প্রথম ইনিংসের ব্যাটিংটাই বড় পার্থক্য তৈরি করে দিল দুই দলের। তা আংশিক সত্য। পুরোটা হলো, বাংলাদেশের স্পিন-জালে আটকা পড়েছে আয়ারল্যান্ড। বোলাররা টেস্ট ম্যাচ জেতায়। প্রতিপক্ষের ২০ উইকেট নিতে না পারলে যতই ভালো ব্যাটিং হোক না কেন ম্যাচ জয়ের সম্ভাবনা থাকে না। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তেমন কিছুই হলো।
আয়াল্যান্ডকে ২৮৬ রানে আটকে দেওয়ার পর বাংলাদেশ ৫৮৭ রান করে ৮ উইকেটে। ৩০১ রানে পিছিয়ে থেকে ব্যাটিংয়ে নেমে আয়ারল্যান্ড পারেনি ইনিংস ব্যবধানে হার এড়াতে। ইনিংস ও ৪৭ রানের দারুণ জয়ে দুই ম্যাচ সিরিজে এগিয়ে বাংলাদেশ। তাদের দ্বিতীয় ইনিংস থেমে যায় ২৫৪ রানে।
দুই ইনিংস মিলিয়ে আয়ারল্যান্ডের ২০ উইকেটের ১৪টি নিয়েছেন বাংলাদেশের তিন স্পিনার। আর বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের ৮ উইকেটের ৬টিই পেয়েছেন আইরিশ স্পিনাররা। বাংলাদেশ নিজেদের শক্তির জায়গা, স্পিনে ফাঁদ পেতেছিল। সেই স্পিনেই শেষ পর্যন্তই ধরাশয়ী আয়ারল্যান্ড। এমন না যে উইকেটে ব্যাটিং করা যায়নি। কিংবা ব্যাটসম্যানদের কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে। দিন যত গড়িয়েছে স্পিনাররা ততই সুবিধা পেয়েছে।
অভিষিক্ত হাসান মুরাদ প্রথম ইনিংসের ২ উইকেটের পর দ্বিতীয় ইনিংসে পেয়েছেন ৪ উইকেট। দুই ইনিংস মিলিয়ে তাইজুলের শিকার ৫টি। দ্বিতীয় ইনিংসে মেহেদী হাসান মিরাজ কোনো উইকেট না পেলেও প্রথম ইনিংসে ৩ উইকেট নিয়ে ছিলেন দলের সেরা। সব মিলিয়ে স্পিন আক্রমণে আয়ারল্যান্ডকে উড়তে দেয় বাংলাদেশ।

গতকাল তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পেতে থাকে বাংলাদেশ। ৫ উইকেটে ৮৬ রানে দিনের খেলা শুরু করে অতিথিরা। মাথায় ছিল ইনিংস হার এড়ানোর বোঝা। আগের দিন শেষ বিকেলে যে লড়াইটা তারা করতে পারেনি, আজ প্রায় তিন ঘণ্টার লড়াইয়ে তা পেরেছিল। পরাজয় অনুমিতই ছিল। তবুও শেষ ৫ উইকেট হাতে রেখে আজ ১৬৮ রান যোগ করতে পারে।
দিনের শুরুতে তাইজুল সাফল্য এনে দেন। তার বল স্লগ সুইপ করতে গিয়ে টপ এজ হয়ে শর্ট ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে সাদমানের হাতে ক্যাচ দেন হামফ্রিজ। এরপর সপ্তম উইকেটে জুটি বাঁধেন অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইন ও অ্যান্ডি বালবিরনি। প্রতি আক্রমণে গিয়ে খুব সহজেই ব্যাটিং করেন তারা। মুরাদ বোলিংয়ে এসে এই জুটি ভাঙেন। তার সোজা বল স্লগ করতে গিয়ে এলডিব্লিউ হন আইরিশ অধিনায়ক। বালবিরনি ৬৩ বল খেলে ৫টি চারে ৩৮ রানে লড়াকু ইনিংস খেলে যান।
সকালের সেশনে বাংলাদেশের সাফল্য ২ উইকেট। দ্বিতীয় সেশনে ফিরে বাকি ৩ উইকেট নিয়ে জয়ের কাজ সারেন স্পিনাররা। হাসান মুরাদ আবার আক্রমণ করে ফেরান ম্যাকব্রাইনকে। এরপর তার শিকার জর্ডান নীল। নবম উইকেটে জর্ডান নীল ও ব্যারি ম্যাকার্থি ৫৬ বলে ৫৪ রানের জুটি গড়েন। তাতে আড়াইশ পেরিয়ে যায় আয়ারল্যান্ডের রান।
মনে হচ্ছিল, ইনিংস পরাজয় এড়িয়ে যাবেন তারা। কিন্তু তাইজুল ম্যাকার্থিকে থামিয়ে দিলে সব আশা শেষ হয়ে যায়। ২৭ বলে ২টি চার ও ১ ছক্কায় ২৫ রান করে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন। ওখানেই শেষ হয়ে যায় আয়ারল্যান্ডের প্রতিরোধ।
প্রথম ইনিংসে ১৭১ রান করে ম্যাচ সেরা হয়েছেন মাহমুদুল হাসান জয়।
সিরিজে বাংলাদেশ এগিয়ে ১-০ ব্যবধানে। ১৯ নভেম্বরে মিরপুরে শুরু হবে দ্বিতীয় টেস্ট। যেই ম্যাচ দিয়ে মুশফিকুর রহিম ক্যারিয়ারের শততম টেস্ট খেলবেন।

ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম ডেস্ক 

























