কারাবন্দি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানোর খবরে উত্তাল পাকিস্তান। সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশের পর দেশটির সরকার ইমরান খানকে বিশেষায়িত চিকিৎসা দেওয়ার ঘোষণা দিলেও কাটছে না ধোঁয়াশা। পরিবারের দাবি, তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই সরকার একতরফাভাবে চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। ফলে ইমরানের চোখের বর্তমান অবস্থা নিয়ে এক ধরনের ‘লুকোচুরি’ চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জানান, শীর্ষস্থানীয় চক্ষু বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে ইমরান খানের চোখের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে। তবে তিনি কোন হাসপাতালে বা কবে এই চিকিৎসা শুরু হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি। উল্টো এই স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি বা ‘জল্পনা’ না ছড়াতে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
সরকারের এই আশ্বাসে মোটেও আশ্বস্ত হতে পারছে না ইমরান খানের পরিবার। তার বোন আলিমা খান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, চিকিৎসার বিষয়ে পরিবারের সাথে কোনো ধরনের পরামর্শই করা হয়নি। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ভবিষ্যতে যেকোনো মেডিকেল প্রসিডিউর বা অস্ত্রোপচারের সময় পরিবারের সদস্য এবং ইমরান খানের ব্যক্তিগত চিকিৎসকের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করতে হবে। পরিবারের অভিযোগ, সরকার তথ্য গোপন করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
এর আগে সুপ্রিম কোর্টকে ইমরান খানের আইনজীবী জানান, আদিয়ালা জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় সাবেক এই ক্রিকেটারের ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি প্রায় ৮৫ শতাংশ হারিয়ে গেছে। বর্তমানে তিনি মাত্র ১৫ শতাংশ দৃষ্টি নিয়ে চলছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতেই আদালত অবিলম্বে একটি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ড গঠন এবং ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তার দুই ছেলের সাথে কথা বলার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন।
ইমরান খানের এমন শারীরিক অবস্থায় কেবল রাজনীতি নয়, শোকের ছায়া নেমে এসেছে ক্রিকেট বিশ্বেও। ১৯৯২ বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ককে নিয়ে উদ্বিগ্ন ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনুস, শহীদ আফ্রিদি এবং শোয়েব আখতারের মতো কিংবদন্তিরা। তারা সবাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইমরান খানের সুচিকিৎসার দাবি জানিয়েছেন। শোয়েব আখতার বলেন, ক্যাপ্টেনের দৃষ্টি হারানোর খবর আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে।
সব মিলিয়ে ইমরান খানের চোখের চিকিৎসা নিয়ে সরকার ও পরিবারের মধ্যে এক ধরনের স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হয়েছে। একদিকে সরকার বলছে সব ঠিক আছে, অন্যদিকে পরিবার ও চিকিৎসকদের দাবি—পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
সূত্র: ডন ও টাইমস অব ইন্ডিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম 























