শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফেসবুক পেজের নামে সংবাদ সংগ্রহের কার্ড পেলেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা

সাতক্ষীরায় ফেসবুক পেজের নামে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে সংবাদ সংগ্রহের কার্ড পেলেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আবু মুহিত গাজী। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত স্থানীয় সাংবাদিকরা।

জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে সংবাদ সংগ্রহের কার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে নীতিমালা না মানেনি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পেশাদার সাংবাদিকদের বদলে রাজনৈতিক নেতা ও ফেসবুক পেজের অ্যাডমিনদের হাতে নির্বাচনী কার্ড দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে টাঙানো তালিকা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অনেক অপেশাদার ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বৈধ কার্ড সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে তালা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু মুহিত গাজী ‘এ ওয়ান’ নামক একটি অনিবন্ধিত ফেসবুক ভিত্তিক টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক পরিচয়ে কার্ড পেয়েছেন। এ ছাড়া ‘আপন বাংলা’ নামক স্থানীয় ফেসবুক পেজ এবং নিবন্ধনহীন ‘গাঙচিল টিভি’ ও ‘এনএএন টিভি’র কর্মীরাও সংবাদ সংগ্রহের বৈধ অনুমতি পেয়েছেন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরায় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের খবর সংগ্রহের জন্য প্রায় ১ হাজার ২০০ জন আবেদন করেছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে ৭৯১ জনকে নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহের কার্ড দেওয়া হয়েছে।

যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কার্ড বিতরণের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দৈনিক জনবাণী পত্রিকার সংবাদকর্মী এমডি রায়হান সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন যেখানে পেশাদারিত্বের কথা বলছে, সেখানে সাতক্ষীরায় রাজনৈতিক নেতা ও ফেসবুক পেজ চালানো ব্যক্তিদের হাতে কার্ড তুলে দেওয়া হয়েছে। একজন সংবাদকর্মী হিসেবে এটি আমাদের জন্য অপমানজনক। নীতিমালার তোয়াক্কা না করে কীভাবে এসব কার্ড ইস্যু করা হলো, তা তদন্ত করা প্রয়োজন। আমরা চাই প্রকৃত সাংবাদিকরাই ভোটকেন্দ্রে তথ্য সংগ্রহের সুযোগ পাক, যাতে নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় থাকে।’

মাঠ পর্যায়ের সাংবাদিকরা বলছেন, ‘অনেক প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক কর্মীরা নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের নাম ভাঙিয়ে কার্ড সংগ্রহ করেছেন, যেটা সুষ্ঠু সাংবাদিকতা ও নির্বাচনের নিরপেক্ষ পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মিজ্ আফরোজা আখতার বলেন, ‘আমাদের কাছে একটি নির্দিষ্ট চেক লিস্ট দেওয়া আছে। সেখানে অনুমোদিত ন্যাশনাল পত্রিকা, স্থানীয় পত্রিকা এবং অনলাইন নিউজ পোর্টালের তালিকা রয়েছে। সেই ক্রাইটেরিয়া বা শর্ত যারা পূরণ করতে পেরেছেন, শুধুমাত্র তাদেরকেই কার্ড দেওয়া হয়েছে। আবেদন অনেক বেশি জমা পড়েছিল, তাই অনেক আবেদন বাতিলও করা হয়েছে।’The Daily Campus

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ফেসবুক পেজের নামে সংবাদ সংগ্রহের কার্ড পেলেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা

প্রকাশিত সময় : ১১:১৩:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সাতক্ষীরায় ফেসবুক পেজের নামে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে সংবাদ সংগ্রহের কার্ড পেলেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আবু মুহিত গাজী। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত স্থানীয় সাংবাদিকরা।

জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে সংবাদ সংগ্রহের কার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে নীতিমালা না মানেনি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পেশাদার সাংবাদিকদের বদলে রাজনৈতিক নেতা ও ফেসবুক পেজের অ্যাডমিনদের হাতে নির্বাচনী কার্ড দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে টাঙানো তালিকা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অনেক অপেশাদার ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বৈধ কার্ড সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে তালা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু মুহিত গাজী ‘এ ওয়ান’ নামক একটি অনিবন্ধিত ফেসবুক ভিত্তিক টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক পরিচয়ে কার্ড পেয়েছেন। এ ছাড়া ‘আপন বাংলা’ নামক স্থানীয় ফেসবুক পেজ এবং নিবন্ধনহীন ‘গাঙচিল টিভি’ ও ‘এনএএন টিভি’র কর্মীরাও সংবাদ সংগ্রহের বৈধ অনুমতি পেয়েছেন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরায় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের খবর সংগ্রহের জন্য প্রায় ১ হাজার ২০০ জন আবেদন করেছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে ৭৯১ জনকে নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহের কার্ড দেওয়া হয়েছে।

যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কার্ড বিতরণের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দৈনিক জনবাণী পত্রিকার সংবাদকর্মী এমডি রায়হান সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন যেখানে পেশাদারিত্বের কথা বলছে, সেখানে সাতক্ষীরায় রাজনৈতিক নেতা ও ফেসবুক পেজ চালানো ব্যক্তিদের হাতে কার্ড তুলে দেওয়া হয়েছে। একজন সংবাদকর্মী হিসেবে এটি আমাদের জন্য অপমানজনক। নীতিমালার তোয়াক্কা না করে কীভাবে এসব কার্ড ইস্যু করা হলো, তা তদন্ত করা প্রয়োজন। আমরা চাই প্রকৃত সাংবাদিকরাই ভোটকেন্দ্রে তথ্য সংগ্রহের সুযোগ পাক, যাতে নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় থাকে।’

মাঠ পর্যায়ের সাংবাদিকরা বলছেন, ‘অনেক প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক কর্মীরা নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের নাম ভাঙিয়ে কার্ড সংগ্রহ করেছেন, যেটা সুষ্ঠু সাংবাদিকতা ও নির্বাচনের নিরপেক্ষ পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মিজ্ আফরোজা আখতার বলেন, ‘আমাদের কাছে একটি নির্দিষ্ট চেক লিস্ট দেওয়া আছে। সেখানে অনুমোদিত ন্যাশনাল পত্রিকা, স্থানীয় পত্রিকা এবং অনলাইন নিউজ পোর্টালের তালিকা রয়েছে। সেই ক্রাইটেরিয়া বা শর্ত যারা পূরণ করতে পেরেছেন, শুধুমাত্র তাদেরকেই কার্ড দেওয়া হয়েছে। আবেদন অনেক বেশি জমা পড়েছিল, তাই অনেক আবেদন বাতিলও করা হয়েছে।’The Daily Campus