বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পেট ফাঁপা থেকে রক্ষা পাবেন যেভাবে

বেশি না খেলেও কি আপনার পেট হঠাৎ ফুলে যায়, টানটান লাগে বা অস্বস্তি হয়? বর্তমানে পেট ফাঁপা হজমজনিত সবচেয়ে সাধারণ সমস্যাগুলোর একটি। মাঝে মাঝে এমনটা হওয়া স্বাভাবিক হলেও, যদি নিয়মিত হয়, তাহলে বুঝতে হবে আপনার দৈনন্দিন কিছু অভ্যাসের সঙ্গে শরীর ঠিকভাবে মানিয়ে নিতে পারছে না।

অনেকে মনে করেন শুধু ভারী বা তেল-চর্বিযুক্ত খাবার খেলেই পেট ফাঁপে। কিন্তু বাস্তবে মানসিক চাপ, খাওয়ার ধরন এবং কিছু নির্দিষ্ট খাবারের সংমিশ্রণও এর জন্য দায়ী হতে পারে। পেট ফাঁপার সম্ভাব্য কারণগুলো জেনে নেওয়া যাক—

১. খুব দ্রুত খাওয়া

১০ মিনিটের কম সময়ে খাবার শেষ করলে খাবারের সঙ্গে বেশি বাতাস পেটে ঢুকে যায়। দ্রুত খেলে খাবার ঠিকমতো চিবানো হয় না, ফলে হজমে সমস্যা হয় এবং গ্যাস তৈরি হয়। তাই ধীরে সুস্থে, ভালোভাবে চিবিয়ে এবং খাওয়ার সময় অপ্রয়োজনীয় কথা না বলে খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

২. স্বাস্থ্যকর খাবার বেশি খাওয়া

মটরশুটি, ব্রকলি, বাঁধাকপি ও মসুর ডালের মতো খাবারে প্রচুর ফাইবার ও গাঁজনযোগ্য কার্বোহাইড্রেট থাকে। এগুলো পুষ্টিকর হলেও অতিরিক্ত খেলে গ্যাস হতে পারে। তাই একবারে বেশি ফাইবার না খেয়ে ধীরে ধীরে খাদ্যতালিকায় যোগ করা ভালো, যাতে অন্ত্র সহজে মানিয়ে নিতে পারে।

৩. দুগ্ধজাত খাবারে অসহিষ্ণুতা

ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা থাকলে দুধ, পনির বা আইসক্রিম খাওয়ার পর পেট ফাঁপা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে খাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর অস্বস্তি হলে বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। এক সপ্তাহ দুগ্ধজাত খাবার বাদ দিয়ে দেখলে পার্থক্য বোঝা যেতে পারে।

৪. কৃত্রিম মিষ্টি ও গ্যাসযুক্ত পানীয়

কোমল পানীয় বা কার্বনেটেড ড্রিংকে অতিরিক্ত গ্যাস থাকে, যা পেটে জমে অস্বস্তি তৈরি করে। সরবিটল ও জাইলিটলের মতো কৃত্রিম মিষ্টিও সহজে হজম হয় না। এসবের বদলে পানি বা ভেষজ চা পান করলে উপকার মিলতে পারে।

৫. হরমোনের পরিবর্তন

অনেক নারীর ক্ষেত্রে মাসিকের আগে পেট ফাঁপা বেড়ে যায়। হরমোনের ওঠানামার কারণে শরীরে পানি জমে থাকে এবং হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। তাই লক্ষণগুলো কখন হচ্ছে তা খেয়াল করলে কারণ বোঝা সহজ হয়।

৬. মানসিক চাপ ও উদ্বেগ

মস্তিষ্ক ও অন্ত্রের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। অতিরিক্ত চাপ হজমে প্রভাব ফেলে এবং অন্ত্রে খাবার দীর্ঘ সময় আটকে থাকলে গ্যাস তৈরি হতে পারে। নিয়মিত ব্যায়াম, শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন, পর্যাপ্ত ঘুম ও সচেতনভাবে খাওয়া এ সমস্যা কমাতে সাহায্য করতে পারে।

 

সূত্র: যুগান্তর

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

পেট ফাঁপা থেকে রক্ষা পাবেন যেভাবে

প্রকাশিত সময় : ১০:৩৬:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বেশি না খেলেও কি আপনার পেট হঠাৎ ফুলে যায়, টানটান লাগে বা অস্বস্তি হয়? বর্তমানে পেট ফাঁপা হজমজনিত সবচেয়ে সাধারণ সমস্যাগুলোর একটি। মাঝে মাঝে এমনটা হওয়া স্বাভাবিক হলেও, যদি নিয়মিত হয়, তাহলে বুঝতে হবে আপনার দৈনন্দিন কিছু অভ্যাসের সঙ্গে শরীর ঠিকভাবে মানিয়ে নিতে পারছে না।

অনেকে মনে করেন শুধু ভারী বা তেল-চর্বিযুক্ত খাবার খেলেই পেট ফাঁপে। কিন্তু বাস্তবে মানসিক চাপ, খাওয়ার ধরন এবং কিছু নির্দিষ্ট খাবারের সংমিশ্রণও এর জন্য দায়ী হতে পারে। পেট ফাঁপার সম্ভাব্য কারণগুলো জেনে নেওয়া যাক—

১. খুব দ্রুত খাওয়া

১০ মিনিটের কম সময়ে খাবার শেষ করলে খাবারের সঙ্গে বেশি বাতাস পেটে ঢুকে যায়। দ্রুত খেলে খাবার ঠিকমতো চিবানো হয় না, ফলে হজমে সমস্যা হয় এবং গ্যাস তৈরি হয়। তাই ধীরে সুস্থে, ভালোভাবে চিবিয়ে এবং খাওয়ার সময় অপ্রয়োজনীয় কথা না বলে খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

২. স্বাস্থ্যকর খাবার বেশি খাওয়া

মটরশুটি, ব্রকলি, বাঁধাকপি ও মসুর ডালের মতো খাবারে প্রচুর ফাইবার ও গাঁজনযোগ্য কার্বোহাইড্রেট থাকে। এগুলো পুষ্টিকর হলেও অতিরিক্ত খেলে গ্যাস হতে পারে। তাই একবারে বেশি ফাইবার না খেয়ে ধীরে ধীরে খাদ্যতালিকায় যোগ করা ভালো, যাতে অন্ত্র সহজে মানিয়ে নিতে পারে।

৩. দুগ্ধজাত খাবারে অসহিষ্ণুতা

ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা থাকলে দুধ, পনির বা আইসক্রিম খাওয়ার পর পেট ফাঁপা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে খাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর অস্বস্তি হলে বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। এক সপ্তাহ দুগ্ধজাত খাবার বাদ দিয়ে দেখলে পার্থক্য বোঝা যেতে পারে।

৪. কৃত্রিম মিষ্টি ও গ্যাসযুক্ত পানীয়

কোমল পানীয় বা কার্বনেটেড ড্রিংকে অতিরিক্ত গ্যাস থাকে, যা পেটে জমে অস্বস্তি তৈরি করে। সরবিটল ও জাইলিটলের মতো কৃত্রিম মিষ্টিও সহজে হজম হয় না। এসবের বদলে পানি বা ভেষজ চা পান করলে উপকার মিলতে পারে।

৫. হরমোনের পরিবর্তন

অনেক নারীর ক্ষেত্রে মাসিকের আগে পেট ফাঁপা বেড়ে যায়। হরমোনের ওঠানামার কারণে শরীরে পানি জমে থাকে এবং হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। তাই লক্ষণগুলো কখন হচ্ছে তা খেয়াল করলে কারণ বোঝা সহজ হয়।

৬. মানসিক চাপ ও উদ্বেগ

মস্তিষ্ক ও অন্ত্রের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। অতিরিক্ত চাপ হজমে প্রভাব ফেলে এবং অন্ত্রে খাবার দীর্ঘ সময় আটকে থাকলে গ্যাস তৈরি হতে পারে। নিয়মিত ব্যায়াম, শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন, পর্যাপ্ত ঘুম ও সচেতনভাবে খাওয়া এ সমস্যা কমাতে সাহায্য করতে পারে।

 

সূত্র: যুগান্তর