বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘‘সাকিব যদি চায় অনেক কিছুই করতে পারবে’’

খবরটা পাওয়া গেল বাংলাদেশ সময় গভীর রাতে। হুট করেই খবরটা এলো। বোলিং অ্যাকশনের ত্রুটি শুধরে পরীক্ষায় পাস করেছেন সাকিব আল হাসান। সেই সঙ্গে আবারো আলোচনার বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় তারকা। সাকিবকে নিয়ে আলোচনার শুরুটা অবশ্য বিগত দিনগুলো থেকেই।

জুলাই অভ্যুত্থান সাকিবের স্বাভাবিক গতিপথ বদলে দিয়েছে। ক্রিকেট মাঠ থেকে রাজনীতিতে পা রাখা থেকে শুরু করে দেশান্তরী হওয়া, এসবের শুরুটা ২০২৪ সালের জুলাইয়ে। এরপর একটা সিরিজ বাদে দেশের জার্সিতে আর মাঠে দেখা যায়নি দেশের ক্রিকেটের ‘পোস্টার বয়কে।’

সাকিব যখন দেশে আসার জন্য এবং জার্সি গায়ে মাঠে নামার জন্য ব্যাকুল, ঠিক তখনই মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে এলো বোলিংয়ে অ্যাকশনে ত্রুটি। একবার পরীক্ষা দিয়েও পাস করতে না পারায় জোটে নিষেধাজ্ঞা। যার ফলে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দলেও থাকতে পারেননি দেশসেরা অলরাউন্ডার। শুধু ব্যাটার হিসেবে তাকে দলে নিতে চাননি নির্বাচকরা।

আক্ষেপ নিয়েই বোলিং অ্যাকশন শোধরানোর মিশনে নামেন সাকিব। যুক্তরাষ্ট্রে বসেই অ্যাকশন শুধরে আবারো পরীক্ষায় নামেন। এবার কোনো সমস্যা ছাড়াই পাস করে গেলেন।

এখন থেকে আবার আগের মতো ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই আলো ছড়ানোর সুযোগ থাকছে সাকিবের সামনে। কিন্তু সেটা কী আদৌ সহজ হবে? সাকিবের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটা ধারণা দিলেন স্পিন কোচ সোহেল ইসলাম।

ক্রিকেটে অনেকটা সময় পার করে এসেছেন সাকিব। অর্জনের খাতা কম ভারী নয়। সোহেলের মতে, আগামীতে সাকিবের নিজেকে প্রমাণের কিছু নেই। সিদ্ধান্ত বোর্ড ও নির্বাচকদের কোর্টে ঠেলে দিলেন এই কোচ।

সোহেল বলেন, ‘‘সাকিবের ব্যাপারটা হচ্ছে যে, এতোদিন পর এসে ভবিষ্যত আসলে দেখার কিছু নাই। যদি বোলিং ঠিক হয়ে যায়, তারপরে ব্যাটিংটাও ধরেন.. ওর তো ট্যালেন্ট নিয়ে কোনো সন্দেহ নাই বা পারফরম্যান্স নিয়ে কখনই কোনো কিছু (অভিযোগ) ছিল না। তাহলে ফিট হয়ে গেলে তো তাকে পাওয়া যাবে। এরপর সিলেক্টর, বোর্ড কিভাবে চিন্তা করতেছে এটা হচ্ছে কথা।’’

দেশের জার্সিতে সাকিব সবশেষ খেলেছিলেন ২০২৪ সালের অক্টোবরে। ভারতের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচে সবশেষ দেখা গিয়েছিল তাকে। আবারো দেশের জার্সিতে মাঠে নামলে পুরনো রিদম ফিরে পাবেন কী না, প্রশ্ন থেকেই যায়। তবে এগুলো কোনো সমস্যা হিসেবে দেখছেন না সোহেল।

সোহেল আরো বলেন, ‘‘সাকিবের অ্যাবিলিটি নিয়ে কারো কোনো প্রশ্ন নাই। ট্যালেন্টের ব্যাপারেও একই কথা। এতোদিন খেলার পরে রিদমে আসা… আমার কাছে মনে হয় না এগুলো কোনো সমস্যা। এটা ওর ইচ্ছার উপর ডিপেন্ড করে। যতটুকু আমি কাছ থেকে দেখছি, ও যদি চায় ও আসলে অনেক কিছুই করতে পারে।’’

‘‘ফিটনেসটা একটা ব্যাপার, ইস্যু। এটা যদি সেই স্ট্যান্ডার্ডের (খেলার মতো) ফিটনেস মনে হয় তাহলে স্কিল নিয়ে ডাউট করার কোনো সুযোগ নাই।’’ – আরো যোগ করেন সোহেল।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

‘‘সাকিব যদি চায় অনেক কিছুই করতে পারবে’’

প্রকাশিত সময় : ১১:২৪:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ মার্চ ২০২৫

খবরটা পাওয়া গেল বাংলাদেশ সময় গভীর রাতে। হুট করেই খবরটা এলো। বোলিং অ্যাকশনের ত্রুটি শুধরে পরীক্ষায় পাস করেছেন সাকিব আল হাসান। সেই সঙ্গে আবারো আলোচনার বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় তারকা। সাকিবকে নিয়ে আলোচনার শুরুটা অবশ্য বিগত দিনগুলো থেকেই।

জুলাই অভ্যুত্থান সাকিবের স্বাভাবিক গতিপথ বদলে দিয়েছে। ক্রিকেট মাঠ থেকে রাজনীতিতে পা রাখা থেকে শুরু করে দেশান্তরী হওয়া, এসবের শুরুটা ২০২৪ সালের জুলাইয়ে। এরপর একটা সিরিজ বাদে দেশের জার্সিতে আর মাঠে দেখা যায়নি দেশের ক্রিকেটের ‘পোস্টার বয়কে।’

সাকিব যখন দেশে আসার জন্য এবং জার্সি গায়ে মাঠে নামার জন্য ব্যাকুল, ঠিক তখনই মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে এলো বোলিংয়ে অ্যাকশনে ত্রুটি। একবার পরীক্ষা দিয়েও পাস করতে না পারায় জোটে নিষেধাজ্ঞা। যার ফলে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দলেও থাকতে পারেননি দেশসেরা অলরাউন্ডার। শুধু ব্যাটার হিসেবে তাকে দলে নিতে চাননি নির্বাচকরা।

আক্ষেপ নিয়েই বোলিং অ্যাকশন শোধরানোর মিশনে নামেন সাকিব। যুক্তরাষ্ট্রে বসেই অ্যাকশন শুধরে আবারো পরীক্ষায় নামেন। এবার কোনো সমস্যা ছাড়াই পাস করে গেলেন।

এখন থেকে আবার আগের মতো ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই আলো ছড়ানোর সুযোগ থাকছে সাকিবের সামনে। কিন্তু সেটা কী আদৌ সহজ হবে? সাকিবের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটা ধারণা দিলেন স্পিন কোচ সোহেল ইসলাম।

ক্রিকেটে অনেকটা সময় পার করে এসেছেন সাকিব। অর্জনের খাতা কম ভারী নয়। সোহেলের মতে, আগামীতে সাকিবের নিজেকে প্রমাণের কিছু নেই। সিদ্ধান্ত বোর্ড ও নির্বাচকদের কোর্টে ঠেলে দিলেন এই কোচ।

সোহেল বলেন, ‘‘সাকিবের ব্যাপারটা হচ্ছে যে, এতোদিন পর এসে ভবিষ্যত আসলে দেখার কিছু নাই। যদি বোলিং ঠিক হয়ে যায়, তারপরে ব্যাটিংটাও ধরেন.. ওর তো ট্যালেন্ট নিয়ে কোনো সন্দেহ নাই বা পারফরম্যান্স নিয়ে কখনই কোনো কিছু (অভিযোগ) ছিল না। তাহলে ফিট হয়ে গেলে তো তাকে পাওয়া যাবে। এরপর সিলেক্টর, বোর্ড কিভাবে চিন্তা করতেছে এটা হচ্ছে কথা।’’

দেশের জার্সিতে সাকিব সবশেষ খেলেছিলেন ২০২৪ সালের অক্টোবরে। ভারতের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচে সবশেষ দেখা গিয়েছিল তাকে। আবারো দেশের জার্সিতে মাঠে নামলে পুরনো রিদম ফিরে পাবেন কী না, প্রশ্ন থেকেই যায়। তবে এগুলো কোনো সমস্যা হিসেবে দেখছেন না সোহেল।

সোহেল আরো বলেন, ‘‘সাকিবের অ্যাবিলিটি নিয়ে কারো কোনো প্রশ্ন নাই। ট্যালেন্টের ব্যাপারেও একই কথা। এতোদিন খেলার পরে রিদমে আসা… আমার কাছে মনে হয় না এগুলো কোনো সমস্যা। এটা ওর ইচ্ছার উপর ডিপেন্ড করে। যতটুকু আমি কাছ থেকে দেখছি, ও যদি চায় ও আসলে অনেক কিছুই করতে পারে।’’

‘‘ফিটনেসটা একটা ব্যাপার, ইস্যু। এটা যদি সেই স্ট্যান্ডার্ডের (খেলার মতো) ফিটনেস মনে হয় তাহলে স্কিল নিয়ে ডাউট করার কোনো সুযোগ নাই।’’ – আরো যোগ করেন সোহেল।