শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শীতের দিনে ঘরেই বানান এই মিষ্টি, পছন্দ করবে ছোট-বড় সবাই

শীতের দিন মানেই নানা রকম পিঠা আর খাবারের সিজন। এই সিজনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে নানা রকম ঐতিহ্যবাহী খাবার, পিঠা ও মিষ্টি। শীতের এই সময়ে সকাল বা সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বসে এসব খাবার খাওয়ার আনন্দই আলাদা।

এই সময়ে আমাদের বাড়িতে অনেক রকম খাবারই তৈরি হয়।

তার মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে গুড়ের মালপুয়া। এটি যেমন সুস্বাদু, তেমনই গুড় ব্যবহারের কারণে তুলনামূলক স্বাস্থ্যকরও।
এই সময়ে সাধারণত তিল, গুড় ও দুধজাত খাবারের বিশেষ গুরুত্ব থাকে। গুড় শরীর গরম রাখে, হজমে সাহায্য করে এবং শীতকালে শক্তি জোগায়।

তাই এই সময়ে চিনি নয়, গুড় দিয়ে তৈরি মিষ্টিই বেশি জনপ্রিয়। গুড়ের মালপুয়া সেই ঐতিহ্যকেই আরো সুন্দরভাবে ধরে রাখে। বাইরে থেকে কেনা মিষ্টির তুলনায় ঘরে তৈরি মালপুয়ায় থাকে পরিচ্ছন্নতা, যত্ন এবং ভালোবাসার স্বাদ।

এই মালপুয়া বানানোর জন্য খুব বেশি উপকরণ বা সময়ের প্রয়োজন নেই।

ময়দা, গুড়, মৌরি আর এলাচ—এই কয়েকটি উপাদানেই তৈরি হয়ে যায় অসাধারণ স্বাদের মিষ্টি। প্রথমে গুড় অল্প পানিতে গুলে নিতে হয়, যাতে কোনো অমেধ্য না থাকে। এরপর একটি পাত্রে ময়দা নিয়ে সেই গুড়ের পানি মিশিয়ে ধীরে ধীরে ব্যাটার তৈরি করা হয়। ব্যাটার এমন হওয়া দরকার যাতে তা খুব ঘন বা খুব পাতলা না হয়, কারণ এতে মালপুয়া ভাজার সময় সুন্দরভাবে ফুলে উঠবে।
ব্যাটারে মৌরি ও এলাচ গুঁড়া যোগ করলে মালপুয়ার ঘ্রাণ এবং স্বাদ আরো বেড়ে যায়।

মৌরি হজমে সাহায্য করে এবং এলাচ মিষ্টিতে এক বিশেষ সুগন্ধ আনে। সব উপকরণ ভালোভাবে মিশিয়ে ব্যাটারটি কিছুক্ষণ রেখে দিলে ময়দা ভালোভাবে সেট হয়ে যায় এবং মালপুয়া নরম হয়। এই ছোট্ট ধাপটাই মালপুয়াকে আরো পারফেক্ট করে তোলে।

এরপর কড়াই বা প্যানে তেল ভালোভাবে গরম করে চামচ বা হাত দিয়ে ব্যাটার তেলে ছাড়া হয়। মাঝারি আঁচে ধীরে ধীরে ভাজলে মালপুয়া ভেতর থেকে নরম এবং বাইরে থেকে হালকা খাস্তা হয়। রং সোনালি বাদামি হয়ে এলে বুঝতে হবে মালপুয়া তৈরি। চাইলে এগুলো রাবড়ি, দুধের সঙ্গে অথবা শুধু এমনভাবেই পরিবেশন করা যায়।

শীতের সন্ধ্যায় পরিবারের সবাই একসঙ্গে বসে এই গুড়ের মালপুয়া খেলে শীতের আমেজ আরো দ্বিগুণ হয়। বাচ্চারা এর মিষ্টি স্বাদে খুশি হয়, আর বড়রা পছন্দ করেন এর ঐতিহ্যবাহী ঘরোয়া ফ্লেভার। এটি শুধু একটি মিষ্টি নয়, বরং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসা উৎসবের আবেগের অংশ।

উত্তরায়ণের দিনে বাজারের কৃত্রিম মিষ্টি এড়িয়ে এই ঘরে তৈরি গুড়ের মালপুয়া বানালে উৎসব হবে আরো অর্থবহ। কম সময়ে, কম উপকরণে তৈরি এই মিষ্টি আপনার শীতের আমেজকে করে তুলবে আরো বিশেষ, আরো স্মরণীয়।

সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

শীতের দিনে ঘরেই বানান এই মিষ্টি, পছন্দ করবে ছোট-বড় সবাই

প্রকাশিত সময় : ০৩:৪৪:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

শীতের দিন মানেই নানা রকম পিঠা আর খাবারের সিজন। এই সিজনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে নানা রকম ঐতিহ্যবাহী খাবার, পিঠা ও মিষ্টি। শীতের এই সময়ে সকাল বা সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বসে এসব খাবার খাওয়ার আনন্দই আলাদা।

এই সময়ে আমাদের বাড়িতে অনেক রকম খাবারই তৈরি হয়।

তার মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে গুড়ের মালপুয়া। এটি যেমন সুস্বাদু, তেমনই গুড় ব্যবহারের কারণে তুলনামূলক স্বাস্থ্যকরও।
এই সময়ে সাধারণত তিল, গুড় ও দুধজাত খাবারের বিশেষ গুরুত্ব থাকে। গুড় শরীর গরম রাখে, হজমে সাহায্য করে এবং শীতকালে শক্তি জোগায়।

তাই এই সময়ে চিনি নয়, গুড় দিয়ে তৈরি মিষ্টিই বেশি জনপ্রিয়। গুড়ের মালপুয়া সেই ঐতিহ্যকেই আরো সুন্দরভাবে ধরে রাখে। বাইরে থেকে কেনা মিষ্টির তুলনায় ঘরে তৈরি মালপুয়ায় থাকে পরিচ্ছন্নতা, যত্ন এবং ভালোবাসার স্বাদ।

এই মালপুয়া বানানোর জন্য খুব বেশি উপকরণ বা সময়ের প্রয়োজন নেই।

ময়দা, গুড়, মৌরি আর এলাচ—এই কয়েকটি উপাদানেই তৈরি হয়ে যায় অসাধারণ স্বাদের মিষ্টি। প্রথমে গুড় অল্প পানিতে গুলে নিতে হয়, যাতে কোনো অমেধ্য না থাকে। এরপর একটি পাত্রে ময়দা নিয়ে সেই গুড়ের পানি মিশিয়ে ধীরে ধীরে ব্যাটার তৈরি করা হয়। ব্যাটার এমন হওয়া দরকার যাতে তা খুব ঘন বা খুব পাতলা না হয়, কারণ এতে মালপুয়া ভাজার সময় সুন্দরভাবে ফুলে উঠবে।
ব্যাটারে মৌরি ও এলাচ গুঁড়া যোগ করলে মালপুয়ার ঘ্রাণ এবং স্বাদ আরো বেড়ে যায়।

মৌরি হজমে সাহায্য করে এবং এলাচ মিষ্টিতে এক বিশেষ সুগন্ধ আনে। সব উপকরণ ভালোভাবে মিশিয়ে ব্যাটারটি কিছুক্ষণ রেখে দিলে ময়দা ভালোভাবে সেট হয়ে যায় এবং মালপুয়া নরম হয়। এই ছোট্ট ধাপটাই মালপুয়াকে আরো পারফেক্ট করে তোলে।

এরপর কড়াই বা প্যানে তেল ভালোভাবে গরম করে চামচ বা হাত দিয়ে ব্যাটার তেলে ছাড়া হয়। মাঝারি আঁচে ধীরে ধীরে ভাজলে মালপুয়া ভেতর থেকে নরম এবং বাইরে থেকে হালকা খাস্তা হয়। রং সোনালি বাদামি হয়ে এলে বুঝতে হবে মালপুয়া তৈরি। চাইলে এগুলো রাবড়ি, দুধের সঙ্গে অথবা শুধু এমনভাবেই পরিবেশন করা যায়।

শীতের সন্ধ্যায় পরিবারের সবাই একসঙ্গে বসে এই গুড়ের মালপুয়া খেলে শীতের আমেজ আরো দ্বিগুণ হয়। বাচ্চারা এর মিষ্টি স্বাদে খুশি হয়, আর বড়রা পছন্দ করেন এর ঐতিহ্যবাহী ঘরোয়া ফ্লেভার। এটি শুধু একটি মিষ্টি নয়, বরং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসা উৎসবের আবেগের অংশ।

উত্তরায়ণের দিনে বাজারের কৃত্রিম মিষ্টি এড়িয়ে এই ঘরে তৈরি গুড়ের মালপুয়া বানালে উৎসব হবে আরো অর্থবহ। কম সময়ে, কম উপকরণে তৈরি এই মিষ্টি আপনার শীতের আমেজকে করে তুলবে আরো বিশেষ, আরো স্মরণীয়।

সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস