মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘৭ জানুয়ারির মধ্যে হাদি হত্যার চার্জশিট দাখিল’

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যা মামলার চার্জশিট আগামী ৭ জানুয়ারির মধ্যেই দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

স্বরাষ্ট্র সচিব বলেন, “হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। কিছু বিষয় পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ৭ জানুয়ারির মধ্যেই আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে।”

তিনি আরো জানান, তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে এবং আইনগত দিকগুলো যাচাই-বাছাই করেই চূড়ান্ত চার্জশিট দাখিল করা হবে।

সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি।

এর আগে গত ২৮ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছিলেন, বছরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে এই মামলার চার্জশিট দেওয়া হবে।

জুলাই অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পান হাদি। তিনি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হন তিনি। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে নেওয়া হয় এভারকেয়ার হাসপাতালে। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর ওসমান হাদিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুর জেনারেল হসপিটালে (এসজিএইচ) নেওয়া হয়। সেখানেই ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলাটি দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলাটিতে ৩০২ ধারা যুক্ত হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন-মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা হুমায়ুন কবির এবং মা হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা ও শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু, রেন্ট-এ কার ব্যবসায়ী মুফতি মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, ফয়সালের সহযোগী মো. কবির, ‘ভারতে পালাতে’ সহযোগিতাকারী সিবিউন দিউ ও সঞ্জয় চিসিম।

তদন্তে নেমে দুটি বিদেশি পিস্তল, ৫২ রাউন্ড গুলি, মোটরসাইকেল ও ভুয়া নম্বর প্লেট এবং ৫৩টি অ্যাকাউন্টের বিপরীতে ২১৮ কোটি টাকার চেক উদ্ধারের কথাও জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

‘৭ জানুয়ারির মধ্যে হাদি হত্যার চার্জশিট দাখিল’

প্রকাশিত সময় : ০৪:১০:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যা মামলার চার্জশিট আগামী ৭ জানুয়ারির মধ্যেই দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

স্বরাষ্ট্র সচিব বলেন, “হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। কিছু বিষয় পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ৭ জানুয়ারির মধ্যেই আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে।”

তিনি আরো জানান, তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে এবং আইনগত দিকগুলো যাচাই-বাছাই করেই চূড়ান্ত চার্জশিট দাখিল করা হবে।

সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি।

এর আগে গত ২৮ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছিলেন, বছরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে এই মামলার চার্জশিট দেওয়া হবে।

জুলাই অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পান হাদি। তিনি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হন তিনি। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে নেওয়া হয় এভারকেয়ার হাসপাতালে। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর ওসমান হাদিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুর জেনারেল হসপিটালে (এসজিএইচ) নেওয়া হয়। সেখানেই ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলাটি দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলাটিতে ৩০২ ধারা যুক্ত হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন-মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা হুমায়ুন কবির এবং মা হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা ও শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু, রেন্ট-এ কার ব্যবসায়ী মুফতি মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, ফয়সালের সহযোগী মো. কবির, ‘ভারতে পালাতে’ সহযোগিতাকারী সিবিউন দিউ ও সঞ্জয় চিসিম।

তদন্তে নেমে দুটি বিদেশি পিস্তল, ৫২ রাউন্ড গুলি, মোটরসাইকেল ও ভুয়া নম্বর প্লেট এবং ৫৩টি অ্যাকাউন্টের বিপরীতে ২১৮ কোটি টাকার চেক উদ্ধারের কথাও জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার।