রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ছাত্রদের যৌন হয়রানির অভিযোগে আটক ঢাবি অধ্যাপক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. এরশাদ হালিমকে পুরুষ শিক্ষার্থীদের যৌনভাবে হয়রানির অভিযোগে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ১১টার দিকে শেওড়া পাড়ায় তার বাসায় অভিযান চালিয়ে মিরপুর মডেল থানার পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। বর্তমানে তাকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ জানান, ক্যাম্পাসের বাইরে বসবাসের কারণে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে নিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতির প্রয়োজন হয়নি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত রয়েছে।

সম্প্রতি রসায়ন বিভাগের কয়েকজন ছাত্র গণমাধ্যমে অভিযোগ করেন যে, পরীক্ষাসংক্রান্ত সমস্যার কথা বলে অধ্যাপক এরশাদ হালিম তাদের তার বাসায় যেতে বলতেন।

অভিযোগ রয়েছে—সেখানে তিনি রুমের আলো নিভিয়ে দরজা-জানালা বন্ধ করে বিভিন্ন অজুহাতে শিক্ষার্থীদের কাছে শারীরিক স্পর্শ দাবি করতেন, জোরপূর্বক শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিতেন এবং অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করতেন।

একজন শিক্ষার্থী জানান, তাকে পরীক্ষার সহায়তার আশ্বাস দিয়ে বাসায় ডেকে শারীরিকভাবে আক্রমণাত্মক আচরণ করা হয়। এমনকি ভয়ভীতি দেখিয়ে বিষয়টি গোপন রাখতে বাধ্য করার অভিযোগও রয়েছে। ঘটনার পর শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার কথাও জানান ওই ছাত্র।

আরেক শিক্ষার্থী জানান, পরীক্ষাসংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অধ্যাপক তাকে একাধিকবার বাসায় ডেকে নেন এবং ঘরে একা পেয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত শারীরিক স্পর্শ করেন। তিনি বাধা দিলে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হন বলে অভিযোগ করেন। এ ঘটনার পর তিনি স্বাভাবিকভাবে ক্লাসে অংশ নিতে পারছেন না।

একাধিক ভুক্তভোগীর বক্তব্য সামনে আসার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নিতে তদন্ত চলছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ছাত্রদের যৌন হয়রানির অভিযোগে আটক ঢাবি অধ্যাপক

প্রকাশিত সময় : ১১:৩৭:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. এরশাদ হালিমকে পুরুষ শিক্ষার্থীদের যৌনভাবে হয়রানির অভিযোগে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ১১টার দিকে শেওড়া পাড়ায় তার বাসায় অভিযান চালিয়ে মিরপুর মডেল থানার পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। বর্তমানে তাকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ জানান, ক্যাম্পাসের বাইরে বসবাসের কারণে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে নিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতির প্রয়োজন হয়নি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত রয়েছে।

সম্প্রতি রসায়ন বিভাগের কয়েকজন ছাত্র গণমাধ্যমে অভিযোগ করেন যে, পরীক্ষাসংক্রান্ত সমস্যার কথা বলে অধ্যাপক এরশাদ হালিম তাদের তার বাসায় যেতে বলতেন।

অভিযোগ রয়েছে—সেখানে তিনি রুমের আলো নিভিয়ে দরজা-জানালা বন্ধ করে বিভিন্ন অজুহাতে শিক্ষার্থীদের কাছে শারীরিক স্পর্শ দাবি করতেন, জোরপূর্বক শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিতেন এবং অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করতেন।

একজন শিক্ষার্থী জানান, তাকে পরীক্ষার সহায়তার আশ্বাস দিয়ে বাসায় ডেকে শারীরিকভাবে আক্রমণাত্মক আচরণ করা হয়। এমনকি ভয়ভীতি দেখিয়ে বিষয়টি গোপন রাখতে বাধ্য করার অভিযোগও রয়েছে। ঘটনার পর শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার কথাও জানান ওই ছাত্র।

আরেক শিক্ষার্থী জানান, পরীক্ষাসংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অধ্যাপক তাকে একাধিকবার বাসায় ডেকে নেন এবং ঘরে একা পেয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত শারীরিক স্পর্শ করেন। তিনি বাধা দিলে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হন বলে অভিযোগ করেন। এ ঘটনার পর তিনি স্বাভাবিকভাবে ক্লাসে অংশ নিতে পারছেন না।

একাধিক ভুক্তভোগীর বক্তব্য সামনে আসার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নিতে তদন্ত চলছে।