শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রবাসী নারীকে বিয়ের ফাঁদে ফেলে দেড় কোটি টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ১

ফেসবুকের ‘ম্যারেজ মিডিয়া’ পেজে পরিচয়। বিশ্বাস অর্জনে ভিডিও কলে হাজির করতেন মা ও বোনকে। এরপর দূরদেশেই সম্পন্ন হয় বিয়ে। কিন্তু এই বিয়েই কাল হলো এক আমেরিকা প্রবাসী বাংলাদেশি নারীর।

ব্ল্যাকমেল করে ওই নারীর কাছ থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার মার্কিন ডলার হাতিয়ে নেওয়া মো. সালাউদ্দিন (২৯) নামের এক পেশাদার প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসিম উদ্দিন খান এই তথ্য জানান।

সিআইডি জানায়, গতকাল ২০ জানুয়ারি চট্টগ্রামের লোহাগাড়া এলাকায় আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় সালাউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার সালাউদ্দিন সাতকানিয়া থানার ছমদর পাড়ার বাসিন্দা।

প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, সালাউদ্দিন নিজেকে ‘নাদিম আহমেদ সুমন’ পরিচয় দিয়ে কানাডা প্রবাসী ও বিপত্নীক হিসেবে ফেসবুক ম্যারেজ মিডিয়া পেজ ‘BCCB Matrimonial: Heavenly Match’–এর মাধ্যমে ওই নারীর সঙ্গে পরিচিত হন। বিশ্বাস অর্জনের জন্য ভিডিও কলে নিজের মা ও বোন পরিচয়ে আরও দুজনকে উপস্থাপন করেন তিনি।

পরবর্তীতে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর আমেরিকায় যাওয়ার কথা বলে ওই নারীর কাছ থেকে ধারাবাহিকভাবে আর্থিক সহায়তা নিতে থাকেন অভিযুক্ত সালাউদ্দিন। একপর্যায়ে ভিডিও কলে কৌশলে ওই নারীর আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ব্ল্যাকমেল শুরু করেন। এভাবে বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও বিকাশের মাধ্যমে ভুক্তভোগী নারীর কাছ থেকে আনুমানিক ১ লাখ ২৫ হাজার মার্কিন ডলার আত্মসাৎ করা হয়, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৫৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর ভাই বাদী হয়ে মিরপুর মডেল থানায় একটি মামলা করেন। মামলাটি সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার তদন্ত শুরু করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে সালাউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। তার দেওয়া তথ্যে ঘটনায় ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও সিম আলামত হিসেবে উদ্ধার করা হয়েছে।

সিআইডি আরও জানায়, সালাউদ্দিন একজন অভ্যাসগত প্রতারক। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন যে, প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ জন নারীর সঙ্গে একই কৌশলে তিনি প্রতারণা করেছেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে ডিএমপির মোহাম্মদপুর থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়েরকৃত মামলায় অভিযোগপত্র দাখিলের তথ্য পাওয়া গেছে।

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন সিআইডির ওই কর্মকর্তা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

প্রবাসী নারীকে বিয়ের ফাঁদে ফেলে দেড় কোটি টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ১

প্রকাশিত সময় : ০৯:৪৪:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

ফেসবুকের ‘ম্যারেজ মিডিয়া’ পেজে পরিচয়। বিশ্বাস অর্জনে ভিডিও কলে হাজির করতেন মা ও বোনকে। এরপর দূরদেশেই সম্পন্ন হয় বিয়ে। কিন্তু এই বিয়েই কাল হলো এক আমেরিকা প্রবাসী বাংলাদেশি নারীর।

ব্ল্যাকমেল করে ওই নারীর কাছ থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার মার্কিন ডলার হাতিয়ে নেওয়া মো. সালাউদ্দিন (২৯) নামের এক পেশাদার প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসিম উদ্দিন খান এই তথ্য জানান।

সিআইডি জানায়, গতকাল ২০ জানুয়ারি চট্টগ্রামের লোহাগাড়া এলাকায় আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় সালাউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার সালাউদ্দিন সাতকানিয়া থানার ছমদর পাড়ার বাসিন্দা।

প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, সালাউদ্দিন নিজেকে ‘নাদিম আহমেদ সুমন’ পরিচয় দিয়ে কানাডা প্রবাসী ও বিপত্নীক হিসেবে ফেসবুক ম্যারেজ মিডিয়া পেজ ‘BCCB Matrimonial: Heavenly Match’–এর মাধ্যমে ওই নারীর সঙ্গে পরিচিত হন। বিশ্বাস অর্জনের জন্য ভিডিও কলে নিজের মা ও বোন পরিচয়ে আরও দুজনকে উপস্থাপন করেন তিনি।

পরবর্তীতে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর আমেরিকায় যাওয়ার কথা বলে ওই নারীর কাছ থেকে ধারাবাহিকভাবে আর্থিক সহায়তা নিতে থাকেন অভিযুক্ত সালাউদ্দিন। একপর্যায়ে ভিডিও কলে কৌশলে ওই নারীর আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ব্ল্যাকমেল শুরু করেন। এভাবে বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও বিকাশের মাধ্যমে ভুক্তভোগী নারীর কাছ থেকে আনুমানিক ১ লাখ ২৫ হাজার মার্কিন ডলার আত্মসাৎ করা হয়, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৫৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর ভাই বাদী হয়ে মিরপুর মডেল থানায় একটি মামলা করেন। মামলাটি সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার তদন্ত শুরু করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে সালাউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। তার দেওয়া তথ্যে ঘটনায় ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও সিম আলামত হিসেবে উদ্ধার করা হয়েছে।

সিআইডি আরও জানায়, সালাউদ্দিন একজন অভ্যাসগত প্রতারক। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন যে, প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ জন নারীর সঙ্গে একই কৌশলে তিনি প্রতারণা করেছেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে ডিএমপির মোহাম্মদপুর থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়েরকৃত মামলায় অভিযোগপত্র দাখিলের তথ্য পাওয়া গেছে।

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন সিআইডির ওই কর্মকর্তা।