শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ধর্ম গবেষণা সবার কাজ নয়

বর্তমানে আরবি ব্যাকরণের জ্ঞান ছাড়াই অনেকে কোরআন ও হাদিস বুঝতে চান। নতুন নতুন মুজতাহিদরা! প্রাথমিক স্তরের কয়েকটি কিতাব পড়ার পরই মিশকাত ও বুখারি শরিফের অনুবাদ আরম্ভ করে দেন। তাঁরা ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম শাফেয়ি (রহ.)-এর মতো মহান আলেমদের ব্যাপারে নানা প্রশ্ন উত্থাপন করতে শুরু করেন। যেমন এক মূর্খ বলেছে, হাদিসে এসেছে, খিদাজুন!, খিদাজুন!! (সুরা ফাতিহা ছাড়া নামাজ অকাল গর্ভপাততুল্য), অথচ হানাফি মাজহাবের লোকেরা বলে নামাজে সুরা ফাতিহা পড়া ফরজ নয়।

তারা হাদিসের অন্য নির্দেশনাগুলো পাঠ করে না। সত্যিই এটা এক বিচিত্র যুগ। এখন প্রত্যেক মূর্খই মুজতাহিদ। অবশ্য এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই।

বর্তমানে মুসলমানের কথা বাদই দিলাম, বহু ইংরেজও (অমুসলিম) ইসলাম বিষয়ে ইজতিহাদ শুরু করে দিয়েছে। রামপুরের এক ইংরেজ মুসলমানদের সম্বোধন করে বলছিল, কোরআন দ্বারা প্রমাণিত যে প্লেগ ছোঁয়াচে রোগ। কোরআনে উল্লেখ আছে—কোনো স্থানে প্লেগের প্রাদুর্ভাব হলে সেই স্থান ছেড়ে কোথাও যাওয়া যাবে না। এর সঙ্গে সে নিজের থেকে একটি কথা যোগ করে দেয়।
তা হলো যেতে নিষেধ করার কারণ—তাতে প্লেগ রোগ বিস্তার লাভ করে। এ জন্যই নিষেধ করা হয়েছে যেন এক স্থানের প্লেগ অন্য স্থানে ছড়িয়ে না পড়ে। ব্যাস, দাবি প্রমাণিত হলো। এই ইংরেজও নিজেকে ইসলাম ধর্মের মুজতাহিদ হওয়ার দাবি করত। কাজেই সে নিজের পক্ষ থেকে একটি বাক্য যোগ করে দিয়েছে।

এর থেকে আরো মারাত্মক হলো সনাতনী হিন্দুরাও ইসলামের মুজতাহিদ হতে আরম্ভ করেছে। কিছুদিন আগে একজন হিন্দু সম্পর্কে সংবাদপত্রে প্রকাশ হয়েছিল যে সে জেলখানায় কোরআন পাঠ করছে। উদ্দেশ্য, মুসলমানদের জন্য কর্মপন্থা ঠিক করে দেবে। অতঃপর সে জেলখানা থেকে বের হয়েই ফতোয়া জারি করল যে কোরআনের কোথাও গাভি জবাইয়ের নির্দেশ দেখলাম না। সুতরাং মুসলমানের উচিত এই কাজ বর্জন করা। তাই বর্তমানে কোনো মূর্খ মুসলমান যদি মুজতাহিদ হয়ে বসে তাতে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। এসব মূর্খতার কারণে ইনশাআল্লাহ ইসলামের কোনো ক্ষতি হবে না। কোনো একজন কবি বলেছেন, ‘সমগ্র ভূমণ্ডল একবারে বায়ুতে পরিণত হলেও আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের চেরাগ নিভবে না।’

কবি আরো বলেন, ‘খোদার প্রজ্বলিত প্রদীপ কেউ নেভাতে পারে না, বরং তা ফুৎকার প্রদানকারীর দাড়ি জ্বালিয়ে দেয়।’

ইসলাম যদি মানুষের আয়ত্তে হতো তবে তা বহু আগেই বিলুপ্ত হয়ে যেত। কেননা মূর্খ, এমনকি অবিশ্বাসীরাও মুজতাহিদ হওয়ার দাবি করছে। কিন্তু আল্লাহ ইসলাম সংরক্ষণের দায়িত্ব নিজে গ্রহণ করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আমি কোরআন অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণ করব। এ কারণেই মুসলিমরা ইসলাম প্রচারের ব্যাপারে মোটেই চিন্তা করে না। আল্লাহ নিজেই যেন তা নিয়ন্ত্রণ করছেন। অতএব, তারা আল্লাহর ওপর দায়িত্ব চাপিয়ে নিশ্চিন্তে বসে আছে। কিন্তু এত নিশ্চিন্ত থাকা ভালো কথা নয়। এতে ধর্মের কোনোই ক্ষতি হবে না, বরং আমাদেরই ক্ষতি হবে। কেননা আমরা ইসলামের সেবাকারীদের তালিকা থেকে বের হয়ে যাব।

মাওয়ায়েজে আশরাফিয়া থেকে মো. আবদুল মজিদ মোল্লার ভাষান্তর

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ধর্ম গবেষণা সবার কাজ নয়

প্রকাশিত সময় : ০৪:৩৬:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫

বর্তমানে আরবি ব্যাকরণের জ্ঞান ছাড়াই অনেকে কোরআন ও হাদিস বুঝতে চান। নতুন নতুন মুজতাহিদরা! প্রাথমিক স্তরের কয়েকটি কিতাব পড়ার পরই মিশকাত ও বুখারি শরিফের অনুবাদ আরম্ভ করে দেন। তাঁরা ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম শাফেয়ি (রহ.)-এর মতো মহান আলেমদের ব্যাপারে নানা প্রশ্ন উত্থাপন করতে শুরু করেন। যেমন এক মূর্খ বলেছে, হাদিসে এসেছে, খিদাজুন!, খিদাজুন!! (সুরা ফাতিহা ছাড়া নামাজ অকাল গর্ভপাততুল্য), অথচ হানাফি মাজহাবের লোকেরা বলে নামাজে সুরা ফাতিহা পড়া ফরজ নয়।

তারা হাদিসের অন্য নির্দেশনাগুলো পাঠ করে না। সত্যিই এটা এক বিচিত্র যুগ। এখন প্রত্যেক মূর্খই মুজতাহিদ। অবশ্য এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই।

বর্তমানে মুসলমানের কথা বাদই দিলাম, বহু ইংরেজও (অমুসলিম) ইসলাম বিষয়ে ইজতিহাদ শুরু করে দিয়েছে। রামপুরের এক ইংরেজ মুসলমানদের সম্বোধন করে বলছিল, কোরআন দ্বারা প্রমাণিত যে প্লেগ ছোঁয়াচে রোগ। কোরআনে উল্লেখ আছে—কোনো স্থানে প্লেগের প্রাদুর্ভাব হলে সেই স্থান ছেড়ে কোথাও যাওয়া যাবে না। এর সঙ্গে সে নিজের থেকে একটি কথা যোগ করে দেয়।
তা হলো যেতে নিষেধ করার কারণ—তাতে প্লেগ রোগ বিস্তার লাভ করে। এ জন্যই নিষেধ করা হয়েছে যেন এক স্থানের প্লেগ অন্য স্থানে ছড়িয়ে না পড়ে। ব্যাস, দাবি প্রমাণিত হলো। এই ইংরেজও নিজেকে ইসলাম ধর্মের মুজতাহিদ হওয়ার দাবি করত। কাজেই সে নিজের পক্ষ থেকে একটি বাক্য যোগ করে দিয়েছে।

এর থেকে আরো মারাত্মক হলো সনাতনী হিন্দুরাও ইসলামের মুজতাহিদ হতে আরম্ভ করেছে। কিছুদিন আগে একজন হিন্দু সম্পর্কে সংবাদপত্রে প্রকাশ হয়েছিল যে সে জেলখানায় কোরআন পাঠ করছে। উদ্দেশ্য, মুসলমানদের জন্য কর্মপন্থা ঠিক করে দেবে। অতঃপর সে জেলখানা থেকে বের হয়েই ফতোয়া জারি করল যে কোরআনের কোথাও গাভি জবাইয়ের নির্দেশ দেখলাম না। সুতরাং মুসলমানের উচিত এই কাজ বর্জন করা। তাই বর্তমানে কোনো মূর্খ মুসলমান যদি মুজতাহিদ হয়ে বসে তাতে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। এসব মূর্খতার কারণে ইনশাআল্লাহ ইসলামের কোনো ক্ষতি হবে না। কোনো একজন কবি বলেছেন, ‘সমগ্র ভূমণ্ডল একবারে বায়ুতে পরিণত হলেও আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের চেরাগ নিভবে না।’

কবি আরো বলেন, ‘খোদার প্রজ্বলিত প্রদীপ কেউ নেভাতে পারে না, বরং তা ফুৎকার প্রদানকারীর দাড়ি জ্বালিয়ে দেয়।’

ইসলাম যদি মানুষের আয়ত্তে হতো তবে তা বহু আগেই বিলুপ্ত হয়ে যেত। কেননা মূর্খ, এমনকি অবিশ্বাসীরাও মুজতাহিদ হওয়ার দাবি করছে। কিন্তু আল্লাহ ইসলাম সংরক্ষণের দায়িত্ব নিজে গ্রহণ করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আমি কোরআন অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণ করব। এ কারণেই মুসলিমরা ইসলাম প্রচারের ব্যাপারে মোটেই চিন্তা করে না। আল্লাহ নিজেই যেন তা নিয়ন্ত্রণ করছেন। অতএব, তারা আল্লাহর ওপর দায়িত্ব চাপিয়ে নিশ্চিন্তে বসে আছে। কিন্তু এত নিশ্চিন্ত থাকা ভালো কথা নয়। এতে ধর্মের কোনোই ক্ষতি হবে না, বরং আমাদেরই ক্ষতি হবে। কেননা আমরা ইসলামের সেবাকারীদের তালিকা থেকে বের হয়ে যাব।

মাওয়ায়েজে আশরাফিয়া থেকে মো. আবদুল মজিদ মোল্লার ভাষান্তর