মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জালিমকে আড়চোখে তাকানোর সুযোগ দেওয়া হবে না : জামায়াত আমির

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জালিমকে আড়চোখে তাকানোর সুযোগ দেওয়া হবে না। কোথাও মায়েদের প্রতি কেউ অশালীন আচরণ করলে ছেড়ে দেব না। নারীদের বেইজ্জত করার কথা শুনলেই তা প্রতিরোধে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য যুবকদের প্রতি আহŸান জানান তিনি।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় সাতক্ষীরা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একদিকে ফ্যামিলি কার্ড দিবেন আর অন্যদিকে মায়েদের গায়ে হাত দিবেন-এ কেমন ফ্যামিলি কার্ড। আমরা যুবকদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দিয়ে তাদের অপমান করতে চাই না। আমরা যুবকদের দক্ষ কর্মী হিসেবে গড়ে তুলে তাদের হাতে মর্যাদার কাজ তুলে চাই। ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের কাজের পারিশ্রমিকও হবে আলাদা।

সবার প্রতি সুবিচার করা হবে। ন্যায্যতার ভিত্তিতে ইনসাফ কায়েম হবে, ইনশাআল­াহ। একমাত্র জামায়াত ক্ষমতায় আসলেই দেশ ঠিক হবে। দিস ইজ রিয়েলিটি অব বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারিতে দুটি ভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। একটি হলো গণভোট, আরেকটি সাধারণ নির্বাচন। এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, আর ‘না’ মানে গোলামি। ইনশাল­াহ, এ দেশের মানুষ আজাদি চায়। আমাদের যুবসমাজ আজাদি চায়।

বুক পেতে দিয়ে তারা লড়াই করে প্রমাণ করেছে, অন্যায়, দানবীয় শক্তি কিংবা আধিপত্যবাদের কাছে বাংলাদেশের যুবসমাজ কখনোই মাথা নত করবে না।
নারীদের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, আল­াহ যদি জনগণের ভোটের মাধ্যমে সেবা করার সুযোগ দেন, তাহলে ইনশাআল­াহ সেই আমানতের ঋণ পরিশোধে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। নারীদের চলাফেরা, কর্মস্থলে মর্যাদা এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।জামায়াত আমির বলেন, বিগত দিনে উন্নয়নে দেশের মধ্যে একমাত্র সাতক্ষীরার সঙ্গে বিমাতাসুলভ আচরণ করা হয়েছে। এ জেলায় সবচেয়ে বেশী মানুষের ওপর গুম-খুনসহ বিভিন্ন অত্যাচার করা হয়েছে। ক্ষমতায় গেলে সাতক্ষীরায় জলাবদ্ধতা, রাস্তাঘাটসহ সকল উন্নয়ন আলোচনার মাধ্যমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করা হবে। আমরা ক্ষমতায় গেলে প্রতিশোধের রাজনীতি ছেড়ে ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে দেশ গড়ব।

শফিকুর রহমান বলেন, আপনাদের ভালোবাসার সন্তান ক্রিকেটার মুস্তাফিজকে মিথ্যা অজুহাতে ভারতে খেলতে দেওয়া হয়নি। ক্রীড়াঙ্গনে এটা একটি নজিরবিহীন ইতিহাস। আমরা প্রতিবেশীদের সঙ্গেও উত্তম আচরণ করতে চাই। একই সঙ্গে তাদের কাছ থেকে উত্তম আচরণও আশা করি।

তিনি আরও বলেন, আমরা দেশপ্রেমের নজির রাখতে চাই। একমাত্র আল­াহ ছাড়া আমরা আর কাউকে প্রভু মানব না। ক্ষমতায় গেলে চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট ভেঙে চুরমার করে দেব। ১৮ কোটি মানুষের পাশে থাকব।

বক্তব্য শেষে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সাতক্ষীরার ৪টি সংসদীয় আসনের ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। সাতক্ষীরা-১ আসনে জামায়াতের নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. ইজ্জতুল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, সাতক্ষীরা-৩ হাফেজ রবিউল বাশার, সাতক্ষীরা-৪ গাজী নজরুল ইসলামের হাতে নির্বাচনী প্রতীক দাঁড়িপাল­া তুলে দিয়ে উপস্থিত সবাইকে তাদের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহŸান জানান।

সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, জেলা জামায়াত ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি জোটভুক্ত শরিক দলগুলোর নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জালিমকে আড়চোখে তাকানোর সুযোগ দেওয়া হবে না : জামায়াত আমির

প্রকাশিত সময় : ০৫:২৩:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জালিমকে আড়চোখে তাকানোর সুযোগ দেওয়া হবে না। কোথাও মায়েদের প্রতি কেউ অশালীন আচরণ করলে ছেড়ে দেব না। নারীদের বেইজ্জত করার কথা শুনলেই তা প্রতিরোধে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য যুবকদের প্রতি আহŸান জানান তিনি।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় সাতক্ষীরা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একদিকে ফ্যামিলি কার্ড দিবেন আর অন্যদিকে মায়েদের গায়ে হাত দিবেন-এ কেমন ফ্যামিলি কার্ড। আমরা যুবকদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দিয়ে তাদের অপমান করতে চাই না। আমরা যুবকদের দক্ষ কর্মী হিসেবে গড়ে তুলে তাদের হাতে মর্যাদার কাজ তুলে চাই। ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের কাজের পারিশ্রমিকও হবে আলাদা।

সবার প্রতি সুবিচার করা হবে। ন্যায্যতার ভিত্তিতে ইনসাফ কায়েম হবে, ইনশাআল­াহ। একমাত্র জামায়াত ক্ষমতায় আসলেই দেশ ঠিক হবে। দিস ইজ রিয়েলিটি অব বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারিতে দুটি ভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। একটি হলো গণভোট, আরেকটি সাধারণ নির্বাচন। এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, আর ‘না’ মানে গোলামি। ইনশাল­াহ, এ দেশের মানুষ আজাদি চায়। আমাদের যুবসমাজ আজাদি চায়।

বুক পেতে দিয়ে তারা লড়াই করে প্রমাণ করেছে, অন্যায়, দানবীয় শক্তি কিংবা আধিপত্যবাদের কাছে বাংলাদেশের যুবসমাজ কখনোই মাথা নত করবে না।
নারীদের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, আল­াহ যদি জনগণের ভোটের মাধ্যমে সেবা করার সুযোগ দেন, তাহলে ইনশাআল­াহ সেই আমানতের ঋণ পরিশোধে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। নারীদের চলাফেরা, কর্মস্থলে মর্যাদা এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।জামায়াত আমির বলেন, বিগত দিনে উন্নয়নে দেশের মধ্যে একমাত্র সাতক্ষীরার সঙ্গে বিমাতাসুলভ আচরণ করা হয়েছে। এ জেলায় সবচেয়ে বেশী মানুষের ওপর গুম-খুনসহ বিভিন্ন অত্যাচার করা হয়েছে। ক্ষমতায় গেলে সাতক্ষীরায় জলাবদ্ধতা, রাস্তাঘাটসহ সকল উন্নয়ন আলোচনার মাধ্যমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করা হবে। আমরা ক্ষমতায় গেলে প্রতিশোধের রাজনীতি ছেড়ে ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে দেশ গড়ব।

শফিকুর রহমান বলেন, আপনাদের ভালোবাসার সন্তান ক্রিকেটার মুস্তাফিজকে মিথ্যা অজুহাতে ভারতে খেলতে দেওয়া হয়নি। ক্রীড়াঙ্গনে এটা একটি নজিরবিহীন ইতিহাস। আমরা প্রতিবেশীদের সঙ্গেও উত্তম আচরণ করতে চাই। একই সঙ্গে তাদের কাছ থেকে উত্তম আচরণও আশা করি।

তিনি আরও বলেন, আমরা দেশপ্রেমের নজির রাখতে চাই। একমাত্র আল­াহ ছাড়া আমরা আর কাউকে প্রভু মানব না। ক্ষমতায় গেলে চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট ভেঙে চুরমার করে দেব। ১৮ কোটি মানুষের পাশে থাকব।

বক্তব্য শেষে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সাতক্ষীরার ৪টি সংসদীয় আসনের ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। সাতক্ষীরা-১ আসনে জামায়াতের নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. ইজ্জতুল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, সাতক্ষীরা-৩ হাফেজ রবিউল বাশার, সাতক্ষীরা-৪ গাজী নজরুল ইসলামের হাতে নির্বাচনী প্রতীক দাঁড়িপাল­া তুলে দিয়ে উপস্থিত সবাইকে তাদের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহŸান জানান।

সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, জেলা জামায়াত ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি জোটভুক্ত শরিক দলগুলোর নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।