শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এইচআরসিপি’র রিপোর্ট পাকিস্তানের পাঞ্জাবে ৮ মাসে ৯০০ জনকে হত্যা করেছে পুলিশ

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে গত বছরের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত অন্তত ৯২৪ জনকে হত্যা করেছে দেশটির পুলিশ—এমন বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করেছে হিউম্যান রাইটস কমিশন অফ পাকিস্তান (এইচআরসিপি)। খবর দিয়েছে আল জাজিরা

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বড় ও সংগঠিত অপরাধ দমনের লক্ষ্যে ২০২৫ সালের এপ্রিলে পাঞ্জাবে গঠন করা হয় ক্রাইম কন্ট্রোল ডিপার্টমেন্ট (সিসিডি)। বিভাগটি গঠনের পর থেকেই ব্যাপকহারে তথাকথিত ‘এনকাউন্টার’ শুরু হয়। এইচআরসিপি জানিয়েছে, সিসিডি গঠনের পর অন্তত ৬৭০টি ‘এনকাউন্টার’-এ ৯২৪ জন সন্দেহভাজন নিহত হয়েছেন। মানবাধিকার সংগঠনটির দাবি, এসব হত্যাকাণ্ডের অনেকগুলোই বিচারবহির্ভূত।

গত বছরের নভেম্বরে দক্ষিণ পাঞ্জাবের বাহাওয়ালপুর শহরে এমনই এক ঘটনার শিকার হন জুবাইদা বিবির পরিবার। জুবাইদা অভিযোগ করেন, সিসিডি’র সশস্ত্র কর্মকর্তারা তাদের বাড়িতে হানা দিয়ে মোবাইল ফোন, নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার এবং মেয়ের যৌতুকের টাকাসহ বিভিন্ন জিনিস লুট করে নিয়ে যায়। একই সঙ্গে তার ছেলেদেরও আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুলে নেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জুবাইদা বিবির পরিবারের পাঁচ সদস্যকে বিভিন্ন জেলায় ‘পুলিশ এনকাউন্টার’-এ হত্যা করা হয়। নিহতদের মধ্যে ছিলেন তার তিন ছেলে—ইমরান (২৫), ইরফান (২৩) ও আদনান (১৮)—এবং দুই জামাতা।

জুবাইদা এইচআরসিপিকে জানান, তারা লাহোর পর্যন্ত গিয়ে সন্তানদের মুক্তির জন্য অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু পরদিন সকালে পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পান। পরে তিনি আদালতে মামলা করলে পুলিশ পক্ষ থেকে হুমকি দেওয়া হয়—মামলা প্রত্যাহার না করলে পরিবারের বাকি সদস্যদেরও হত্যা করা হবে।

জুবাইদার স্বামী আবদুল জব্বার দাবি করেন, তার ছেলেদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের রেকর্ড ছিল না। তারা সবাই বিবাহিত ছিলেন, সন্তান ছিল এবং নিজ নিজ পেশায় কর্মরত ছিলেন।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এইচআরসিপি বলেছে, পাঞ্জাবের সিসিডি আইন ও সংবিধান লঙ্ঘন করে পরিকল্পিতভাবে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে। মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

আল জাজিরা জানিয়েছে, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ শরিফ–এর অধীনে সিসিডি গঠন করা হয়। তিনি তিনবারের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ–এর মেয়ে এবং বর্তমান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ–এর ভাইঝি।

মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, ‘এনকাউন্টার’ সংস্কৃতির মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার চেষ্টা দীর্ঘমেয়াদে বিচারব্যবস্থাকে দুর্বল করে এবং আইনের শাসনের পরিপন্থী। পাঞ্জাব পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

এইচআরসিপি’র রিপোর্ট পাকিস্তানের পাঞ্জাবে ৮ মাসে ৯০০ জনকে হত্যা করেছে পুলিশ

প্রকাশিত সময় : ১১:২২:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে গত বছরের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত অন্তত ৯২৪ জনকে হত্যা করেছে দেশটির পুলিশ—এমন বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করেছে হিউম্যান রাইটস কমিশন অফ পাকিস্তান (এইচআরসিপি)। খবর দিয়েছে আল জাজিরা

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বড় ও সংগঠিত অপরাধ দমনের লক্ষ্যে ২০২৫ সালের এপ্রিলে পাঞ্জাবে গঠন করা হয় ক্রাইম কন্ট্রোল ডিপার্টমেন্ট (সিসিডি)। বিভাগটি গঠনের পর থেকেই ব্যাপকহারে তথাকথিত ‘এনকাউন্টার’ শুরু হয়। এইচআরসিপি জানিয়েছে, সিসিডি গঠনের পর অন্তত ৬৭০টি ‘এনকাউন্টার’-এ ৯২৪ জন সন্দেহভাজন নিহত হয়েছেন। মানবাধিকার সংগঠনটির দাবি, এসব হত্যাকাণ্ডের অনেকগুলোই বিচারবহির্ভূত।

গত বছরের নভেম্বরে দক্ষিণ পাঞ্জাবের বাহাওয়ালপুর শহরে এমনই এক ঘটনার শিকার হন জুবাইদা বিবির পরিবার। জুবাইদা অভিযোগ করেন, সিসিডি’র সশস্ত্র কর্মকর্তারা তাদের বাড়িতে হানা দিয়ে মোবাইল ফোন, নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার এবং মেয়ের যৌতুকের টাকাসহ বিভিন্ন জিনিস লুট করে নিয়ে যায়। একই সঙ্গে তার ছেলেদেরও আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুলে নেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জুবাইদা বিবির পরিবারের পাঁচ সদস্যকে বিভিন্ন জেলায় ‘পুলিশ এনকাউন্টার’-এ হত্যা করা হয়। নিহতদের মধ্যে ছিলেন তার তিন ছেলে—ইমরান (২৫), ইরফান (২৩) ও আদনান (১৮)—এবং দুই জামাতা।

জুবাইদা এইচআরসিপিকে জানান, তারা লাহোর পর্যন্ত গিয়ে সন্তানদের মুক্তির জন্য অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু পরদিন সকালে পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পান। পরে তিনি আদালতে মামলা করলে পুলিশ পক্ষ থেকে হুমকি দেওয়া হয়—মামলা প্রত্যাহার না করলে পরিবারের বাকি সদস্যদেরও হত্যা করা হবে।

জুবাইদার স্বামী আবদুল জব্বার দাবি করেন, তার ছেলেদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের রেকর্ড ছিল না। তারা সবাই বিবাহিত ছিলেন, সন্তান ছিল এবং নিজ নিজ পেশায় কর্মরত ছিলেন।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এইচআরসিপি বলেছে, পাঞ্জাবের সিসিডি আইন ও সংবিধান লঙ্ঘন করে পরিকল্পিতভাবে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে। মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

আল জাজিরা জানিয়েছে, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ শরিফ–এর অধীনে সিসিডি গঠন করা হয়। তিনি তিনবারের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ–এর মেয়ে এবং বর্তমান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ–এর ভাইঝি।

মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, ‘এনকাউন্টার’ সংস্কৃতির মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার চেষ্টা দীর্ঘমেয়াদে বিচারব্যবস্থাকে দুর্বল করে এবং আইনের শাসনের পরিপন্থী। পাঞ্জাব পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।