তখন রাজনৈতিক দলগুলো গোপনে তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে। এটা নিয়ে আবার বর্তমানে উঠে-পড়ে লাগছে কারা গুপ্ত রাজনীতি করে, কারা প্রকাশ্যে রাজনীতি করে। কিন্তু কেন গুপ্ত আর কেন প্রকাশ্য রাজনীতি তৈরি হলো সেটার কারণ কেউ জানছে না।
খুবির এই শিক্ষক আরও বলেন, সম্প্রতি জাতিসংঘের একটা রিপোর্ট প্রকাশ হয়েছে। যে রিপোর্টে আওয়ামীলীগের সকল অবৈধ কর্মকাণ্ড ফুটে উঠেছে। সেটা নিয়ে আমরা কোনো আলোচনা করছি না, কোনো লেখা লিখছি না। অথচ যেটা নিয়ে আমাদের লেখালেখি করার দরকার ছিল, মানুষের কাছে পৌছে দেওয়ার কথা ছিল। সেটা না করে আমরা নিজেদের মধ্যে বিভেদ করার চেষ্টা করছি। এই জায়গাগুলোতে আমাদের আরও স্পষ্ট হতে হবে যে নতুন বাংলাদেশ কোনদিকে যাবে, আর আমাদের অবস্থান কী হবে।
আলোচনা সভায় রাবি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক মেহেদী সজিব বলেন, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের নামে কার্যত স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠা করেছে, যার সূচনা হয় পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে। ইতিহাসে এমন ঘটনা বিরল। যারা স্বৈরাচারী শাসনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদেরকে ভারতের সহযোগীতায় একে একে নির্মূল করা হয়েছে। এই অঞ্চলে আওয়ামী লীগ কার্যত নাৎসি মতাদর্শের একটি দল গড়ে তুলেছে, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মানবাধিকারের জন্য মারাত্মক হুমকি।
তিনি আরও বলেন, শাপলা চত্বরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালানো হয় অথচ পরবর্তী সময়ে সেটি অস্বীকার করা হয়। আর ২০২৪ সালে সংঘটিত ভয়াবহ দমন-পীড়নে ১৪০০-র বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে, যার মধ্যে ১১-১৩% ছিল শিশু। এছাড়া, এই দমননীতির অংশ হিসেবে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতাও আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে।
এ সময় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আবুল বাশার নাহিদ বলেন, আওয়ামীলীগ এই দেশে মাফিয়াতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক, যা কোনো রাজনৈতিক দলের পরামর্শে তৈরি হয়নি। এটি ভুয়া বা রাজনৈতিক এজেন্ডার অংশ নয় বরং বাস্তব সত্যকে তুলে ধরে।
তিনি আরও বলেন, এই প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ দুটি কারণে। প্রথমত, এটি প্রমাণ করে যে তথ্যগুলো সঠিক এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত নয়। দ্বিতীয়ত, এটি দেখায় কেন রাষ্ট্র ৫৩-৫৪ বছরের মাথায়ও এমন ভয়াবহ সংকটে পড়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে কী করণীয়। দেশে অপরাধের মাত্রা ভয়াবহভাবে বেড়েছে, যা এই প্রতিবেদনের মাত্র ৩টি পৃষ্ঠা পড়লেই স্পষ্ট হয়ে যায়, যেখানে নারী, শিশু ও সামগ্রিক অপরাধের পরিসংখ্যান বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আন্তজার্তিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. সাঈদ হোসেন৷ আলোচনা সভাটি সঞ্চালনা করেন আরবী বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাহায়ের ইসলাম। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।