বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাবির আইন অনুষদে ‘সাংবিধানিক অধিকার ও প্রতিকার’ বিষয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত 

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) আইন অনুষদের ‘ডিন’স লেকচার সিরিজ অন কন্টেম্পোরারি লিগ্যাল ইস্যুজ’-এর অংশ হিসেবে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেমিনারের বিষয় ছিল ‘সাংবিধানিক অধিকার ও প্রতিকার: বাংলাদেশের সংস্কার কর্মপরিকল্পনা’।
মঙ্গলবার (২০ মে) বিকেল তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের আয়োজনে শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ সিনেট ভবনে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক আ.ন.ম. ওয়াহিদ-এর সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন এবং সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য প্রখ্যাত সংবিধান বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মুহাম্মদ একরামুল হক। এছাড়াও অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, সংবিধান, আইন ও রাষ্ট্রব্যবস্থার বিষয়গুলো নিয়ে সবার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থাকতে পারে। তবে এসব বোঝার জন্য কেবল আইন নয়, সমাজ, ইতিহাস ও দর্শনের জ্ঞানও প্রয়োজন। সংবিধান নাগরিকদের সম্পদ—এটি সবার জন্য বোধগম্য হওয়া উচিত, যেন সাধারণ মানুষও তা সহজে বুঝতে পারে।
তিনি আরও বলেন, অনেক দেশে লিখিত সংবিধান না থাকলেও সুশাসন আছে। অথচ আমাদের দেশে সংবিধান থাকা সত্ত্বেও নাগরিক অধিকার বারবার লঙ্ঘিত হচ্ছে। শুধু আইনবিদরাই আইনের সচেতন বাহক—এই ধারণা ভুল। বহু উদাহরণ আছে যেখানে আইনজ্ঞরাই নিয়ম ভেঙেছেন। তাই যারা আইনে পড়েনি, তারাও সচেতন নাগরিক হতে পারে।
প্রধান বক্তার আলোচনায় অধ্যাপক মুহাম্মদ একরামুল হক বলেন, রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো—সাধারণ জনগণকে তাদের সাংবিধানিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা। প্রতিটি নাগরিকের জানা উচিত যে, সংবিধান তাকে কী কী অধিকার দিয়েছে, সেই অধিকারগুলো কেন গুরুত্বপূর্ণ এবং দৈনন্দিন জীবনে সেগুলোর প্রয়োগ কোথায় হয়। এই সচেতনতা না থাকলে নাগরিক সমাজ একটি ধোঁয়াশাচ্ছন্ন অবস্থায় বসবাস করে, যেখানে তারা জানতেই পারে না—তাদের অধিকার কখন, কোথায় এবং কীভাবে হরণ করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্র যদি নাগরিকদের শিক্ষিত করে তোলে তাদের মৌলিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার সম্পর্কে, তবে জনগণ নিজেরাই বুঝতে পারবে—রাষ্ট্রের কোন কোন নীতি বা আইন তাদের অধিকার লঙ্ঘন করছে, কোন কোন সিদ্ধান্ত সংবিধানের পরিপন্থি। এই সচেতনতা না থাকলে গণতন্ত্র শুধু কাগজে-কলমে থেকে যায়, বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটে না। তাই সংবিধান শুধু আইনবিদ বা শাসকদের বিষয় নয়। এটি প্রত্যেক নাগরিকের জানার ও বোঝার বিষয়। রাষ্ট্রের উচিত নাগরিককে এই জ্ঞানে সম্পৃক্ত করা, যাতে তারা একটি অধিকারের ভিত্তিতে গঠিত রাষ্ট্রব্যবস্থায় সচেতনভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে।
সমাপনী বক্তব্যে রাবির আাইন অনুষদের ডিন  অধ্যাপক আ.ন.ম. ওয়াহিদ বলেন আজকের এই সংবিধান বিষয়ক আলোচনা আমাদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংবিধান সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস ছিল। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন আইনের শাসন, মৌলিক অধিকার এবং রাষ্ট্রের কাঠামো সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান অর্জন করতে পারে, সেই উদ্দেশ্যেই এই আয়োজন। আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণকারী অতিথিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এবং আমাদের আইন অনুষদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
এসময় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক গঠিত ‘সংবিধান সংস্কার কমিশন’-এর সুপারিশ নিয়ে বিস্তার আলোচনা করেন। পাশাপাশি সংবিধানের মৌলিক অধিকার ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির ভিতর পার্থক্য নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে সংবিধান সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা, নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং গণতন্ত্রের বিকাশে আইনি সংস্কারের গুরুত্ব তুলে ধরেন। আলোচনা শেষে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন।
এসময় আরো বক্তব্য দেন অধ্যাপক আ.ন.ম. ওয়াহিদ, আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক সাঈদা আঞ্জু, আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক সাহাল উদ্দিন-সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

রাবির আইন অনুষদে ‘সাংবিধানিক অধিকার ও প্রতিকার’ বিষয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত 

প্রকাশিত সময় : ০৮:৪৯:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ মে ২০২৫
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) আইন অনুষদের ‘ডিন’স লেকচার সিরিজ অন কন্টেম্পোরারি লিগ্যাল ইস্যুজ’-এর অংশ হিসেবে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেমিনারের বিষয় ছিল ‘সাংবিধানিক অধিকার ও প্রতিকার: বাংলাদেশের সংস্কার কর্মপরিকল্পনা’।
মঙ্গলবার (২০ মে) বিকেল তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের আয়োজনে শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ সিনেট ভবনে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক আ.ন.ম. ওয়াহিদ-এর সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন এবং সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য প্রখ্যাত সংবিধান বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মুহাম্মদ একরামুল হক। এছাড়াও অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, সংবিধান, আইন ও রাষ্ট্রব্যবস্থার বিষয়গুলো নিয়ে সবার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থাকতে পারে। তবে এসব বোঝার জন্য কেবল আইন নয়, সমাজ, ইতিহাস ও দর্শনের জ্ঞানও প্রয়োজন। সংবিধান নাগরিকদের সম্পদ—এটি সবার জন্য বোধগম্য হওয়া উচিত, যেন সাধারণ মানুষও তা সহজে বুঝতে পারে।
তিনি আরও বলেন, অনেক দেশে লিখিত সংবিধান না থাকলেও সুশাসন আছে। অথচ আমাদের দেশে সংবিধান থাকা সত্ত্বেও নাগরিক অধিকার বারবার লঙ্ঘিত হচ্ছে। শুধু আইনবিদরাই আইনের সচেতন বাহক—এই ধারণা ভুল। বহু উদাহরণ আছে যেখানে আইনজ্ঞরাই নিয়ম ভেঙেছেন। তাই যারা আইনে পড়েনি, তারাও সচেতন নাগরিক হতে পারে।
প্রধান বক্তার আলোচনায় অধ্যাপক মুহাম্মদ একরামুল হক বলেন, রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো—সাধারণ জনগণকে তাদের সাংবিধানিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা। প্রতিটি নাগরিকের জানা উচিত যে, সংবিধান তাকে কী কী অধিকার দিয়েছে, সেই অধিকারগুলো কেন গুরুত্বপূর্ণ এবং দৈনন্দিন জীবনে সেগুলোর প্রয়োগ কোথায় হয়। এই সচেতনতা না থাকলে নাগরিক সমাজ একটি ধোঁয়াশাচ্ছন্ন অবস্থায় বসবাস করে, যেখানে তারা জানতেই পারে না—তাদের অধিকার কখন, কোথায় এবং কীভাবে হরণ করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্র যদি নাগরিকদের শিক্ষিত করে তোলে তাদের মৌলিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার সম্পর্কে, তবে জনগণ নিজেরাই বুঝতে পারবে—রাষ্ট্রের কোন কোন নীতি বা আইন তাদের অধিকার লঙ্ঘন করছে, কোন কোন সিদ্ধান্ত সংবিধানের পরিপন্থি। এই সচেতনতা না থাকলে গণতন্ত্র শুধু কাগজে-কলমে থেকে যায়, বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটে না। তাই সংবিধান শুধু আইনবিদ বা শাসকদের বিষয় নয়। এটি প্রত্যেক নাগরিকের জানার ও বোঝার বিষয়। রাষ্ট্রের উচিত নাগরিককে এই জ্ঞানে সম্পৃক্ত করা, যাতে তারা একটি অধিকারের ভিত্তিতে গঠিত রাষ্ট্রব্যবস্থায় সচেতনভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে।
সমাপনী বক্তব্যে রাবির আাইন অনুষদের ডিন  অধ্যাপক আ.ন.ম. ওয়াহিদ বলেন আজকের এই সংবিধান বিষয়ক আলোচনা আমাদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংবিধান সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস ছিল। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন আইনের শাসন, মৌলিক অধিকার এবং রাষ্ট্রের কাঠামো সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান অর্জন করতে পারে, সেই উদ্দেশ্যেই এই আয়োজন। আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণকারী অতিথিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এবং আমাদের আইন অনুষদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
এসময় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক গঠিত ‘সংবিধান সংস্কার কমিশন’-এর সুপারিশ নিয়ে বিস্তার আলোচনা করেন। পাশাপাশি সংবিধানের মৌলিক অধিকার ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির ভিতর পার্থক্য নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে সংবিধান সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা, নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং গণতন্ত্রের বিকাশে আইনি সংস্কারের গুরুত্ব তুলে ধরেন। আলোচনা শেষে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন।
এসময় আরো বক্তব্য দেন অধ্যাপক আ.ন.ম. ওয়াহিদ, আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক সাঈদা আঞ্জু, আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক সাহাল উদ্দিন-সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।