সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাবাকে আইডল মেনে যা বললেন নবীপুত্র ইসাখিল

ক্রিকেট ইতিহাসের বিরল এক অধ্যায়ের সাক্ষী হলো বিপিএল। কোনো শীর্ষ পর্যায়ের টি-টোয়েন্টি লিগে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে ব্যাট করলেন বাবা ও ছেলে—মোহাম্মদ নবী ও হাসান ইসাখিল। সেই বিশেষ ম্যাচেই নিজের জাত চেনালেন ইসাখিল, খেললেন ম্যাচ জয়ী ইনিংস।

রোববার (১১ জানুয়ারি) ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের হয়ে ৯২ রান করেন ইসাখিল। প্রথমবার দেশের বাইরে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ ম্যাচ খেললেন তিনি। নোয়াখালী তাদের ২০তম খেলোয়াড়কে নিয়ে বাজিমাত করল। ম্যাচ শেষে প্রত্যাশিতভাবে সংবাদ সম্মেলনে আসেন ইসাখিল। এসে জানান, বাবা তার আইডল হলেও তাকে কপি করেন না।

যদিও ইসাখিলের মাঝে বাবার ছায়া বেশ স্পষ্ট। নবীর মতোই তিনিও ব্যাটের বেশ নিচের দিকে গ্রিপ ধরেন এবং তার ব্যাটিংয়ে দাঁড়ানোর ভঙ্গিটি বেশ সাবলীল। বলের বাউন্স পুরোপুরি হওয়ার আগেই শট খেলার প্রতি তার ঝোঁকও বেশ লক্ষণীয় ছিল। যদিও তিনি স্কয়ার কাট এবং ফ্লিক শট খেলার মাধ্যমেই তার ইনিংস শুরু করেছিলেন। এছাড়া তার একটি পুল শট নবীর ব্যাটিংয়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। তার আইডল কে এমন প্রশ্নের জবাবে কোনো কিছু না ভেবেই ইসাখিল বললেন, ‘আমার বাবা’।

ইসাখিল বলেন, ‘আমি আমার ব্যাটিং দেখিনি। আমি কপি করিনি। আমার বন্ধুরাও বলে তুমি তোমার বাবাকে কপি করছো। তবে এটা স্বাভাবিকভাবেই চলে আসে। আমাদের বন্ডিং বন্ধুর মতো। আমরা ক্রিকেট নিয়ে সবই শেয়ার করি।’

বাবা অলরাউন্ডার হলেও ইসাখিল কেন সেদিকে ঝুঁকলেন না, বিষয়টি খোলাসা করলেন তিনি, ‘আমি বল করতে পছন্দ করি না। আমার ফোকাস ব্যাটিংয়ের দিকেই। আমি দুই আড়াই ঘণ্টা ব্যাট করে যেতে পারব। আমরা বিপিএলে ভালো ভালো স্মৃতি তৈরি করছি। বাড়িতে প্র্যাকটিসেও আমাকে সহায়তা করেন, আমিও উনাকে করি।’

বাবার হাত ধরে জাতীয় দলে খেলতে চাওয়া ইসাখিল বললেন, ‘হ্যাঁ, আমি আগে এভাবে কখনো সংবাদমাধ্যমে কথা বলতে আসিনি। আমি মনোযোগ রেখেছিলাম ক্রিকেট আর ক্যারিয়ারেই। কোনো সাক্ষাৎকার দিতাম না। হ্যাঁ এটা আমার স্বপ্ন, বাবার সাথে জাতীয় দলে খেলব। এজন্য কঠোর পরিশ্রম করছি, ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো করার চেষ্টা করছি।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বাবাকে আইডল মেনে যা বললেন নবীপুত্র ইসাখিল

প্রকাশিত সময় : ১০:৫৩:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

ক্রিকেট ইতিহাসের বিরল এক অধ্যায়ের সাক্ষী হলো বিপিএল। কোনো শীর্ষ পর্যায়ের টি-টোয়েন্টি লিগে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে ব্যাট করলেন বাবা ও ছেলে—মোহাম্মদ নবী ও হাসান ইসাখিল। সেই বিশেষ ম্যাচেই নিজের জাত চেনালেন ইসাখিল, খেললেন ম্যাচ জয়ী ইনিংস।

রোববার (১১ জানুয়ারি) ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের হয়ে ৯২ রান করেন ইসাখিল। প্রথমবার দেশের বাইরে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ ম্যাচ খেললেন তিনি। নোয়াখালী তাদের ২০তম খেলোয়াড়কে নিয়ে বাজিমাত করল। ম্যাচ শেষে প্রত্যাশিতভাবে সংবাদ সম্মেলনে আসেন ইসাখিল। এসে জানান, বাবা তার আইডল হলেও তাকে কপি করেন না।

যদিও ইসাখিলের মাঝে বাবার ছায়া বেশ স্পষ্ট। নবীর মতোই তিনিও ব্যাটের বেশ নিচের দিকে গ্রিপ ধরেন এবং তার ব্যাটিংয়ে দাঁড়ানোর ভঙ্গিটি বেশ সাবলীল। বলের বাউন্স পুরোপুরি হওয়ার আগেই শট খেলার প্রতি তার ঝোঁকও বেশ লক্ষণীয় ছিল। যদিও তিনি স্কয়ার কাট এবং ফ্লিক শট খেলার মাধ্যমেই তার ইনিংস শুরু করেছিলেন। এছাড়া তার একটি পুল শট নবীর ব্যাটিংয়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। তার আইডল কে এমন প্রশ্নের জবাবে কোনো কিছু না ভেবেই ইসাখিল বললেন, ‘আমার বাবা’।

ইসাখিল বলেন, ‘আমি আমার ব্যাটিং দেখিনি। আমি কপি করিনি। আমার বন্ধুরাও বলে তুমি তোমার বাবাকে কপি করছো। তবে এটা স্বাভাবিকভাবেই চলে আসে। আমাদের বন্ডিং বন্ধুর মতো। আমরা ক্রিকেট নিয়ে সবই শেয়ার করি।’

বাবা অলরাউন্ডার হলেও ইসাখিল কেন সেদিকে ঝুঁকলেন না, বিষয়টি খোলাসা করলেন তিনি, ‘আমি বল করতে পছন্দ করি না। আমার ফোকাস ব্যাটিংয়ের দিকেই। আমি দুই আড়াই ঘণ্টা ব্যাট করে যেতে পারব। আমরা বিপিএলে ভালো ভালো স্মৃতি তৈরি করছি। বাড়িতে প্র্যাকটিসেও আমাকে সহায়তা করেন, আমিও উনাকে করি।’

বাবার হাত ধরে জাতীয় দলে খেলতে চাওয়া ইসাখিল বললেন, ‘হ্যাঁ, আমি আগে এভাবে কখনো সংবাদমাধ্যমে কথা বলতে আসিনি। আমি মনোযোগ রেখেছিলাম ক্রিকেট আর ক্যারিয়ারেই। কোনো সাক্ষাৎকার দিতাম না। হ্যাঁ এটা আমার স্বপ্ন, বাবার সাথে জাতীয় দলে খেলব। এজন্য কঠোর পরিশ্রম করছি, ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো করার চেষ্টা করছি।’