শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ পড়াবেন সৈয়দ রেফাত আহমেদ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। মহামান্য রাষ্ট্রপতির মনোনীত প্রতিনিধি হিসেবে তিনি এই শপথ পাঠ করাবেন। ইতোমধ্যেই তাকে রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে বলে বঙ্গভবন সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

এর আগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি এমন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। পূর্বতন সংসদের কোনো স্পিকার না থাকায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করানোর এই আইনি প্রক্রিয়ার কথা তিনি ব্যাখ্যা করেন

আইন উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচিত এমপিরা সাধারণত জাতীয় সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের কাছে শপথ নেন। কিন্তু চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতির কারণে এবার সেটি হচ্ছে না। এবার নির্বাচিত নতুন সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো ব্যক্তি হিসেবে প্রধান বিচারপতির কাছে শপথ নিতে পারেন।

গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেছেন। তার আগে আগস্ট মাসে ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু গ্রেফতার হয়ে এখন কারাগারে রয়েছেন।

এ পরিস্থিতিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের কে শপথ পড়াবেন, তা নিয়ে দেখা দেয় বিভ্রান্তি। আইন উপদেষ্টা আরও বলেন, বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ করানোর দায়িত্ব স্পিকারের। স্পিকার না থাকলে ডেপুটি স্পিকার এই দায়িত্ব পালন করেন। তারা না থাকলে অন্য বিধানও রয়েছে। বর্তমানে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের মধ্যে একজন নিখোঁজ ও অপরজন কারাগারে রয়েছেন।

তাদের (স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার) বিরুদ্ধে গুরুতর কিছু মামলা রয়েছে এবং তারা পদত্যাগও করেছেন, বিশেষ করে স্পিকার। ফলে এই অবস্থায় তাদের দিয়ে শপথ গ্রহণ করানোর কোনো সুযোগ আছে বলে তিনি মনে করেন না।

আইন উপদেষ্টা বলেন, আমাদের আইনে আছে, তারা (স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার) যদি শপথ গ্রহণ করাতে না পারেন, তাহলে রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি শপথ গ্রহণ করাবেন। এই মনোনয়ন হবে প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শক্রমে। আরও একটি বিধান রয়েছে- তিন দিনের মধ্যে যদি এই শপথ না হয়, তাহলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারও শপথ গ্রহণ করাতে পারবেন।

অন্তর্বর্তী সরকার সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ ভবনে এমপিদের শপথ অনুষ্ঠান হতে পারে। পরদিনই বঙ্গভবনে শপথ নেবেন নতুন মন্ত্রিপরিষদ। এমপিদের শপথ গ্রহণের পর নিয়ম অনুযায়ী সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পাওয়া বিএনপিকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ পড়াবেন সৈয়দ রেফাত আহমেদ

প্রকাশিত সময় : ১০:০৭:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। মহামান্য রাষ্ট্রপতির মনোনীত প্রতিনিধি হিসেবে তিনি এই শপথ পাঠ করাবেন। ইতোমধ্যেই তাকে রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে বলে বঙ্গভবন সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

এর আগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি এমন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। পূর্বতন সংসদের কোনো স্পিকার না থাকায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করানোর এই আইনি প্রক্রিয়ার কথা তিনি ব্যাখ্যা করেন

আইন উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচিত এমপিরা সাধারণত জাতীয় সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের কাছে শপথ নেন। কিন্তু চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতির কারণে এবার সেটি হচ্ছে না। এবার নির্বাচিত নতুন সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো ব্যক্তি হিসেবে প্রধান বিচারপতির কাছে শপথ নিতে পারেন।

গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেছেন। তার আগে আগস্ট মাসে ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু গ্রেফতার হয়ে এখন কারাগারে রয়েছেন।

এ পরিস্থিতিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের কে শপথ পড়াবেন, তা নিয়ে দেখা দেয় বিভ্রান্তি। আইন উপদেষ্টা আরও বলেন, বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ করানোর দায়িত্ব স্পিকারের। স্পিকার না থাকলে ডেপুটি স্পিকার এই দায়িত্ব পালন করেন। তারা না থাকলে অন্য বিধানও রয়েছে। বর্তমানে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের মধ্যে একজন নিখোঁজ ও অপরজন কারাগারে রয়েছেন।

তাদের (স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার) বিরুদ্ধে গুরুতর কিছু মামলা রয়েছে এবং তারা পদত্যাগও করেছেন, বিশেষ করে স্পিকার। ফলে এই অবস্থায় তাদের দিয়ে শপথ গ্রহণ করানোর কোনো সুযোগ আছে বলে তিনি মনে করেন না।

আইন উপদেষ্টা বলেন, আমাদের আইনে আছে, তারা (স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার) যদি শপথ গ্রহণ করাতে না পারেন, তাহলে রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি শপথ গ্রহণ করাবেন। এই মনোনয়ন হবে প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শক্রমে। আরও একটি বিধান রয়েছে- তিন দিনের মধ্যে যদি এই শপথ না হয়, তাহলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারও শপথ গ্রহণ করাতে পারবেন।

অন্তর্বর্তী সরকার সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ ভবনে এমপিদের শপথ অনুষ্ঠান হতে পারে। পরদিনই বঙ্গভবনে শপথ নেবেন নতুন মন্ত্রিপরিষদ। এমপিদের শপথ গ্রহণের পর নিয়ম অনুযায়ী সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পাওয়া বিএনপিকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি।