সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভোটের টানে বাড়ি ফিরছেন কর্মজীবীরা

ঢাকা থেকে ভোট দিতে নিজ নিজ এলাকায় ছুটছেন মানুষ। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই রাজধানীর গুলিস্তান ও ফুলবাড়িয়া এলাকায় দেখা গেছে ঘরে ফেরা মানুষের ভিড়।

গুলিস্তানের একটি বাস কাউন্টারে অপেক্ষায় ছিলেন বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম। ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন প্রায় ১৫ বছর ধরে। রফিকুল ইসলাম বলেন,  ‘‘টানা চার দিনের ছুটি পেয়েছি। অনেক দিন পর মনে হচ্ছে নিজের ভোটটা নিজে দিতে পারব। সত্যি বলতে কী, ঈদের মতোই লাগছে।’’

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারি চাকরিজীবীরা টানা চার দিনের ছুটি পেয়েছেন। বেসরকারি খাতেও অনেক প্রতিষ্ঠান তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে। এই সুযোগেই ঢাকায় কর্মরত লাখো মানুষ নিজ নিজ এলাকার পথে গ্রামের পথে রওনা হচ্ছেন।

ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনালে দেখা যায়, দক্ষিণাঞ্চলগামী বাসগুলো একের পর এক যাত্রী তুলছে। ফরিদপুরগামী একটি বাসে উঠছিলেন মাদারীপুর সদর উপজেলার ভোটার সাইফুল হক। তিনি বলেন, ‘‘আগের দুই নির্বাচনে ভোট দিতে গিয়ে হতাশ হয়েছি। কেন্দ্রে গিয়ে দেখেছি ভোট দেওয়া হয়ে গেছে। এবার পরিস্থিতি বদলেছে বলে মনে হচ্ছে। মানুষ এখন নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে চায়।’’

তার মতো আরও অনেকের সঙ্গে কথা বলে একই ধরনের প্রত্যাশার কথা শোনা গেছে। দীর্ঘ সময় পর জাতীয় নির্বাচন নিয়ে মানুষের মধ্যে আগ্রহ, উত্তেজনা আর আশা সবকিছুই যেন একসঙ্গে ফিরে এসেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, গুলিস্তান-ফুলবাড়িয়া এলাকায় বরিশাল, মাদারীপুর ও ফরিদপুর রুটের বাসগুলোতে সকাল থেকেই তীব্র যাত্রীর চাপ। অনেক যাত্রী পরিবার নিয়ে যাচ্ছেন, আবার কেউ কেউ একাই রওনা হয়েছেন। বাস কাউন্টারগুলোতে লম্বা সিরিয়াল, তবে শৃঙ্খলা বজায় রেখেই টিকিট বিক্রি হচ্ছে।

প্রচেষ্টা পরিবহনের কাউন্টার কর্মী আবির হোসেন বলেন, ‘‘আজ সকাল থেকে যাত্রী চাপ অনেক বেশি। বিশেষ করে বরিশাল ও ফরিদপুর রুটে কোনো আসন ফাঁকা নেই। তারপরও সিরিয়াল মেনে সবাই টিকিট পাচ্ছেন।’’

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সদস্য কবির হোসেন জানান, নির্বাচন উপলক্ষে সারা দেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাস আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য রিকুইজিশন করা হয়েছে। এতে কিছু রুটে সংকট তৈরি হলেও যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।

গুলিস্তানে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের চোখেমুখে ক্লান্তির চেয়ে বেশি ছিল আনন্দের ছাপ। মাদারীপুরের একজন প্রবীণ ভোটার খালেক হোসেন বললেন, ভোট দিতে পারাটা আমাদের অধিকার। অনেক বছর পর মনে হচ্ছে সেই অধিকারটা সত্যি সত্যিই কাজে লাগাতে পারব।

তিনি বলেন, ভোট দেওয়া কেন্দ্র করে এই যাত্রা শুধু বাড়ি ফেরা নয়, অনেকের কাছে এটি দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পথে এক ধরনের উৎসবের মতোই।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ বারের মতো হাল্ট প্রাইজ’র গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠিত

ভোটের টানে বাড়ি ফিরছেন কর্মজীবীরা

প্রকাশিত সময় : ০৪:৩৫:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঢাকা থেকে ভোট দিতে নিজ নিজ এলাকায় ছুটছেন মানুষ। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই রাজধানীর গুলিস্তান ও ফুলবাড়িয়া এলাকায় দেখা গেছে ঘরে ফেরা মানুষের ভিড়।

গুলিস্তানের একটি বাস কাউন্টারে অপেক্ষায় ছিলেন বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম। ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন প্রায় ১৫ বছর ধরে। রফিকুল ইসলাম বলেন,  ‘‘টানা চার দিনের ছুটি পেয়েছি। অনেক দিন পর মনে হচ্ছে নিজের ভোটটা নিজে দিতে পারব। সত্যি বলতে কী, ঈদের মতোই লাগছে।’’

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারি চাকরিজীবীরা টানা চার দিনের ছুটি পেয়েছেন। বেসরকারি খাতেও অনেক প্রতিষ্ঠান তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে। এই সুযোগেই ঢাকায় কর্মরত লাখো মানুষ নিজ নিজ এলাকার পথে গ্রামের পথে রওনা হচ্ছেন।

ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনালে দেখা যায়, দক্ষিণাঞ্চলগামী বাসগুলো একের পর এক যাত্রী তুলছে। ফরিদপুরগামী একটি বাসে উঠছিলেন মাদারীপুর সদর উপজেলার ভোটার সাইফুল হক। তিনি বলেন, ‘‘আগের দুই নির্বাচনে ভোট দিতে গিয়ে হতাশ হয়েছি। কেন্দ্রে গিয়ে দেখেছি ভোট দেওয়া হয়ে গেছে। এবার পরিস্থিতি বদলেছে বলে মনে হচ্ছে। মানুষ এখন নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে চায়।’’

তার মতো আরও অনেকের সঙ্গে কথা বলে একই ধরনের প্রত্যাশার কথা শোনা গেছে। দীর্ঘ সময় পর জাতীয় নির্বাচন নিয়ে মানুষের মধ্যে আগ্রহ, উত্তেজনা আর আশা সবকিছুই যেন একসঙ্গে ফিরে এসেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, গুলিস্তান-ফুলবাড়িয়া এলাকায় বরিশাল, মাদারীপুর ও ফরিদপুর রুটের বাসগুলোতে সকাল থেকেই তীব্র যাত্রীর চাপ। অনেক যাত্রী পরিবার নিয়ে যাচ্ছেন, আবার কেউ কেউ একাই রওনা হয়েছেন। বাস কাউন্টারগুলোতে লম্বা সিরিয়াল, তবে শৃঙ্খলা বজায় রেখেই টিকিট বিক্রি হচ্ছে।

প্রচেষ্টা পরিবহনের কাউন্টার কর্মী আবির হোসেন বলেন, ‘‘আজ সকাল থেকে যাত্রী চাপ অনেক বেশি। বিশেষ করে বরিশাল ও ফরিদপুর রুটে কোনো আসন ফাঁকা নেই। তারপরও সিরিয়াল মেনে সবাই টিকিট পাচ্ছেন।’’

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সদস্য কবির হোসেন জানান, নির্বাচন উপলক্ষে সারা দেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাস আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য রিকুইজিশন করা হয়েছে। এতে কিছু রুটে সংকট তৈরি হলেও যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।

গুলিস্তানে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের চোখেমুখে ক্লান্তির চেয়ে বেশি ছিল আনন্দের ছাপ। মাদারীপুরের একজন প্রবীণ ভোটার খালেক হোসেন বললেন, ভোট দিতে পারাটা আমাদের অধিকার। অনেক বছর পর মনে হচ্ছে সেই অধিকারটা সত্যি সত্যিই কাজে লাগাতে পারব।

তিনি বলেন, ভোট দেওয়া কেন্দ্র করে এই যাত্রা শুধু বাড়ি ফেরা নয়, অনেকের কাছে এটি দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পথে এক ধরনের উৎসবের মতোই।