বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘আমাকে বলা হয়েছিল তামিম আর বেঁচে নেই’

জীবন-মৃত্যুর প্রায় সন্ধিক্ষণে চলে গিয়েছিলেন তামিম ইকবাল। দু’বার হার্ট অ্যাটাকের পর পরীক্ষা করলে তার হার্টে ব্লক ধরা পড়ে, তাতে রিং পরানোর পর সাবেক এই বাংলাদেশ অধিনায়ক এখন ধীরে ধীরে সুস্থতার পথে। তবে ওই সময় থেকে তামিমকে ৭২ ঘণ্টা চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে থাকতে হচ্ছে। তিনি অসুস্থ হওয়ার পর হাসপাতালে ছুটে গিয়েছিলেন নিকটাত্মীয় থেকে শুরু করে বিসিবি ও ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা।

তামিমের চাচা আকরাম খান একইসঙ্গে বিসিবি পরিচালকও। প্রাথমিকভাবে তামিমের অসুস্থতা খবর শোনার সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে আজ (বুধবার) মিরপুরে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আকরাম বলেন, ‘যখন আমি খবরটা পেয়েছি, দ্য নিউজ ওয়াজ ভেরি ব্যাড। আমাকে বলা হলো তামিম আর বেঁচে নেই। এটা কল্পনাও করতে পারিনি। কোনো দিন ভাবিওনি এ ধরনের খবর শুনব। এত অল্প বয়সী, ছেলের মতো। এরপর ঘণ্টা দেড়েক বাড়িতেই ছিলাম। খুব আপসেট ছিলাম।’

আকরাম আরও বলেন, ‘ঘণ্টা দেড়েক পর ডাক্তাররা কল করলেন কনফারেন্সে। বললেন রিং লাগানোর জন্য নিয়ে যাচ্ছে। তখন একটু স্বাভাবিক হয়েছি। যেহেতু রিং লাগাতে যাচ্ছে তার মানে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা আছে। স্পোর্টসের সঙ্গে থাকা লোক, যে অসুস্থ হওয়ার আগের ১০ দিনে দুইটা সেঞ্চুরিও করেছে…কল্পনা করা যায় না। আমার পাশাপাশি অন্য সবাই–ও খুব আপসেট হয়েছেন।’

পরিবারের পক্ষ থেকে তামিমকে শিগগিরই বিদেশে নিয়ে যাওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তার চাচা, ‘তামিম যে জায়গা থেকে ফিরে এসেছে, আপনাদের দোয়া ছাড়া এটা সম্ভব হতো না। প্রচুর কল-ম্যাসেজ পাচ্ছি। সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। কাল ডাক্তারের সঙ্গেও কথা হয়েছে, এ ধরনের রোগীর ফিরে আসার সম্ভাবনা খুবই কম থাকে। আল্লাহ রহমতে ও ফিরে এসেছে।’

‘এখন সে পর্যবেক্ষণে আছে। আরও ২-৩ দিন এই অবস্থায় থাকলে বাসায় নিয়ে আসতে পারব। যে চিকিৎসা হওয়ার তো হয়ে গেছে। তবে যত দ্রুত সম্ভব পারিবারিক সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশের বাইরে নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করাব। দুশ্চিন্তা রাখতে চাচ্ছি না’, আরও যোগ করেন জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

‘আমাকে বলা হয়েছিল তামিম আর বেঁচে নেই’

প্রকাশিত সময় : ১১:৪৭:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ মার্চ ২০২৫

জীবন-মৃত্যুর প্রায় সন্ধিক্ষণে চলে গিয়েছিলেন তামিম ইকবাল। দু’বার হার্ট অ্যাটাকের পর পরীক্ষা করলে তার হার্টে ব্লক ধরা পড়ে, তাতে রিং পরানোর পর সাবেক এই বাংলাদেশ অধিনায়ক এখন ধীরে ধীরে সুস্থতার পথে। তবে ওই সময় থেকে তামিমকে ৭২ ঘণ্টা চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে থাকতে হচ্ছে। তিনি অসুস্থ হওয়ার পর হাসপাতালে ছুটে গিয়েছিলেন নিকটাত্মীয় থেকে শুরু করে বিসিবি ও ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা।

তামিমের চাচা আকরাম খান একইসঙ্গে বিসিবি পরিচালকও। প্রাথমিকভাবে তামিমের অসুস্থতা খবর শোনার সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে আজ (বুধবার) মিরপুরে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আকরাম বলেন, ‘যখন আমি খবরটা পেয়েছি, দ্য নিউজ ওয়াজ ভেরি ব্যাড। আমাকে বলা হলো তামিম আর বেঁচে নেই। এটা কল্পনাও করতে পারিনি। কোনো দিন ভাবিওনি এ ধরনের খবর শুনব। এত অল্প বয়সী, ছেলের মতো। এরপর ঘণ্টা দেড়েক বাড়িতেই ছিলাম। খুব আপসেট ছিলাম।’

আকরাম আরও বলেন, ‘ঘণ্টা দেড়েক পর ডাক্তাররা কল করলেন কনফারেন্সে। বললেন রিং লাগানোর জন্য নিয়ে যাচ্ছে। তখন একটু স্বাভাবিক হয়েছি। যেহেতু রিং লাগাতে যাচ্ছে তার মানে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা আছে। স্পোর্টসের সঙ্গে থাকা লোক, যে অসুস্থ হওয়ার আগের ১০ দিনে দুইটা সেঞ্চুরিও করেছে…কল্পনা করা যায় না। আমার পাশাপাশি অন্য সবাই–ও খুব আপসেট হয়েছেন।’

পরিবারের পক্ষ থেকে তামিমকে শিগগিরই বিদেশে নিয়ে যাওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তার চাচা, ‘তামিম যে জায়গা থেকে ফিরে এসেছে, আপনাদের দোয়া ছাড়া এটা সম্ভব হতো না। প্রচুর কল-ম্যাসেজ পাচ্ছি। সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। কাল ডাক্তারের সঙ্গেও কথা হয়েছে, এ ধরনের রোগীর ফিরে আসার সম্ভাবনা খুবই কম থাকে। আল্লাহ রহমতে ও ফিরে এসেছে।’

‘এখন সে পর্যবেক্ষণে আছে। আরও ২-৩ দিন এই অবস্থায় থাকলে বাসায় নিয়ে আসতে পারব। যে চিকিৎসা হওয়ার তো হয়ে গেছে। তবে যত দ্রুত সম্ভব পারিবারিক সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশের বাইরে নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করাব। দুশ্চিন্তা রাখতে চাচ্ছি না’, আরও যোগ করেন জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক।