সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

উপাচার্যের হাতে জুস পান করে অনশন ভাঙলেন ববির শিক্ষার্থীরা

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনশনস্থল যেন এক নাটকীয় দৃশ্যের সাক্ষী হল। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত শিক্ষার্থী টানা ২৪ ঘণ্টা আমরণ অনশন করছেন; তাদের সঙ্গে মশারি টাঙিয়ে রাত কাটালেন উপাচার্য নিজে। শিক্ষার্থীদের দিলেন দাবি পূরণের আশ্বাস। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি; দাবিতে অটল থাকেন তারা।

পরে শুক্রবার রাতে লিখিত প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পর উপাচার্যের হাতে জুস পান করে অনশন ভাঙেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবি ঘিরে এই আন্দোলনের সূচনা হয় বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টায়। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ইংরেজি, গণযোগাযোগ, দর্শন, রসায়ন, অ্যাকাউন্টিং ও আইন বিভাগের সাত শিক্ষার্থী অনশন করার ঘোষণা দেন। সেদিন মধ্যরাতে অনশনস্থলে হাজির হন উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ তৌফিক আলম।

অনশনের মঞ্চেই মশারি টাঙিয়ে শিক্ষার্থীদের পাশে ঘুমিয়ে পড়েন উপাচার্য।
ভোরে মশারির ভেতরে দেখা গেল শিক্ষার্থীদের পাশে শুয়ে আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ পদাধিকারী। তবে মৌখিক আশ্বাসে কাজ হয়নি, লিখিত প্রতিশ্রুতি ছাড়া উঠতে নারাজ অনশনকারীরা। অবশেষে শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ‘বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন রোডম্যাপ’ হাতে নিয়ে আবার উপস্থিত হন উপাচার্য।

চার দফা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন।
উপাচার্যের সই করা রোডম্যাপ চারটি দাবি পূরণ করার কথা বলা হয়েছে। সেগুলো হলো-

১. উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগ দিয়ে তার পর থেকে ছয় মাসের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শেষ করা।

২. আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে বিভিন্ন রুটে শিক্ষার্থীদের বাসের সিটের চাহিদা নির্ধারণ করে বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি করা।

৩. বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আরেকটি অ্যাম্বুলেন্স কেনার জন্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ছাড়পত্র পেতে আগামী রোববারের মধ্যে আবেদন জমা দেওয়া।

৪. ক্যাম্পাসের আয়তন আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে জমির পনর্মূল্যায়ন করা।

এই চার দাবি আদায়ে অনশনে বসেছিলেন শিক্ষার্থীরা। লিখিত আশ্বাসের পরে উপাচার্যের করজোড়ে করা অনুরোধে অনশনকারীরা রাজি হন। জুস হাতে নিয়ে উপাচার্য নিজেই একে একে খাইয়ে দিলেন শিক্ষার্থীদের।

শিক্ষার্থী গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুজয় শুভ বলেন, “উপাচার্য লিখিত রোডম্যাপ দিয়েছেন। তাঁর আশ্বাসে আমরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছি।”

শুক্রবার দুপুরে অসুস্থ হয়ে পড়া ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী শর্মিলা জামান সেঁজুতিকে তখনো স্যালাইন দেওয়া হচ্ছিল। রাত ঘনিয়ে আসতেই সেই দৃশ্য বদলে গেল; শিক্ষার্থী‌রা অনশন ভাঙল আর নিস্তব্ধতার ভেতর একপ্রকার স্বস্তি ফিরল ক্যাম্পাসে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর রাহাত হোসাইন ফয়সাল জানান, “আমাদের কর্মপরিকল্পনা শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয়েছে। তাঁরা এখন সুস্থ আছেন।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

উপাচার্যের হাতে জুস পান করে অনশন ভাঙলেন ববির শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত সময় : ১১:২২:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনশনস্থল যেন এক নাটকীয় দৃশ্যের সাক্ষী হল। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত শিক্ষার্থী টানা ২৪ ঘণ্টা আমরণ অনশন করছেন; তাদের সঙ্গে মশারি টাঙিয়ে রাত কাটালেন উপাচার্য নিজে। শিক্ষার্থীদের দিলেন দাবি পূরণের আশ্বাস। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি; দাবিতে অটল থাকেন তারা।

পরে শুক্রবার রাতে লিখিত প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পর উপাচার্যের হাতে জুস পান করে অনশন ভাঙেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবি ঘিরে এই আন্দোলনের সূচনা হয় বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টায়। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ইংরেজি, গণযোগাযোগ, দর্শন, রসায়ন, অ্যাকাউন্টিং ও আইন বিভাগের সাত শিক্ষার্থী অনশন করার ঘোষণা দেন। সেদিন মধ্যরাতে অনশনস্থলে হাজির হন উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ তৌফিক আলম।

অনশনের মঞ্চেই মশারি টাঙিয়ে শিক্ষার্থীদের পাশে ঘুমিয়ে পড়েন উপাচার্য।
ভোরে মশারির ভেতরে দেখা গেল শিক্ষার্থীদের পাশে শুয়ে আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ পদাধিকারী। তবে মৌখিক আশ্বাসে কাজ হয়নি, লিখিত প্রতিশ্রুতি ছাড়া উঠতে নারাজ অনশনকারীরা। অবশেষে শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ‘বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন রোডম্যাপ’ হাতে নিয়ে আবার উপস্থিত হন উপাচার্য।

চার দফা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন।
উপাচার্যের সই করা রোডম্যাপ চারটি দাবি পূরণ করার কথা বলা হয়েছে। সেগুলো হলো-

১. উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগ দিয়ে তার পর থেকে ছয় মাসের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শেষ করা।

২. আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে বিভিন্ন রুটে শিক্ষার্থীদের বাসের সিটের চাহিদা নির্ধারণ করে বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি করা।

৩. বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আরেকটি অ্যাম্বুলেন্স কেনার জন্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ছাড়পত্র পেতে আগামী রোববারের মধ্যে আবেদন জমা দেওয়া।

৪. ক্যাম্পাসের আয়তন আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে জমির পনর্মূল্যায়ন করা।

এই চার দাবি আদায়ে অনশনে বসেছিলেন শিক্ষার্থীরা। লিখিত আশ্বাসের পরে উপাচার্যের করজোড়ে করা অনুরোধে অনশনকারীরা রাজি হন। জুস হাতে নিয়ে উপাচার্য নিজেই একে একে খাইয়ে দিলেন শিক্ষার্থীদের।

শিক্ষার্থী গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুজয় শুভ বলেন, “উপাচার্য লিখিত রোডম্যাপ দিয়েছেন। তাঁর আশ্বাসে আমরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছি।”

শুক্রবার দুপুরে অসুস্থ হয়ে পড়া ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী শর্মিলা জামান সেঁজুতিকে তখনো স্যালাইন দেওয়া হচ্ছিল। রাত ঘনিয়ে আসতেই সেই দৃশ্য বদলে গেল; শিক্ষার্থী‌রা অনশন ভাঙল আর নিস্তব্ধতার ভেতর একপ্রকার স্বস্তি ফিরল ক্যাম্পাসে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর রাহাত হোসাইন ফয়সাল জানান, “আমাদের কর্মপরিকল্পনা শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয়েছে। তাঁরা এখন সুস্থ আছেন।”