রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘শেখ হাসিনার ভাষণ বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি’

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতে বসে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে ‘উসকানিমূলক’ বক্তব্য দিতে দেওয়ায় বিস্ময় ও হতাশা প্রকাশ করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।হাসিনার বক্তব্য ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি’ বলে দাবি করা হয়েছে। গত শুক্রবার নয়াদিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার রেকর্ড করা অডিও ভাষণের প্রেক্ষাপটে আজ এক বিবৃতিতে এর নিন্দা জানাল সরকার।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাত করার এবং আসন্ন নির্বাচনকে ব্যাহত করার জন্য আওয়ামী লীগের সমর্থকদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করার জন্য মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত ও পলাতক শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লিতে প্রকাশ্যে যে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তাতে বাংলাদেশের সরকার বিস্মিত ও হতাশ হয়েছে।’

শুক্রবার নয়াদিল্লিতে ‘সেভ ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ’ অর্থাৎ ‘বাংলাদেশে গণতন্ত্র বাঁচাও’ শীর্ষক এক সেমিনারে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন আওয়ামী লীগের নেতারা। সেখানেই দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার অডিও ভাষণটি শোনানো হয়।

ওই অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেছে, যার অন্যতম হলো জাতিসংঘকে আমন্ত্রণ করে বিগত বছরের ঘটনাবলির ‘নিরপেক্ষ তদন্তের’ দাবি, যাতে, তাদের ভাষায়, ‘খাঁটি সত্যটা’ জানা যায়।

এ ছাড়া আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন, মব সন্ত্রাসের সংস্কৃতি, সংখ্যালঘু এবং বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মী আর সাংবাদিকদের ওপরে আক্রমণ ইত্যাদি বিষয় তুলে ধরা হয় ‘বিশ্বের নজরে’ আনার জন্য। বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের সপ্তাহ দুয়েক আগে পরপর দুই সপ্তাহে ভারতের রাজধানী শহরে আওয়ামী লীগ নেতাদের দুটি সংবাদ সম্মেলনে আসেন আওয়ামী লীগের নেতারা।

এসব প্রসঙ্গ টেনে রোববার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘দুই দেশের মধ্যে থাকা দ্বিপাক্ষিক প্রত্যাপর্ণ চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের সরকার বারবার অনুরোধ করার পরেও ভারত শেখ হাসিনাকে হস্তান্তর করেনি, যা বাংলাদেশকে গভীরভাবে ক্ষুব্ধ করেছে। বরং ভারত তাকে নিজেদের মাটিতে বসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এ রকম উসকানিমূূলক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে। এটা পরিষ্কারভাবে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ, শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি।’

ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ভারতের রাজধানীতে বসে এ রকম বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া দুই দেশের সম্পর্কের জন্য অন্তরায়। বিশেষ করে সার্বভৌমত্বের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, অন্য দেশের বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং প্রতিবেশীসুলভ আচরণ নয়। এর ফলে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ভবিষ্যৎ সম্পর্ককে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘আওয়ামী লীগ নেতাদের দেওয়া এ রকম উসকানিমূলক বক্তব্য আবারও প্রমাণ করেছে যে—কেন অন্তর্বর্তী সরকার দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। নির্বাচনের আগে এবং নির্বাচনের দিন সংঘটিত সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য তাদের দায়ী করা হবে এবং তাদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

‘শেখ হাসিনার ভাষণ বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি’

প্রকাশিত সময় : ০৯:৫১:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতে বসে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে ‘উসকানিমূলক’ বক্তব্য দিতে দেওয়ায় বিস্ময় ও হতাশা প্রকাশ করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।হাসিনার বক্তব্য ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি’ বলে দাবি করা হয়েছে। গত শুক্রবার নয়াদিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার রেকর্ড করা অডিও ভাষণের প্রেক্ষাপটে আজ এক বিবৃতিতে এর নিন্দা জানাল সরকার।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাত করার এবং আসন্ন নির্বাচনকে ব্যাহত করার জন্য আওয়ামী লীগের সমর্থকদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করার জন্য মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত ও পলাতক শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লিতে প্রকাশ্যে যে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তাতে বাংলাদেশের সরকার বিস্মিত ও হতাশ হয়েছে।’

শুক্রবার নয়াদিল্লিতে ‘সেভ ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ’ অর্থাৎ ‘বাংলাদেশে গণতন্ত্র বাঁচাও’ শীর্ষক এক সেমিনারে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন আওয়ামী লীগের নেতারা। সেখানেই দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার অডিও ভাষণটি শোনানো হয়।

ওই অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেছে, যার অন্যতম হলো জাতিসংঘকে আমন্ত্রণ করে বিগত বছরের ঘটনাবলির ‘নিরপেক্ষ তদন্তের’ দাবি, যাতে, তাদের ভাষায়, ‘খাঁটি সত্যটা’ জানা যায়।

এ ছাড়া আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন, মব সন্ত্রাসের সংস্কৃতি, সংখ্যালঘু এবং বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মী আর সাংবাদিকদের ওপরে আক্রমণ ইত্যাদি বিষয় তুলে ধরা হয় ‘বিশ্বের নজরে’ আনার জন্য। বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের সপ্তাহ দুয়েক আগে পরপর দুই সপ্তাহে ভারতের রাজধানী শহরে আওয়ামী লীগ নেতাদের দুটি সংবাদ সম্মেলনে আসেন আওয়ামী লীগের নেতারা।

এসব প্রসঙ্গ টেনে রোববার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘দুই দেশের মধ্যে থাকা দ্বিপাক্ষিক প্রত্যাপর্ণ চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের সরকার বারবার অনুরোধ করার পরেও ভারত শেখ হাসিনাকে হস্তান্তর করেনি, যা বাংলাদেশকে গভীরভাবে ক্ষুব্ধ করেছে। বরং ভারত তাকে নিজেদের মাটিতে বসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এ রকম উসকানিমূূলক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে। এটা পরিষ্কারভাবে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ, শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি।’

ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ভারতের রাজধানীতে বসে এ রকম বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া দুই দেশের সম্পর্কের জন্য অন্তরায়। বিশেষ করে সার্বভৌমত্বের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, অন্য দেশের বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং প্রতিবেশীসুলভ আচরণ নয়। এর ফলে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ভবিষ্যৎ সম্পর্ককে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘আওয়ামী লীগ নেতাদের দেওয়া এ রকম উসকানিমূলক বক্তব্য আবারও প্রমাণ করেছে যে—কেন অন্তর্বর্তী সরকার দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। নির্বাচনের আগে এবং নির্বাচনের দিন সংঘটিত সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য তাদের দায়ী করা হবে এবং তাদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’