শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীর ‘রিভিউ আবেদন’ নিয়ে যা জানা গেল

ধানক্ষেতে দাঁড়িয়ে ক্রিকেটের ভঙ্গিতে হাতে ‘রিভিউ’ ইঙ্গিত দিয়ে অভিনব প্রতিবাদে আলোচনায় এসেছেন ফেনী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও ফেনী-২ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী আলাল উদ্দিন আলাল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এই ছবি ঘিরে জেলাজুড়ে চলছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা।

শুক্রবার (৭ নভেম্বর) সকালে ধানক্ষেতে গিয়ে ‘রিভিউ’র ভঙ্গিতে ছবি তুলে নিজের ফেসবুক পেজে পোস্ট করেন আলাল। ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘নো ক্যাপশন।’ এরপর থেকেই স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকে তার সঙ্গে সংহতি জানালেও কেউ কেউ দলীয় সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আলাল উদ্দিন আলাল আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-২ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু গত ৩ নভেম্বর বিএনপি মহাসচিব ঘোষিত প্রার্থী তালিকায় তার নাম ছিল না। এরপরই তিনি মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবিতে প্রতীকী এই ‘রিভিউ আবেদন’ জানান।

এ বিষয়ে আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, “অহিংসভাবে দলের কাছে মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার আবেদন জানানোর উদ্দেশ্যেই এটি করেছি। প্রার্থী তালিকা এখনও চূড়ান্ত নয়, তাই আমরা রিভিউ চেয়েছি। এ প্রজন্মের প্রতিবাদের ভাষার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এটি করেছি।”

তিনি আরো বলেন, “একসময় ফেনীকে ‘লেবানন’ বা ‘মৃত্যুপুরী’ বলা হতো। এখন এখানকার প্রতিবাদের ধরনও বদলে গেছে সেই পরিবর্তনটাও ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি।”

এদিকে বিএনপির মনোনয়নকে ঘিরে ফেনী জেলা ইউনিটে দেখা দিয়েছে তীব্র বিরোধ। শুক্রবার বিকেলে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের র‍্যালি ও আলোচনা সভায় এই বিভাজন প্রকাশ্যে আসে।

প্রার্থী অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন র‍্যালিতে অংশ নিলে আলাল উদ্দিনসহ জেলা বিএনপির কয়েকজন শীর্ষ নেতা সরে যান। এতে নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে এবং নির্বাচনী মাঠে অনিশ্চয়তার ছায়া ঘনীভূত হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে।

ঐক্যের বার্তা নিয়ে শুক্রবার রাতে শহরের রামপুরে আলালের বাসায় যান অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন। তবে প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষার পরও আলালের সাক্ষাৎ না পেয়ে ফিরে যান তিনি।

দলীয় সূত্রে আরো জানা যায়, ফেনী-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মশিউর রহমান বিপ্লব, অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন খান, আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার, সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন, যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী হাবিব উল্লাহ মানিক ও আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারীসহ কয়েকজন নেতা। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি মতবিনিময় করেন।

এর আগে গত ৩ নভেম্বর বিকেলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ফেনীর তিনটি আসনের প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেন। এতে ফেনী-১ (ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া) বেগম খালেদা জিয়া, ফেনী-২ (সদর) অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন, ফেনী-৩ (দাগনভূঁঞা-সোনাগাজী) আবদুল আউয়াল মিন্টু মনোনয়ন পান।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীর ‘রিভিউ আবেদন’ নিয়ে যা জানা গেল

প্রকাশিত সময় : ০৫:৪৪:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫

ধানক্ষেতে দাঁড়িয়ে ক্রিকেটের ভঙ্গিতে হাতে ‘রিভিউ’ ইঙ্গিত দিয়ে অভিনব প্রতিবাদে আলোচনায় এসেছেন ফেনী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও ফেনী-২ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী আলাল উদ্দিন আলাল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এই ছবি ঘিরে জেলাজুড়ে চলছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা।

শুক্রবার (৭ নভেম্বর) সকালে ধানক্ষেতে গিয়ে ‘রিভিউ’র ভঙ্গিতে ছবি তুলে নিজের ফেসবুক পেজে পোস্ট করেন আলাল। ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘নো ক্যাপশন।’ এরপর থেকেই স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকে তার সঙ্গে সংহতি জানালেও কেউ কেউ দলীয় সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আলাল উদ্দিন আলাল আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-২ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু গত ৩ নভেম্বর বিএনপি মহাসচিব ঘোষিত প্রার্থী তালিকায় তার নাম ছিল না। এরপরই তিনি মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবিতে প্রতীকী এই ‘রিভিউ আবেদন’ জানান।

এ বিষয়ে আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, “অহিংসভাবে দলের কাছে মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার আবেদন জানানোর উদ্দেশ্যেই এটি করেছি। প্রার্থী তালিকা এখনও চূড়ান্ত নয়, তাই আমরা রিভিউ চেয়েছি। এ প্রজন্মের প্রতিবাদের ভাষার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এটি করেছি।”

তিনি আরো বলেন, “একসময় ফেনীকে ‘লেবানন’ বা ‘মৃত্যুপুরী’ বলা হতো। এখন এখানকার প্রতিবাদের ধরনও বদলে গেছে সেই পরিবর্তনটাও ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি।”

এদিকে বিএনপির মনোনয়নকে ঘিরে ফেনী জেলা ইউনিটে দেখা দিয়েছে তীব্র বিরোধ। শুক্রবার বিকেলে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের র‍্যালি ও আলোচনা সভায় এই বিভাজন প্রকাশ্যে আসে।

প্রার্থী অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন র‍্যালিতে অংশ নিলে আলাল উদ্দিনসহ জেলা বিএনপির কয়েকজন শীর্ষ নেতা সরে যান। এতে নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে এবং নির্বাচনী মাঠে অনিশ্চয়তার ছায়া ঘনীভূত হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে।

ঐক্যের বার্তা নিয়ে শুক্রবার রাতে শহরের রামপুরে আলালের বাসায় যান অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন। তবে প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষার পরও আলালের সাক্ষাৎ না পেয়ে ফিরে যান তিনি।

দলীয় সূত্রে আরো জানা যায়, ফেনী-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মশিউর রহমান বিপ্লব, অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন খান, আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার, সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন, যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী হাবিব উল্লাহ মানিক ও আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারীসহ কয়েকজন নেতা। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি মতবিনিময় করেন।

এর আগে গত ৩ নভেম্বর বিকেলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ফেনীর তিনটি আসনের প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেন। এতে ফেনী-১ (ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া) বেগম খালেদা জিয়া, ফেনী-২ (সদর) অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন, ফেনী-৩ (দাগনভূঁঞা-সোনাগাজী) আবদুল আউয়াল মিন্টু মনোনয়ন পান।