মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ওবায়দুল কাদেরসহ সাবেক ১৩ সচিবের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

ভারতের কলকাতায় অবস্থান করা সাবেক সড়ক পরিবহন এবং সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও ১৩ সচিবের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

‎মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দিয়েছেন।

‎‎ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের নামে অধিগ্রহণ করা জমিতে বেআইনিভাবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণ ও দীর্ঘমেয়াদি লিজ দেওয়া সংক্রান্ত দুর্নীতির মামলায় এ আদেশ দিয়েছেন আদালত।

‎‎দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া অপর আসামিরা হলেন-সেতু বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সাবেক সচিব নজরুল ইসলাম, জননিরাপত্তা বিভাগের সাবেক সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন, সাবেক বিদ্যুৎ সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব আবদুল জলিল, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ড. জাফর আহমেদ খান, সাবেক সিএএজি ও সোনালী ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, সংসদ বিষয়ক বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ শহিদুল হক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সমন্বয়ক মিজ জুয়েনা আজিজ, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মোফাজ্জেল হোসেন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সাবেক সিনিয়র সচিব কাজী শফিকুল আযম, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব আখতার হোসেন ভূঁইয়া এবং জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের সাবেক সচিব ও এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম।

‎‎মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুককের সহকারি পরিচালক খোরশেদ আলম তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন।

‎‎আবেদনে বলা হয়, ওবায়দুল কাদেরসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের দুটি সভায় উপস্থিত থেকে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি পরিপন্থীভাবে একে অন্যের যোগসাজশে তাদের ওপর ন্যাস্ত সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজেরা লাভবান হয়ে এবং অন্যকে লাভবান করার অসৎ উদ্দেশ্যে প্রতারণামূলকভাবে সরকারি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট জমিতে ব্যক্তি স্বার্থে ফ্ল্যাট নির্মাণ সংক্রান্ত প্রকল্প অনুমোদন করে। নির্মিতব্য ফ্ল্যাট বরাদ্দ নীতিমালা প্রণয়ন ও নীতি বহির্ভূতভাবে অনুমোদন করে এবং অনুমোদিত নীতিমালা গেজেট বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ না করে তার আলোকে ফ্ল্যাট বরাদ্দের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে অপরাধ করায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি বর্তমানে তদান্তাধীন।

তদন্তকালে জানা যায়, আসামিরা সপরিবারে দেশত্যাগ করে অন্য দেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তারা বিদেশে পালিয়ে গেলে তদন্ত কার্যক্রম দীর্ঘায়িত বা ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন।

‎গত ৮ ডিসেম্বর দুদকের সহকারী পরিচালক খোরশেদ আলম মামলাটি করেন।

‎‎মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রকল্পের ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ৪০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হলেও পরবর্তীতে তা বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য দপ্তরের কর্মচারীদের জন্য ৯৯ বছরের লিজে আবাসন নির্মাণে ব্যবহার করা হয়। নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ভূমি অধিগ্রহণ আইন-২০১৭ এর ১৯(১) ধারা অনুযায়ী ভূমি মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমোদন ছাড়াই এই কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে, যা আইনবহির্ভূত।

‎‎এ ছাড়া বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ আইন-২০১৬ এর ধারা ১৩(২) অনুযায়ী শুধুমাত্র অস্থায়ী ইজারা প্রদানের বিধান থাকলেও কর্তৃপক্ষের ১০৬ ও ১০৭তম বোর্ড সভায় ‘বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তর ও প্রকল্পের স্থায়ী কর্মচারীদের জন্য নির্মিতব্য ফ্ল্যাট দীর্ঘমেয়াদি লিজ প্রদান সংক্রান্ত নীতিমালা-২০১৮’ অনুমোদন করা হয়। এই নীতিমালা প্রণয়নে সরকারি গেজেট প্রকাুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ওবায়দুল কাদেরসহ সাবেক ১৩ সচিবের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশিত সময় : ০৫:০২:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

ভারতের কলকাতায় অবস্থান করা সাবেক সড়ক পরিবহন এবং সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও ১৩ সচিবের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

‎মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দিয়েছেন।

‎‎ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের নামে অধিগ্রহণ করা জমিতে বেআইনিভাবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণ ও দীর্ঘমেয়াদি লিজ দেওয়া সংক্রান্ত দুর্নীতির মামলায় এ আদেশ দিয়েছেন আদালত।

‎‎দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া অপর আসামিরা হলেন-সেতু বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সাবেক সচিব নজরুল ইসলাম, জননিরাপত্তা বিভাগের সাবেক সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন, সাবেক বিদ্যুৎ সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব আবদুল জলিল, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ড. জাফর আহমেদ খান, সাবেক সিএএজি ও সোনালী ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, সংসদ বিষয়ক বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ শহিদুল হক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সমন্বয়ক মিজ জুয়েনা আজিজ, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মোফাজ্জেল হোসেন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সাবেক সিনিয়র সচিব কাজী শফিকুল আযম, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব আখতার হোসেন ভূঁইয়া এবং জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের সাবেক সচিব ও এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম।

‎‎মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুককের সহকারি পরিচালক খোরশেদ আলম তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন।

‎‎আবেদনে বলা হয়, ওবায়দুল কাদেরসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের দুটি সভায় উপস্থিত থেকে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি পরিপন্থীভাবে একে অন্যের যোগসাজশে তাদের ওপর ন্যাস্ত সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজেরা লাভবান হয়ে এবং অন্যকে লাভবান করার অসৎ উদ্দেশ্যে প্রতারণামূলকভাবে সরকারি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট জমিতে ব্যক্তি স্বার্থে ফ্ল্যাট নির্মাণ সংক্রান্ত প্রকল্প অনুমোদন করে। নির্মিতব্য ফ্ল্যাট বরাদ্দ নীতিমালা প্রণয়ন ও নীতি বহির্ভূতভাবে অনুমোদন করে এবং অনুমোদিত নীতিমালা গেজেট বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ না করে তার আলোকে ফ্ল্যাট বরাদ্দের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে অপরাধ করায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি বর্তমানে তদান্তাধীন।

তদন্তকালে জানা যায়, আসামিরা সপরিবারে দেশত্যাগ করে অন্য দেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তারা বিদেশে পালিয়ে গেলে তদন্ত কার্যক্রম দীর্ঘায়িত বা ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন।

‎গত ৮ ডিসেম্বর দুদকের সহকারী পরিচালক খোরশেদ আলম মামলাটি করেন।

‎‎মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রকল্পের ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ৪০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হলেও পরবর্তীতে তা বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য দপ্তরের কর্মচারীদের জন্য ৯৯ বছরের লিজে আবাসন নির্মাণে ব্যবহার করা হয়। নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ভূমি অধিগ্রহণ আইন-২০১৭ এর ১৯(১) ধারা অনুযায়ী ভূমি মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমোদন ছাড়াই এই কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে, যা আইনবহির্ভূত।

‎‎এ ছাড়া বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ আইন-২০১৬ এর ধারা ১৩(২) অনুযায়ী শুধুমাত্র অস্থায়ী ইজারা প্রদানের বিধান থাকলেও কর্তৃপক্ষের ১০৬ ও ১০৭তম বোর্ড সভায় ‘বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তর ও প্রকল্পের স্থায়ী কর্মচারীদের জন্য নির্মিতব্য ফ্ল্যাট দীর্ঘমেয়াদি লিজ প্রদান সংক্রান্ত নীতিমালা-২০১৮’ অনুমোদন করা হয়। এই নীতিমালা প্রণয়নে সরকারি গেজেট প্রকাুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।