সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পোস্টাল ব্যালটে পিছিয়ে থেকেও মাঠের ভোটে বাজিমাত মোবাশ্বেরের

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-১০ (লালমাই-নাঙ্গলকোট) আসনে পোস্টাল ব্যালটে পিছিয়ে থেকেও সাধারণ ভোটে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোবাশ্বের আলম ভুঁইয়া। আইনি জটিলতার কারণে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তুলনায় আট দিন দেরিতে প্রচারণা শুরু করেও তিনি ৩৯ হাজার ৯৩৪ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মোবাশ্বের আলম ভুঁইয়া পেয়েছেন ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৬৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মুহাম্মদ ইয়াছিন আরাফাত (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৭৩৩ ভোট।

এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মো. শামছুদ্দোহা (হাতপাখা) পেয়েছেন ৭ হাজার ৯৫৯ ভোট। মুক্তিজোট মনোনীত প্রার্থী কাজী নূরে আলম ছিদ্দিকী (ছড়ি) পেয়েছেন ৩২২ ভোট, আমজনতার দল মনোনীত আবদুল্লাহ আল নোমান (প্রজাপতি) ৩৭৩ ভোট, গণঅধিকার পরিষদের রমিজ বিন আরিফ (ট্রাক) ২৯৩ ভোট এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হাছান আহমেদ (ডাব) পেয়েছেন ৪০০ ভোট।

তবে পোস্টাল ব্যালটে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। সেখানে মোবাশ্বের আলম ভুঁইয়া পেয়েছেন ১ হাজার ৮২০ ভোট, আর জামায়াত প্রার্থী মুহাম্মদ ইয়াছিন আরাফাত পেয়েছেন ৮ হাজার ৯৭০ ভোট।

দলের নেতাকর্মীদের দাবি, মনোনয়ন চূড়ান্ত হতে বিলম্ব ও আইনি জটিলতার কারণে প্রবাসী ও ডাকযোগে ভোটদাতাদের মধ্যে প্রচারণা চালাতে না পারায় এ ব্যবধান তৈরি হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, আসনের লালমাই উপজেলার ৫৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫১টিতেই জয় পান মোবাশ্বের আলম ভুঁইয়া। উপজেলায় তিনি পেয়েছেন ৫৫ হাজার ১৫৭ ভোট, বিপরীতে ইয়াছিন আরাফাত পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৬৬ ভোট।

বিএনপি প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন ভুলইন দক্ষিণ ইউনিয়নের জামুয়া উচ্চ বিদ্যালয়, বাকই উত্তর ইউনিয়নের নুরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভাবকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং হাতিলোটা দারুচ্ছুন্নাত নেছারিয়া দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে।

অন্যদিকে, পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়নের দোশারীচোঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে উপজেলার সর্বোচ্চসংখ্যক ১ হাজার ৫৯২ ভোট পেয়ে ধানের শীষ প্রতীক বিজয়ী হয়।

মাঠের ভোটে বিপুল ব্যবধানেই জয় পেলেও পোস্টাল ব্যালটে পিছিয়ে পড়ার বিষয়টি নির্বাচনী বিশ্লেষকদের আলোচনায় এসেছে। তবে সার্বিক ফলাফলে বড় ব্যবধানে জয় পাওয়ায় আসনটিতে বিএনপির অবস্থান আরো সুদৃঢ় হয়েছে বলে দলীয় নেতারা মনে করছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ বারের মতো হাল্ট প্রাইজ’র গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠিত

পোস্টাল ব্যালটে পিছিয়ে থেকেও মাঠের ভোটে বাজিমাত মোবাশ্বেরের

প্রকাশিত সময় : ১০:৫৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-১০ (লালমাই-নাঙ্গলকোট) আসনে পোস্টাল ব্যালটে পিছিয়ে থেকেও সাধারণ ভোটে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোবাশ্বের আলম ভুঁইয়া। আইনি জটিলতার কারণে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তুলনায় আট দিন দেরিতে প্রচারণা শুরু করেও তিনি ৩৯ হাজার ৯৩৪ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মোবাশ্বের আলম ভুঁইয়া পেয়েছেন ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৬৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মুহাম্মদ ইয়াছিন আরাফাত (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৭৩৩ ভোট।

এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মো. শামছুদ্দোহা (হাতপাখা) পেয়েছেন ৭ হাজার ৯৫৯ ভোট। মুক্তিজোট মনোনীত প্রার্থী কাজী নূরে আলম ছিদ্দিকী (ছড়ি) পেয়েছেন ৩২২ ভোট, আমজনতার দল মনোনীত আবদুল্লাহ আল নোমান (প্রজাপতি) ৩৭৩ ভোট, গণঅধিকার পরিষদের রমিজ বিন আরিফ (ট্রাক) ২৯৩ ভোট এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হাছান আহমেদ (ডাব) পেয়েছেন ৪০০ ভোট।

তবে পোস্টাল ব্যালটে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। সেখানে মোবাশ্বের আলম ভুঁইয়া পেয়েছেন ১ হাজার ৮২০ ভোট, আর জামায়াত প্রার্থী মুহাম্মদ ইয়াছিন আরাফাত পেয়েছেন ৮ হাজার ৯৭০ ভোট।

দলের নেতাকর্মীদের দাবি, মনোনয়ন চূড়ান্ত হতে বিলম্ব ও আইনি জটিলতার কারণে প্রবাসী ও ডাকযোগে ভোটদাতাদের মধ্যে প্রচারণা চালাতে না পারায় এ ব্যবধান তৈরি হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, আসনের লালমাই উপজেলার ৫৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫১টিতেই জয় পান মোবাশ্বের আলম ভুঁইয়া। উপজেলায় তিনি পেয়েছেন ৫৫ হাজার ১৫৭ ভোট, বিপরীতে ইয়াছিন আরাফাত পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৬৬ ভোট।

বিএনপি প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন ভুলইন দক্ষিণ ইউনিয়নের জামুয়া উচ্চ বিদ্যালয়, বাকই উত্তর ইউনিয়নের নুরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভাবকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং হাতিলোটা দারুচ্ছুন্নাত নেছারিয়া দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে।

অন্যদিকে, পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়নের দোশারীচোঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে উপজেলার সর্বোচ্চসংখ্যক ১ হাজার ৫৯২ ভোট পেয়ে ধানের শীষ প্রতীক বিজয়ী হয়।

মাঠের ভোটে বিপুল ব্যবধানেই জয় পেলেও পোস্টাল ব্যালটে পিছিয়ে পড়ার বিষয়টি নির্বাচনী বিশ্লেষকদের আলোচনায় এসেছে। তবে সার্বিক ফলাফলে বড় ব্যবধানে জয় পাওয়ায় আসনটিতে বিএনপির অবস্থান আরো সুদৃঢ় হয়েছে বলে দলীয় নেতারা মনে করছেন।