সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জাবিপ্রবিতে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে তালা, বৈঠকে হাতাহাতি

অনিয়ম, দুর্নীতি, নিয়োগ বাণিজ্য ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে ভিসি ও প্রো-ভিসির পদত্যাগ দাবিতে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশ। এ ঘটনায় দিনভর দফায় দফায় হট্টগোল এবং শিক্ষক-কর্মকর্তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল গেটে তালা লাগিয়ে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা।

আন্দোলনকারীরা জানান, ডিপিপি (DPP) প্রকল্পের নামে কালক্ষেপণ, অর্থ অপচয়, নিয়োগ বাণিজ্য, স্বজনপ্রীতি ও প্রশাসনিক বৈষম্য চলছে। পাশাপাশি তড়িঘড়ি করে সিন্ডিকেট সভা ডেকে অনিয়মকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চায় বলে জানান আন্দোলনকারী শিক্ষক আল মামুন সরকার।

এদিকে আন্দোলনের ব্যানারে শিক্ষার্থীদের নাম ব্যবহার করায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে টানানো ব্যানার অপসারণ করেন। ছাত্রদল ও শিবিরের নাম জড়ানোর অভিযোগ উঠলে সংগঠন দুটিও সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে।

জানা গেছে, সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরের একটি অংশ প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে দুপুরে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোশাররফ হোসেন ক্যাম্পাসে এসে আন্দোলনকারীদের দাবি শোনার আশ্বাস দিলে প্রধান ফটকের তালা খোলা হয় এবং কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। প্রশাসনিক ভবনের তালাও এসময় খুলে দেওয়া হয়।

পরে আলোচনার জন্য উপাচার্যের সভাকক্ষে একটি বৈঠক ডাকা হয়। বৈঠকে উপস্থিত হয়ে শিক্ষকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাদীকুর রহমান বলেন, ‘উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হয়েছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ডিপিপি অনুমোদন হলে জমিদাতাদের যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরিতে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে মতবিনিময় হয়েছে। শিক্ষক নিয়োগে কোনো সুপারিশ গ্রহণ করা হয়নি এবং মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগে আপস করা হবে না।

তিনি আরও বলেন, পিয়ন ও নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয়দের অগ্রাধিকার দেওয়া যুক্তিসংগত হতে পারে, তবে এ ধরনের নিয়োগ এখনো দেওয়া হয়নি। বর্তমানে দুটি কর্মকর্তার পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পিএস টু ভিসি ও সহকারী পরিচালক (হিসাব) পদে নিয়োগ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে হয়েছে, সেখানে ভিসি বা প্রো-ভিসির একক সিদ্ধান্তের সুযোগ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ বারের মতো হাল্ট প্রাইজ’র গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠিত

জাবিপ্রবিতে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে তালা, বৈঠকে হাতাহাতি

প্রকাশিত সময় : ০৯:৪৮:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অনিয়ম, দুর্নীতি, নিয়োগ বাণিজ্য ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে ভিসি ও প্রো-ভিসির পদত্যাগ দাবিতে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশ। এ ঘটনায় দিনভর দফায় দফায় হট্টগোল এবং শিক্ষক-কর্মকর্তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল গেটে তালা লাগিয়ে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা।

আন্দোলনকারীরা জানান, ডিপিপি (DPP) প্রকল্পের নামে কালক্ষেপণ, অর্থ অপচয়, নিয়োগ বাণিজ্য, স্বজনপ্রীতি ও প্রশাসনিক বৈষম্য চলছে। পাশাপাশি তড়িঘড়ি করে সিন্ডিকেট সভা ডেকে অনিয়মকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চায় বলে জানান আন্দোলনকারী শিক্ষক আল মামুন সরকার।

এদিকে আন্দোলনের ব্যানারে শিক্ষার্থীদের নাম ব্যবহার করায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে টানানো ব্যানার অপসারণ করেন। ছাত্রদল ও শিবিরের নাম জড়ানোর অভিযোগ উঠলে সংগঠন দুটিও সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে।

জানা গেছে, সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরের একটি অংশ প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে দুপুরে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোশাররফ হোসেন ক্যাম্পাসে এসে আন্দোলনকারীদের দাবি শোনার আশ্বাস দিলে প্রধান ফটকের তালা খোলা হয় এবং কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। প্রশাসনিক ভবনের তালাও এসময় খুলে দেওয়া হয়।

পরে আলোচনার জন্য উপাচার্যের সভাকক্ষে একটি বৈঠক ডাকা হয়। বৈঠকে উপস্থিত হয়ে শিক্ষকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাদীকুর রহমান বলেন, ‘উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হয়েছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ডিপিপি অনুমোদন হলে জমিদাতাদের যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরিতে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে মতবিনিময় হয়েছে। শিক্ষক নিয়োগে কোনো সুপারিশ গ্রহণ করা হয়নি এবং মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগে আপস করা হবে না।

তিনি আরও বলেন, পিয়ন ও নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয়দের অগ্রাধিকার দেওয়া যুক্তিসংগত হতে পারে, তবে এ ধরনের নিয়োগ এখনো দেওয়া হয়নি। বর্তমানে দুটি কর্মকর্তার পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পিএস টু ভিসি ও সহকারী পরিচালক (হিসাব) পদে নিয়োগ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে হয়েছে, সেখানে ভিসি বা প্রো-ভিসির একক সিদ্ধান্তের সুযোগ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।