বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নতুন সরকারের কাছে শাকিব খানের প্রত্যাশা

নতুন সরকার গঠনের পর দেশের সব অঙ্গনের মানুষের মতো সংস্কৃতি অঙ্গনের মানুষদেরও সরকারের কাছে রয়েছে নানা প্রত্যাশা। দেশের জনপ্রিয় ও শীর্ষ চিত্রনায়ক শাকিব খানও চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়ন নিয়ে নতুন সরকারের কাছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি ও প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন।

গণমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় শাকিব খান বলেন, “চলচ্চিত্র শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং পেশাদার পরিবেশ নিশ্চিত করা।”

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক প্রসঙ্গে শাকিব খান বলেন, “জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। বিচারপ্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা, রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি—বারবার সামনে আসে এসব প্রশ্ন। পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের বিচারপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হোক।”

তিনি আরও বলেন, “মূল্যায়নের নির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ এবং বাইরের হস্তক্ষেপ রোধে কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি।”

সরকারি অনুদানের চলচ্চিত্র বাছাই প্রক্রিয়া নিয়েও কথা বলেন এই চিত্রনায়ক। তিনি বলেন, “সরকারি অনুদানের চলচ্চিত্র বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি বা পক্ষপাতের অভিযোগ দূর করতে স্বচ্ছ কমিটি, অনলাইন স্কোরিং পদ্ধতি এবং পাবলিক রিপোর্ট প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এতে প্রকৃত মেধাবীরা উৎসাহ পাবেন।”

দেশের প্রেক্ষাগৃহ কমে যাওয়া এবং হলগুলোর পরিবেশ ও মান নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ প্রসঙ্গে শাকিব খান বলেন, “দেশে প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণ ও আধুনিকায়নে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। দেশে প্রেক্ষাগৃহের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। মাঝখানে কয়েকবার প্রেক্ষাগৃহ বাড়ানোর উদ্যোগের কথা শোনা গেলেও পরে আর কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। তাই বলব, সারা দেশে প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে। মানুষ পরিবার নিয়ে আবার ছবি দেখছে, তাদের শুধু সুন্দর পরিবেশ দিতে হবে।”

শাকিব খানের মতে, দেশের বন্ধ ও জরাজীর্ণ প্রেক্ষাগৃহগুলো সংস্কারে স্বল্প সুদে ঋণ, করছাড় এবং পুনর্গঠন তহবিল গঠন করা যেতে পারে। পাশাপাশি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) মডেলে আধুনিক মাল্টিপ্লেক্স স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

তিনি আরও বলেন, “যেসব জেলায় প্রেক্ষাগৃহ নেই সেখানে কম আসনসংখ্যার ডিজিটাল মিনি প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণ করা হলে ব্যয় কমবে এবং স্থানীয় উদ্যোক্তারাও যুক্ত হতে পারবেন।”

শাকিব খান প্রেক্ষাগৃহ উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য সরকারকে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার কথাও বলেন। তার মতে, নতুন প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণে ভ্যাট ও ট্যাক্সছাড়, জমি লিজে বিশেষ সুবিধা এবং আমদানি করা প্রজেকশন ও সাউন্ড যন্ত্রপাতিতে শুল্ক কমালে বিনিয়োগ বাড়বে। পাশাপাশি ডিজিটাল প্রজেকশন, ডলবি সাউন্ড এবং অনলাইন টিকেটিং ব্যবস্থাকে বাধ্যতামূলক বা প্রণোদিত করলে দর্শকের অভিজ্ঞতা উন্নত হবে এবং হলমুখী দর্শক বাড়বে।

শাকিব খান মনে করেন, দর্শক ফিরিয়ে আনতে দেশীয় চলচ্চিত্রের নির্দিষ্ট প্রদর্শন কোটা চালু, উৎসবভিত্তিক বিশেষ প্রদর্শনী এবং পরিবারবান্ধব কনটেন্টে সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, “প্রেক্ষাগৃহকে শুধু সিনেমা প্রদর্শনের স্থান নয়, বরং সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা যেতে পারে, যেখানে নিয়মিত চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজনও সম্ভব।”

সবশেষে শাকিব খান বলেন, “চলচ্চিত্র শিল্পকে এগিয়ে নিতে সরকারকে ঝামেলামুক্ত, পেশাদার এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

নতুন সরকারের কাছে শাকিব খানের প্রত্যাশা

প্রকাশিত সময় : ১০:৫০:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নতুন সরকার গঠনের পর দেশের সব অঙ্গনের মানুষের মতো সংস্কৃতি অঙ্গনের মানুষদেরও সরকারের কাছে রয়েছে নানা প্রত্যাশা। দেশের জনপ্রিয় ও শীর্ষ চিত্রনায়ক শাকিব খানও চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়ন নিয়ে নতুন সরকারের কাছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি ও প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন।

গণমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় শাকিব খান বলেন, “চলচ্চিত্র শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং পেশাদার পরিবেশ নিশ্চিত করা।”

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক প্রসঙ্গে শাকিব খান বলেন, “জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। বিচারপ্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা, রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি—বারবার সামনে আসে এসব প্রশ্ন। পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের বিচারপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হোক।”

তিনি আরও বলেন, “মূল্যায়নের নির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ এবং বাইরের হস্তক্ষেপ রোধে কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি।”

সরকারি অনুদানের চলচ্চিত্র বাছাই প্রক্রিয়া নিয়েও কথা বলেন এই চিত্রনায়ক। তিনি বলেন, “সরকারি অনুদানের চলচ্চিত্র বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি বা পক্ষপাতের অভিযোগ দূর করতে স্বচ্ছ কমিটি, অনলাইন স্কোরিং পদ্ধতি এবং পাবলিক রিপোর্ট প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এতে প্রকৃত মেধাবীরা উৎসাহ পাবেন।”

দেশের প্রেক্ষাগৃহ কমে যাওয়া এবং হলগুলোর পরিবেশ ও মান নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ প্রসঙ্গে শাকিব খান বলেন, “দেশে প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণ ও আধুনিকায়নে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। দেশে প্রেক্ষাগৃহের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। মাঝখানে কয়েকবার প্রেক্ষাগৃহ বাড়ানোর উদ্যোগের কথা শোনা গেলেও পরে আর কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। তাই বলব, সারা দেশে প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে। মানুষ পরিবার নিয়ে আবার ছবি দেখছে, তাদের শুধু সুন্দর পরিবেশ দিতে হবে।”

শাকিব খানের মতে, দেশের বন্ধ ও জরাজীর্ণ প্রেক্ষাগৃহগুলো সংস্কারে স্বল্প সুদে ঋণ, করছাড় এবং পুনর্গঠন তহবিল গঠন করা যেতে পারে। পাশাপাশি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) মডেলে আধুনিক মাল্টিপ্লেক্স স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

তিনি আরও বলেন, “যেসব জেলায় প্রেক্ষাগৃহ নেই সেখানে কম আসনসংখ্যার ডিজিটাল মিনি প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণ করা হলে ব্যয় কমবে এবং স্থানীয় উদ্যোক্তারাও যুক্ত হতে পারবেন।”

শাকিব খান প্রেক্ষাগৃহ উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য সরকারকে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার কথাও বলেন। তার মতে, নতুন প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণে ভ্যাট ও ট্যাক্সছাড়, জমি লিজে বিশেষ সুবিধা এবং আমদানি করা প্রজেকশন ও সাউন্ড যন্ত্রপাতিতে শুল্ক কমালে বিনিয়োগ বাড়বে। পাশাপাশি ডিজিটাল প্রজেকশন, ডলবি সাউন্ড এবং অনলাইন টিকেটিং ব্যবস্থাকে বাধ্যতামূলক বা প্রণোদিত করলে দর্শকের অভিজ্ঞতা উন্নত হবে এবং হলমুখী দর্শক বাড়বে।

শাকিব খান মনে করেন, দর্শক ফিরিয়ে আনতে দেশীয় চলচ্চিত্রের নির্দিষ্ট প্রদর্শন কোটা চালু, উৎসবভিত্তিক বিশেষ প্রদর্শনী এবং পরিবারবান্ধব কনটেন্টে সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, “প্রেক্ষাগৃহকে শুধু সিনেমা প্রদর্শনের স্থান নয়, বরং সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা যেতে পারে, যেখানে নিয়মিত চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজনও সম্ভব।”

সবশেষে শাকিব খান বলেন, “চলচ্চিত্র শিল্পকে এগিয়ে নিতে সরকারকে ঝামেলামুক্ত, পেশাদার এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।”