শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

উদ্ধার হওয়া ৭৫টি হারানো মোবাইল ফোন মালিকদের হাতে দিল আরএমপি

  • রায়হান রোহানঃ
  • প্রকাশিত সময় : ০৩:৩৫:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৭৯

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) সাইবার ক্রাইম ইউনিটের প্রযুক্তিগত সহায়তায় উদ্ধার হওয়া হারানো মোবাইল ফোন প্রকৃত মালিকদের নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে।

রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দপ্তরের সভাকক্ষে সাইবার ক্রাইম ইউনিটের উদ্যোগে এ হস্তান্তর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার ড. মো. জিল্লুর রহমান।

আরএমপি’র সাইবার ক্রাইম ইউনিট আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় মোট ৭৫টি হারানো মোবাইল ফোন শনাক্ত ও উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এসব মোবাইল ফোন রাজশাহী মহানগরী ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হারিয়ে গিয়েছিল। সংশ্লিষ্ট থানায় দায়েরকৃত সাধারণ ডায়েরির ভিত্তিতে প্রযুক্তিগত অনুসন্ধান চালিয়ে মোবাইল ফোনগুলো শনাক্ত ও উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ কমিশনার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোনগুলো প্রকৃত মালিকদের হাতে তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পুলিশ কমিশনার ড. মো. জিল্লুর রহমান মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে উপস্থিতদের অবহিত করেন। তিনি মাদকসহ যেকোনো ধরনের অপরাধ সংক্রান্ত বিষয়ে নাগরিকদের কাছ থেকে তথ্য সহযোগিতা কামনা করেন। সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য পেলে পুলিশ দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এ জন্য আরএমপি’র ফেসবুক পেজ, হটলাইন নম্বর ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগাযোগ নম্বর চালু রয়েছে বলে জানান তিনি।

পুলিশ কমিশনার অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, সন্তান কোথায় যায়, কী করে, কার সঙ্গে চলাফেরা করে, নিয়মিত স্কুল-কলেজে যাচ্ছে কি না এবং ঠিকভাবে লেখাপড়া করছে কি না—এসব বিষয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা প্রয়োজন, যাতে কোনোভাবেই সন্তান মাদক বা যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে।

তিনি আরও বলেন, যেসব পিতা-মাতা মাদকাসক্ত, তাদের সন্তানের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে মাদক থেকে দূরে সরে আসা উচিত। সন্তানকে সুশিক্ষা দিতে পারলে এবং সঠিকভাবে লেখাপড়ার সুযোগ করে দিলে সে সমাজে সম্মানজনক অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।

মোবাইল ফোন ফেরত পাওয়া মালিকরা রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের এ উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাদের মতে, এই জনবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রমের মাধ্যমে শুধু হারানো মোবাইল ফোনই উদ্ধার হয়নি, বরং পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়েছে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) (চলতি দায়িত্বে) মো. ফারুক হোসেন, উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) ও অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ খোরশেদ আলম, পিপিএমসহ আরএমপির ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাবৃন্দ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

উদ্ধার হওয়া ৭৫টি হারানো মোবাইল ফোন মালিকদের হাতে দিল আরএমপি

প্রকাশিত সময় : ০৩:৩৫:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) সাইবার ক্রাইম ইউনিটের প্রযুক্তিগত সহায়তায় উদ্ধার হওয়া হারানো মোবাইল ফোন প্রকৃত মালিকদের নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে।

রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দপ্তরের সভাকক্ষে সাইবার ক্রাইম ইউনিটের উদ্যোগে এ হস্তান্তর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার ড. মো. জিল্লুর রহমান।

আরএমপি’র সাইবার ক্রাইম ইউনিট আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় মোট ৭৫টি হারানো মোবাইল ফোন শনাক্ত ও উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এসব মোবাইল ফোন রাজশাহী মহানগরী ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হারিয়ে গিয়েছিল। সংশ্লিষ্ট থানায় দায়েরকৃত সাধারণ ডায়েরির ভিত্তিতে প্রযুক্তিগত অনুসন্ধান চালিয়ে মোবাইল ফোনগুলো শনাক্ত ও উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ কমিশনার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোনগুলো প্রকৃত মালিকদের হাতে তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পুলিশ কমিশনার ড. মো. জিল্লুর রহমান মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে উপস্থিতদের অবহিত করেন। তিনি মাদকসহ যেকোনো ধরনের অপরাধ সংক্রান্ত বিষয়ে নাগরিকদের কাছ থেকে তথ্য সহযোগিতা কামনা করেন। সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য পেলে পুলিশ দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এ জন্য আরএমপি’র ফেসবুক পেজ, হটলাইন নম্বর ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগাযোগ নম্বর চালু রয়েছে বলে জানান তিনি।

পুলিশ কমিশনার অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, সন্তান কোথায় যায়, কী করে, কার সঙ্গে চলাফেরা করে, নিয়মিত স্কুল-কলেজে যাচ্ছে কি না এবং ঠিকভাবে লেখাপড়া করছে কি না—এসব বিষয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা প্রয়োজন, যাতে কোনোভাবেই সন্তান মাদক বা যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে।

তিনি আরও বলেন, যেসব পিতা-মাতা মাদকাসক্ত, তাদের সন্তানের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে মাদক থেকে দূরে সরে আসা উচিত। সন্তানকে সুশিক্ষা দিতে পারলে এবং সঠিকভাবে লেখাপড়ার সুযোগ করে দিলে সে সমাজে সম্মানজনক অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।

মোবাইল ফোন ফেরত পাওয়া মালিকরা রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের এ উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাদের মতে, এই জনবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রমের মাধ্যমে শুধু হারানো মোবাইল ফোনই উদ্ধার হয়নি, বরং পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়েছে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) (চলতি দায়িত্বে) মো. ফারুক হোসেন, উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) ও অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ খোরশেদ আলম, পিপিএমসহ আরএমপির ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাবৃন্দ।