মহীশূর স্যান্ডেল সাবান! যার নামের সাথেই জড়িয়ে আছে চন্দন কাঠের সুগন্ধ আর শতবর্ষের রাজকীয় ঐতিহ্য। কিন্তু সেই আইকনিক ব্র্যান্ডের নতুন মুখ হিসেবে মুম্বাইয়ের গ্ল্যামার গার্ল তামান্না ভাটিয়া আসতেই কর্ণাটকের রাজনীতিতে এখন বইছে বিতর্কের ঝড়। তামান্নার এই ‘রাজকীয়’ এন্ট্রি নিয়ে একদিকে যেমন সুগন্ধ ছড়াচ্ছে, অন্যদিকে তেমনই ধিকধিক করে জ্বলছে ‘কন্নড়-আবেগ’ আর রাজনীতির আগুন।
শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী ব্র্যান্ড ‘মহীশূর স্যান্ডেল সাবান’-এর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে তামান্না ভাটিয়ার অভিষেক কি শুধুই ব্যবসায়িক চাল, নাকি কর্ণাটকের নিজস্ব সংস্কৃতিকে অবজ্ঞার এক নতুন উদাহরণ? এই প্রশ্নই এখন কর্ণাটকের রাজনীতির অন্দরে চন্দনের সুগন্ধের চেয়েও বেশি ঝাঁঝ ছড়াচ্ছে।
ছবি: সংগৃহীত
কর্ণাটকের শিল্পমন্ত্রী এম বি পাতিল এই বিতর্কের মুখে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর মতে, তামান্নার নির্বাচন কোনো আবেগ নয়, বরং খাঁটি ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত। রেশমিকা মান্দানা, পূজা হেগড়ে, কিয়ারা আদভানি এবং শ্রীলীলার মতো দক্ষিণী ও বলিউড সুন্দরীদের পেছনে ফেলে তামান্না কেন বাজি জিতলেন?
বিপণন বিশেষজ্ঞদের মতে, তামান্নার মধ্যে রয়েছে এক ‘রাজকুমারীসুলভ ও স্বর্গীয়’ আভা, যা মহীশূর স্যান্ডেলের হেরিটেজ ইমেজের সাথে হুবহু মিলে যায়। এছাড়া তাঁর ২৮ মিলিয়নেরও বেশি সোশ্যাল মিডিয়া ফলোয়ার এবং প্যান-ইন্ডিয়া আবেদনকে পুঁজি করে ২০৩০ সালের মধ্যে ৫,০০০ কোটি টাকার টার্নওভারের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে কর্ণাটক সোপস অ্যান্ড ডিটারজেন্টস লিমিটেড (কেএসডিএল)।
ছবি: সংগৃহীত
যেখানে সৌন্দর্য আর বাণিজ্য আছে, সেখানে রাজনীতি থাকবে না তা কি হয়? বিজেপি সাংসদ কে সুধাকর এই নিয়োগকে কংগ্রেস সরকারের ‘কন্নড়-বিরোধী মানসিকতা’ হিসেবে দেগে দিয়েছেন। তাঁর প্রশ্ন, কন্নড় মাটির নিজের তারকাদের কি গ্ল্যামার কম ছিল যে বাইরের রাজ্যের কাউকে কোটি কোটি টাকা (প্রায় ৬.২ কোটি টাকা) দিয়ে আনতে হলো? সহজ ভাষায়, ঘরের খেয়ে বাইরের নাম গান করার এই নীতি মানতে পারছেন না অনেকেই।
ছবি: সংগৃহীত
তামান্নাকে বেছে নেওয়ার পেছনে অন্যতম বড় কারণ ছিল তাঁর ‘এক্সক্লুসিভিটি’। বর্তমানে তিনি অন্য কোনো সাবানের বিজ্ঞাপনের সাথে যুক্ত নন। ফলে মহীশূর স্যান্ডেলের জন্য তিনি হয়ে উঠেছেন এক অনন্য মুখ। গত বছর সই হওয়া এই চুক্তিটি গত মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হয়েছে, যা নিয়ে এখন সরগরম নেটপাড়া।
বিতর্ক আর রাজনীতি যাই বলুক, চন্দনের চিরন্তন সুগন্ধ কি মুম্বাইয়ের গ্ল্যামারে আরও উজ্জ্বল হবে? নাকি আঞ্চলিক আবেগের ধোঁয়ায় ফিকে হয়ে যাবে এই রাজকীয় আভিজাত্য? উত্তর দেবে সময় এবং সাবানের বিক্রির গ্রাফ।

ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম ডেস্ক 























