বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দিলেই স্বৈরতন্ত্রের অবসান হবে না : বদিউল আলম

স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার কাঠামো ব্যবহার করেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দানবে পরিণত হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।

তিনি বলেন, এই কাঠামো যদি বহাল থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে যে-ই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তার স্বৈরাচারী হয়ে ওঠার সম্ভাবনা থেকেই যাবে।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে রংপুরের আরডিআরএস বেগম রোকেয়া মিলনায়তনে আয়োজিত ‘গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী আকাঙ্ক্ষা, সংস্কার ও নির্বাচনী ইশতেহার’ শীর্ষক বিভাগীয় কর্মশালায় এসব কথা বলেন তিনি।

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, শেখ হাসিনা ট্যাংকে চড়ে ক্ষমতায় আসেননি, উড়ে-পড়ে ক্ষমতায় আসেননি।

তিনি ক্ষমতায় এসে সংবিধান বাতিলও করেননি। কিন্তু পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের আমূল পরিবর্তন করে সেটিকে কার্যত পুনর্লিখন করেছেন। এই স্বৈরাচারী কাঠামোর মধ্য দিয়েই তিনি দানবে পরিণত হয়েছেন।
সুজন সম্পাদক বলেন, ধরুন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ উত্তর এলো এবং সংস্কারগুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্তও হলো, তারপরও আমরা পুরোপুরি স্বৈরতন্ত্র থেকে মুক্ত হব—এ নিশ্চয়তা নেই।

বিষয়টি অনেকাংশে নির্ভর করে আমাদের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর।
তিনি আরো বলেন, রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন না হলে সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক উত্তরণ কেবল কাগজেই থেকে যাবে। আমরা যদি গণতান্ত্রিক আচরণ না করি, তাহলে নির্বাচন যতই হোক না কেন, তা সুষ্ঠু হবে না।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আমি আশা করি ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এর কোনো বিকল্প নেই। একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দিলেই স্বৈরতন্ত্রের অবসান হবে না : বদিউল আলম

প্রকাশিত সময় : ০৯:০৪:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার কাঠামো ব্যবহার করেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দানবে পরিণত হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।

তিনি বলেন, এই কাঠামো যদি বহাল থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে যে-ই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তার স্বৈরাচারী হয়ে ওঠার সম্ভাবনা থেকেই যাবে।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে রংপুরের আরডিআরএস বেগম রোকেয়া মিলনায়তনে আয়োজিত ‘গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী আকাঙ্ক্ষা, সংস্কার ও নির্বাচনী ইশতেহার’ শীর্ষক বিভাগীয় কর্মশালায় এসব কথা বলেন তিনি।

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, শেখ হাসিনা ট্যাংকে চড়ে ক্ষমতায় আসেননি, উড়ে-পড়ে ক্ষমতায় আসেননি।

তিনি ক্ষমতায় এসে সংবিধান বাতিলও করেননি। কিন্তু পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের আমূল পরিবর্তন করে সেটিকে কার্যত পুনর্লিখন করেছেন। এই স্বৈরাচারী কাঠামোর মধ্য দিয়েই তিনি দানবে পরিণত হয়েছেন।
সুজন সম্পাদক বলেন, ধরুন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ উত্তর এলো এবং সংস্কারগুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্তও হলো, তারপরও আমরা পুরোপুরি স্বৈরতন্ত্র থেকে মুক্ত হব—এ নিশ্চয়তা নেই।

বিষয়টি অনেকাংশে নির্ভর করে আমাদের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর।
তিনি আরো বলেন, রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন না হলে সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক উত্তরণ কেবল কাগজেই থেকে যাবে। আমরা যদি গণতান্ত্রিক আচরণ না করি, তাহলে নির্বাচন যতই হোক না কেন, তা সুষ্ঠু হবে না।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আমি আশা করি ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এর কোনো বিকল্প নেই। একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর।