রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মুক্তিপণসহ আটক আরএমপির ৫ পুলিশ বরখাস্ত

বগুড়ায় গিয়ে দুই ব্যক্তিকে অপহরণ এবং মুক্তিপণ নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় আটক হওয়া রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) পাঁচ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার (২৪ মার্চ) বিকেলে আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান তাদের সাময়িক বরখাস্ত করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বলেন, ‘‘তারা কোনো অভিযানে যাননি। কাউকে জানিয়েও যাননি। তারা নিজের ইচ্ছায় গিয়েছেন। সেখানে আটক হয়েছে, সেখানে তাদের নামে মামলা হয়েছে। বিকেলে আমি তাদের সাময়িক বরখাস্ত করেছি। এখন তদন্ত হবে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া এই পাঁচ পুলিশ সদস্য হলেন, আরএমপির গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপপরিদর্শক (এসআই) শাহিন মোহাম্মদ অনু ইসলাম, কনস্টেবল রিপন মিয়া, আবুল কালাম আজাদ, মাহবুব আলম ও বাশির আলী। এছাড়া তাদের সঙ্গে মেহেদী হাসান নামের মাইক্রোবাসচালককেও আটক করা হয়েছে। তার মাইক্রোবাসে সবাই বগুড়া যান।

নগর ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ইব্রাহিম খলিল জানিয়েছেন, ওই পাঁচ পুলিশের সবাই আরএমপির ডিবিতে কর্মরত। তিনি বলেন, ‘‘গতরাতে আমি রাত সাড়ে ৩টা পর্যন্ত অফিসে ছিলাম। তারা আমাকে কিছু জানিয়ে বগুড়া যাননি। কেন গিয়েছেন, তারাই ভালো বলতে পারবেন।’’

বগুড়ার কুন্দারহাট হাইওয়ে থানার পুলিশ সদস্যরা রবিবার (২৩ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টার দিকে বগুড়া-নাটোর মহাসড়কের বীরগ্রাম এলাকা থেকে পাঁচজনকে আটক করেন। সেইসঙ্গে তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসের চালককেও আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে নগদ ২ লাখ টাকা ও পুলিশের একটি ওয়াকিটকি জব্দ করা হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

বগুড়ার পুলিশ সুপার (এসপি) জেদান আল মুসা জানিয়েছেন, পুলিশের এই পাঁচ সদস্য রবিবার বগুড়ার ধুনট উপজেলায় গিয়ে জুয়া খেলার অভিযোগে দীঘরকান্দি গ্রামের রাব্বী ও জাহাঙ্গীরকে আটক করে মাইক্রোবাসে তোলেন। পরে শেরপুর উপজেলার মির্জাপুরে গাড়ি থামিয়ে তাদের কাছে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। দর-কষাকষি করে নগদ ২ লাখ এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আরো ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেন।

বগুড়া জেলা পুলিশ ঘটনাটি জানতে পেরে শেরপুর ও শাজাহানপুর থানা এলাকায় মাইক্রোবাসটি আটক করার চেষ্টা করে। পরে হাইওয়ে পুলিশের সহযোগিতায় শাজাহানপুর থানার বীরগ্রাম এলাকায় গাড়িটি আটক করা হয়। এতে থাকা পাঁচজন নিজেদের আরএমপির গোয়েন্দা শাখার সদস্য পরিচয় দেন। পরে তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া যায়, তারা কাউকে না জানিয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে বগুড়ায় এসেছিলেন।

পুলিশ বলছে, আরএমপির ডিবিতে আবদুল ওয়াহাব নামের একজন পুলিশ সদস্য কর্মরত আছেন। তার গ্রামের বাড়ি বগুড়ার ধুনটে। তিনি ছুটি নিয়ে দুই দিন আগে বাড়িতে গিয়েছেন। তার দেওয়া তথ্যমতেই রাজশাহী থেকে পাঁচজন ধুনটে যান বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

মুক্তিপণসহ আটক আরএমপির ৫ পুলিশ বরখাস্ত

প্রকাশিত সময় : ১১:০৮:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ মার্চ ২০২৫

বগুড়ায় গিয়ে দুই ব্যক্তিকে অপহরণ এবং মুক্তিপণ নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় আটক হওয়া রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) পাঁচ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার (২৪ মার্চ) বিকেলে আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান তাদের সাময়িক বরখাস্ত করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বলেন, ‘‘তারা কোনো অভিযানে যাননি। কাউকে জানিয়েও যাননি। তারা নিজের ইচ্ছায় গিয়েছেন। সেখানে আটক হয়েছে, সেখানে তাদের নামে মামলা হয়েছে। বিকেলে আমি তাদের সাময়িক বরখাস্ত করেছি। এখন তদন্ত হবে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া এই পাঁচ পুলিশ সদস্য হলেন, আরএমপির গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপপরিদর্শক (এসআই) শাহিন মোহাম্মদ অনু ইসলাম, কনস্টেবল রিপন মিয়া, আবুল কালাম আজাদ, মাহবুব আলম ও বাশির আলী। এছাড়া তাদের সঙ্গে মেহেদী হাসান নামের মাইক্রোবাসচালককেও আটক করা হয়েছে। তার মাইক্রোবাসে সবাই বগুড়া যান।

নগর ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ইব্রাহিম খলিল জানিয়েছেন, ওই পাঁচ পুলিশের সবাই আরএমপির ডিবিতে কর্মরত। তিনি বলেন, ‘‘গতরাতে আমি রাত সাড়ে ৩টা পর্যন্ত অফিসে ছিলাম। তারা আমাকে কিছু জানিয়ে বগুড়া যাননি। কেন গিয়েছেন, তারাই ভালো বলতে পারবেন।’’

বগুড়ার কুন্দারহাট হাইওয়ে থানার পুলিশ সদস্যরা রবিবার (২৩ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টার দিকে বগুড়া-নাটোর মহাসড়কের বীরগ্রাম এলাকা থেকে পাঁচজনকে আটক করেন। সেইসঙ্গে তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসের চালককেও আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে নগদ ২ লাখ টাকা ও পুলিশের একটি ওয়াকিটকি জব্দ করা হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

বগুড়ার পুলিশ সুপার (এসপি) জেদান আল মুসা জানিয়েছেন, পুলিশের এই পাঁচ সদস্য রবিবার বগুড়ার ধুনট উপজেলায় গিয়ে জুয়া খেলার অভিযোগে দীঘরকান্দি গ্রামের রাব্বী ও জাহাঙ্গীরকে আটক করে মাইক্রোবাসে তোলেন। পরে শেরপুর উপজেলার মির্জাপুরে গাড়ি থামিয়ে তাদের কাছে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। দর-কষাকষি করে নগদ ২ লাখ এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আরো ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেন।

বগুড়া জেলা পুলিশ ঘটনাটি জানতে পেরে শেরপুর ও শাজাহানপুর থানা এলাকায় মাইক্রোবাসটি আটক করার চেষ্টা করে। পরে হাইওয়ে পুলিশের সহযোগিতায় শাজাহানপুর থানার বীরগ্রাম এলাকায় গাড়িটি আটক করা হয়। এতে থাকা পাঁচজন নিজেদের আরএমপির গোয়েন্দা শাখার সদস্য পরিচয় দেন। পরে তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া যায়, তারা কাউকে না জানিয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে বগুড়ায় এসেছিলেন।

পুলিশ বলছে, আরএমপির ডিবিতে আবদুল ওয়াহাব নামের একজন পুলিশ সদস্য কর্মরত আছেন। তার গ্রামের বাড়ি বগুড়ার ধুনটে। তিনি ছুটি নিয়ে দুই দিন আগে বাড়িতে গিয়েছেন। তার দেওয়া তথ্যমতেই রাজশাহী থেকে পাঁচজন ধুনটে যান বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে।