শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বগুড়ায় মেসে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ

বগুড়ায় তারিকুল ইসলাম তোহা (১৮) নামে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর ওড়নার সঙ্গে ফাঁস দেওয়া ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার সকালে শহরের সেউজগাড়ী পালপাড়ার স্বপ্ননীড় নামে ছাত্রাবাসের রুম থেকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।

প্রতিবেশী শিক্ষার্থীদের উদ্ধৃতি দিয়ে সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মাহফুজ আলম বলেছেন, প্রেমিকার ওপর অভিমান করে ওই ছাত্র আত্মহত্যা করেছে।

পুলিশ জানায়, তারিকুল ইসলাম তোহা বগুড়ার গাবতলী উপজেলার দুর্গাহাটা ইউনিয়নের সোলারতাইড় গ্রামের মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের ছেলে। তিনি বগুড়া শহরের সেউজগাড়ী পালপাড়ায় ইসকন মন্দিরের কাছে ‘স্বপ্ননীড়’ নামে ছাত্রাবাসে থাকতেন। তোহা করতোয়া মাল্টিমিডিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন।

সহপাঠী ও বন্ধুরা জানান, তারিকুল ইসলাম তোহা ওই ছাত্রাবাসের একটি রুম নিয়ে থাকতেন। তিনি একটি মেয়েকে ভালোবাসতেন। কয়েক দিন ধরে মেয়েটির সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি হয়। এর ধারাবাহিকতায় সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মোবাইল ফোনে মেয়েটির সঙ্গে তার ঝগড়া হয়। এরপর তিনি ছাত্রাবাসের রুমের দরজা বন্ধ করে দেন। তোহা কালো গেঞ্জি দিয়ে মুখ ঢেকে রুমের ছাদের তীরের সঙ্গে গলায় ওড়নার ফাঁস দেন।

এর আগে তিনি তার এক চাচাতো ভাইকে ফোন দিয়ে জানান, আত্মহত্যা করতে যাচ্ছেন। এছাড়া আত্মহত্যার প্রস্তুতির একটি ছবিও চাচাতো ভাইয়ের মেসেঞ্জারে পাঠান। তিনি বিষয়টি তোহার সাবেক রুমমেট সৈকতকে অবহিত করেন। এরপর সৈকত ফোনে বিষয়টি ছাত্রাবাসের মালিক লাবিবকে জানান। তখন লাবিব অন্যদের নিয়ে তোহার রুমের কাছে গিয়ে দেখেন দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। জানালা খুলে দেখেন ঘরের তীরের সঙ্গে তোহার লাশ ঝুলে আছে। খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে লাশটি উদ্ধার করে।

বগুড়া সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মাহফুজ আলম জানান, প্রাথমিক তদন্তে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী তারিকুল ইসলাম তোহা আত্মহত্যা করেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। লোকমুখে জানা গেছে, প্রেমিকার সঙ্গে অভিমান করেই ওই ছাত্র আত্মহননের পথ বেছে নেন। লাশ উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ব্যাপারে সদর থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বগুড়ায় মেসে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ

প্রকাশিত সময় : ১০:৩১:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জুলাই ২০২৫

বগুড়ায় তারিকুল ইসলাম তোহা (১৮) নামে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর ওড়নার সঙ্গে ফাঁস দেওয়া ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার সকালে শহরের সেউজগাড়ী পালপাড়ার স্বপ্ননীড় নামে ছাত্রাবাসের রুম থেকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।

প্রতিবেশী শিক্ষার্থীদের উদ্ধৃতি দিয়ে সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মাহফুজ আলম বলেছেন, প্রেমিকার ওপর অভিমান করে ওই ছাত্র আত্মহত্যা করেছে।

পুলিশ জানায়, তারিকুল ইসলাম তোহা বগুড়ার গাবতলী উপজেলার দুর্গাহাটা ইউনিয়নের সোলারতাইড় গ্রামের মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের ছেলে। তিনি বগুড়া শহরের সেউজগাড়ী পালপাড়ায় ইসকন মন্দিরের কাছে ‘স্বপ্ননীড়’ নামে ছাত্রাবাসে থাকতেন। তোহা করতোয়া মাল্টিমিডিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন।

সহপাঠী ও বন্ধুরা জানান, তারিকুল ইসলাম তোহা ওই ছাত্রাবাসের একটি রুম নিয়ে থাকতেন। তিনি একটি মেয়েকে ভালোবাসতেন। কয়েক দিন ধরে মেয়েটির সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি হয়। এর ধারাবাহিকতায় সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মোবাইল ফোনে মেয়েটির সঙ্গে তার ঝগড়া হয়। এরপর তিনি ছাত্রাবাসের রুমের দরজা বন্ধ করে দেন। তোহা কালো গেঞ্জি দিয়ে মুখ ঢেকে রুমের ছাদের তীরের সঙ্গে গলায় ওড়নার ফাঁস দেন।

এর আগে তিনি তার এক চাচাতো ভাইকে ফোন দিয়ে জানান, আত্মহত্যা করতে যাচ্ছেন। এছাড়া আত্মহত্যার প্রস্তুতির একটি ছবিও চাচাতো ভাইয়ের মেসেঞ্জারে পাঠান। তিনি বিষয়টি তোহার সাবেক রুমমেট সৈকতকে অবহিত করেন। এরপর সৈকত ফোনে বিষয়টি ছাত্রাবাসের মালিক লাবিবকে জানান। তখন লাবিব অন্যদের নিয়ে তোহার রুমের কাছে গিয়ে দেখেন দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। জানালা খুলে দেখেন ঘরের তীরের সঙ্গে তোহার লাশ ঝুলে আছে। খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে লাশটি উদ্ধার করে।

বগুড়া সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মাহফুজ আলম জানান, প্রাথমিক তদন্তে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী তারিকুল ইসলাম তোহা আত্মহত্যা করেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। লোকমুখে জানা গেছে, প্রেমিকার সঙ্গে অভিমান করেই ওই ছাত্র আত্মহননের পথ বেছে নেন। লাশ উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ব্যাপারে সদর থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।