রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রী-স্পিকারের নামের আগে মাননীয় বাদ দেওয়ার পক্ষে ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “আমার দুই দলের বিতর্ক শুনে ভালো লাগছিল। একটা আমার আপত্তি আছে। এই যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় স্পিকার কথাটা এটি কী আমরা বাদ দিতে পারি না। আমার কেনো জানি মনে হয়, এই মাননীয় কথাটা থেকে কিন্তু অটোক্রেসির জন্মটা বোধয় হয়।”

মির্জা ফখরুল বলেন,  “আমি কিছুদিনের জন্য অর্থ প্রতিমন্ত্রী ছিলাম। ঢাকার বাইরে গেলে ওখানকার পুলিশের কন্টিনজেন্টের সবাই দাঁড়িয়ে স্যালুট করতো। নিজেকে তখন বিরাট কিছু মনে হতো। আমাদের এখানে যেই মন্ত্রী হয়ে গেল, সেই ভিন্ন জগতে চলে গেল। স্যালুট, বাঁশি, সামনে-পেছনে গাড়ি, এই যে মানসিকতা, তা ধীরে ধীরে ডিক্টেটরের দিকে নিয়ে যায়।”

মঙ্গলবার (৮ জুলাই) বাংলা একাডেমির আব্দুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে ঢাকা কলেজ ডিবেটিং সোসাইটি ও দ্য বাংলাদেশ ডায়লগ এর যৌথ আয়োজনে ‘সিভিল ডিসকোর্স ন্যাশনাল ২০২৫; ভয়েস অব ডেমোক্রেসি: রিথিংকিং বাংলাদেশ’ শিরোনামে এক বিতর্ক প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অনেকে বলেন যে এখানে কিছু হবে না। এটা সঠিক নয়। আমি অত্যন্ত আশাবাদী। অনেক কিছু হবে এবং বাংলাদেশে অবশ্যই আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারব।”

তিনি বলেন, “তর্ক আছে, বিতর্ক আছে। মতের অমিল আছে। আমরা বিশ্বাস করি যে আমার কথা বলার স্বাধীনতা থাকতে হবে। তোমারও কথা বলার স্বাধীনতা থাকতে হবে। এটাই হচ্ছে উপযুক্ত একটা ডেমোক্রেসি।”

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “দুর্ভাগ্য যে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের চর্চা হয়নি। পাকিস্তান আমল থেকেই এখানে গণতন্ত্রের চর্চা সেভাবে হয়নি। খুব স্বল্প সময় ধরে কিছুটা চর্চা হলেও, পরবর্তীতে আমরা সেই চর্চা থেকে দূরে সরে গেছি।”

বিএনপির মহাসচিব বলেন, “বাংলাদেশের তরুণরা মাত্র এক দশমিক ৮৭ শতাংশ রাজনীতিতে আগ্রহী-এমন একটি জরিপ দেখে সকালে মন খারাপ হয়ে গিয়েছিল। তবে এখানে এসে আমাদের আশা বেড়েছে। আমাদের তরুণরা আরও বেশি যোগ্য। তারা দেশ গঠনে বেশি ভূমিকা রাখতে পারবে।”

আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “তারা অত্যন্ত সুন্দর একটা ভালো কাজ করেছেন। আমাদের নতুন প্রজন্মের চেঞ্জের সঙ্গে আমাদের পরিচয়টা আরো বাড়ানো দরকার। এখানে একটা বড় গ্যাপ আছে। ঢাকাতে যে চিন্তা-ভাবনা আবার ঠাকুরগাঁওয়ে সেই চিন্তা-ভাবনা না। আমরা একটা প্রজন্ম তৈরি করতে চাচ্ছি, একটা শক্তি তৈরি করতে চাচ্ছি, একটা আর্মি তৈরি করতে চাচ্ছি, যে আর্মি বাংলাদেশকে বদলে দেবে। যদি আমরা সামনের দিকে যেতে পারি তাহলে নিশ্চই আমরা জয় করব।”

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ এ কে এম ইলিয়াস, অ্যাডকম হোল্ডিং লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি) নাজিম ফারহান চৌধুরী, সুপ্রিম কোর্টের ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম, বিএনপির পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিটির সদস্য ইশরাফি খসরু প্রমুখ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

প্রধানমন্ত্রী-স্পিকারের নামের আগে মাননীয় বাদ দেওয়ার পক্ষে ফখরুল

প্রকাশিত সময় : ১১:০০:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ জুলাই ২০২৫

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “আমার দুই দলের বিতর্ক শুনে ভালো লাগছিল। একটা আমার আপত্তি আছে। এই যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় স্পিকার কথাটা এটি কী আমরা বাদ দিতে পারি না। আমার কেনো জানি মনে হয়, এই মাননীয় কথাটা থেকে কিন্তু অটোক্রেসির জন্মটা বোধয় হয়।”

মির্জা ফখরুল বলেন,  “আমি কিছুদিনের জন্য অর্থ প্রতিমন্ত্রী ছিলাম। ঢাকার বাইরে গেলে ওখানকার পুলিশের কন্টিনজেন্টের সবাই দাঁড়িয়ে স্যালুট করতো। নিজেকে তখন বিরাট কিছু মনে হতো। আমাদের এখানে যেই মন্ত্রী হয়ে গেল, সেই ভিন্ন জগতে চলে গেল। স্যালুট, বাঁশি, সামনে-পেছনে গাড়ি, এই যে মানসিকতা, তা ধীরে ধীরে ডিক্টেটরের দিকে নিয়ে যায়।”

মঙ্গলবার (৮ জুলাই) বাংলা একাডেমির আব্দুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে ঢাকা কলেজ ডিবেটিং সোসাইটি ও দ্য বাংলাদেশ ডায়লগ এর যৌথ আয়োজনে ‘সিভিল ডিসকোর্স ন্যাশনাল ২০২৫; ভয়েস অব ডেমোক্রেসি: রিথিংকিং বাংলাদেশ’ শিরোনামে এক বিতর্ক প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অনেকে বলেন যে এখানে কিছু হবে না। এটা সঠিক নয়। আমি অত্যন্ত আশাবাদী। অনেক কিছু হবে এবং বাংলাদেশে অবশ্যই আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারব।”

তিনি বলেন, “তর্ক আছে, বিতর্ক আছে। মতের অমিল আছে। আমরা বিশ্বাস করি যে আমার কথা বলার স্বাধীনতা থাকতে হবে। তোমারও কথা বলার স্বাধীনতা থাকতে হবে। এটাই হচ্ছে উপযুক্ত একটা ডেমোক্রেসি।”

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “দুর্ভাগ্য যে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের চর্চা হয়নি। পাকিস্তান আমল থেকেই এখানে গণতন্ত্রের চর্চা সেভাবে হয়নি। খুব স্বল্প সময় ধরে কিছুটা চর্চা হলেও, পরবর্তীতে আমরা সেই চর্চা থেকে দূরে সরে গেছি।”

বিএনপির মহাসচিব বলেন, “বাংলাদেশের তরুণরা মাত্র এক দশমিক ৮৭ শতাংশ রাজনীতিতে আগ্রহী-এমন একটি জরিপ দেখে সকালে মন খারাপ হয়ে গিয়েছিল। তবে এখানে এসে আমাদের আশা বেড়েছে। আমাদের তরুণরা আরও বেশি যোগ্য। তারা দেশ গঠনে বেশি ভূমিকা রাখতে পারবে।”

আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “তারা অত্যন্ত সুন্দর একটা ভালো কাজ করেছেন। আমাদের নতুন প্রজন্মের চেঞ্জের সঙ্গে আমাদের পরিচয়টা আরো বাড়ানো দরকার। এখানে একটা বড় গ্যাপ আছে। ঢাকাতে যে চিন্তা-ভাবনা আবার ঠাকুরগাঁওয়ে সেই চিন্তা-ভাবনা না। আমরা একটা প্রজন্ম তৈরি করতে চাচ্ছি, একটা শক্তি তৈরি করতে চাচ্ছি, একটা আর্মি তৈরি করতে চাচ্ছি, যে আর্মি বাংলাদেশকে বদলে দেবে। যদি আমরা সামনের দিকে যেতে পারি তাহলে নিশ্চই আমরা জয় করব।”

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ এ কে এম ইলিয়াস, অ্যাডকম হোল্ডিং লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি) নাজিম ফারহান চৌধুরী, সুপ্রিম কোর্টের ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম, বিএনপির পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিটির সদস্য ইশরাফি খসরু প্রমুখ।