শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভারতীয় ইউটিউবারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, ডায়েরিতে লেখা ‌‘ও আর আমার নেই’

ভারতের হায়দরাবাদের একটি ভাড়া বাসা থেকে বনু কোমালি নামে ২১ বছর বয়সী এক উদীয়মান ইউটিউবার ও বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার তেলেঙ্গানার এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

মৃত্যুর আগে নিজের ডায়েরিতে লেখা এক আবেগঘন বার্তায় কোমালি তার দীর্ঘ তিন বছরের প্রেমের সম্পর্ক এবং বিচ্ছেদের যন্ত্রণা ফুটিয়ে তুলেছেন। অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমের বাসিন্দা কোমালি গত ১১ মাস ধরে হায়দরাবাদের একটি বেসরকারি কলেজে বিএসসি পড়ার পাশাপাশি একা ওই ফ্ল্যাটে থাকতেন।

কোমালির ডায়েরিতে লেখা শেষ কথাগুলো ছিল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। তিনি লিখেছিলেন, আমি সরে যেতে ভয় পাচ্ছি, যদি সে ফিরে আসে? আমি জানি আমার ওকে ভুলে যাওয়া উচিত, ও আর আমার নেই, এমনকি ও আমার সঙ্গে থাকার চেষ্টাও করছে না। কিন্তু আমার একটি অংশ এখনো ওর জন্য অপেক্ষা করে, আশা করে যেকোনো একদিন সে আমাকেই বেছে নেবে। জীবন থেকে সরে যাওয়ার আগে তিনি আরও লিখেছিলেন যে, তার পক্ষে এগিয়ে যাওয়া অসম্ভব মনে হচ্ছে কারণ তিনি যখন পুরোপুরি দূরে সরে যাবেন, তখন যদি তার প্রিয় মানুষটি ফিরে এসে তাকে খুঁজতে শুরু করে।

পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, ২৭ বছর বয়সী এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ও সহ-ইউটিউবারের সঙ্গে কোমালির তিন বছরের সম্পর্ক ছিল, যা সম্প্রতি ভেঙে যায়। এর আগেও একবার তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানা গেছে।

মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে কুয়েতে কর্মরত মা বি সত্য মহালক্ষ্মীকে উদ্দেশ্য করে একটি বার্তা পাঠান কোমালি। সেখানে তিনি মাকে খুব ভালোবাসেন জানিয়ে ছোট ভাইয়ের যত্ন নেওয়ার অনুরোধ করেন। মায়ের ফোন পেয়ে কোমালির এক বন্ধু ফ্ল্যাটে গিয়ে কোনো সাড়া না পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ঝুলন্ত অবস্থায় তার দেহ উদ্ধার করে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইফস্টাইল এবং দৈনিক ভ্লগ তৈরির জন্য বেশ পরিচিতি পেয়েছিলেন কোমালি। বিশেষ করে তিরুমালা পদযাত্রা নিয়ে তার শেষ ভিডিওটি ইন্টারনেটে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। নিজের একটি ব্যক্তিগত মানত পূরণ করতেই তিনি পাহাড়ি মন্দিরে হেঁটে গিয়েছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত তার জীবনের শেষ পোস্ট হিসেবে রয়ে গেল।

পুলিশ বর্তমানে কোমালির ফোন রেকর্ড এবং ডিজিটাল তথ্য খতিয়ে দেখছে এবং ঘটনাটিকে একটি রহস্যজনক মৃত্যু হিসেবে মামলা করে তদন্ত শুরু করেছে।

 

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ভারতীয় ইউটিউবারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, ডায়েরিতে লেখা ‌‘ও আর আমার নেই’

প্রকাশিত সময় : ১২:০৮:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভারতের হায়দরাবাদের একটি ভাড়া বাসা থেকে বনু কোমালি নামে ২১ বছর বয়সী এক উদীয়মান ইউটিউবার ও বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার তেলেঙ্গানার এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

মৃত্যুর আগে নিজের ডায়েরিতে লেখা এক আবেগঘন বার্তায় কোমালি তার দীর্ঘ তিন বছরের প্রেমের সম্পর্ক এবং বিচ্ছেদের যন্ত্রণা ফুটিয়ে তুলেছেন। অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমের বাসিন্দা কোমালি গত ১১ মাস ধরে হায়দরাবাদের একটি বেসরকারি কলেজে বিএসসি পড়ার পাশাপাশি একা ওই ফ্ল্যাটে থাকতেন।

কোমালির ডায়েরিতে লেখা শেষ কথাগুলো ছিল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। তিনি লিখেছিলেন, আমি সরে যেতে ভয় পাচ্ছি, যদি সে ফিরে আসে? আমি জানি আমার ওকে ভুলে যাওয়া উচিত, ও আর আমার নেই, এমনকি ও আমার সঙ্গে থাকার চেষ্টাও করছে না। কিন্তু আমার একটি অংশ এখনো ওর জন্য অপেক্ষা করে, আশা করে যেকোনো একদিন সে আমাকেই বেছে নেবে। জীবন থেকে সরে যাওয়ার আগে তিনি আরও লিখেছিলেন যে, তার পক্ষে এগিয়ে যাওয়া অসম্ভব মনে হচ্ছে কারণ তিনি যখন পুরোপুরি দূরে সরে যাবেন, তখন যদি তার প্রিয় মানুষটি ফিরে এসে তাকে খুঁজতে শুরু করে।

পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, ২৭ বছর বয়সী এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ও সহ-ইউটিউবারের সঙ্গে কোমালির তিন বছরের সম্পর্ক ছিল, যা সম্প্রতি ভেঙে যায়। এর আগেও একবার তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানা গেছে।

মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে কুয়েতে কর্মরত মা বি সত্য মহালক্ষ্মীকে উদ্দেশ্য করে একটি বার্তা পাঠান কোমালি। সেখানে তিনি মাকে খুব ভালোবাসেন জানিয়ে ছোট ভাইয়ের যত্ন নেওয়ার অনুরোধ করেন। মায়ের ফোন পেয়ে কোমালির এক বন্ধু ফ্ল্যাটে গিয়ে কোনো সাড়া না পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ঝুলন্ত অবস্থায় তার দেহ উদ্ধার করে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইফস্টাইল এবং দৈনিক ভ্লগ তৈরির জন্য বেশ পরিচিতি পেয়েছিলেন কোমালি। বিশেষ করে তিরুমালা পদযাত্রা নিয়ে তার শেষ ভিডিওটি ইন্টারনেটে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। নিজের একটি ব্যক্তিগত মানত পূরণ করতেই তিনি পাহাড়ি মন্দিরে হেঁটে গিয়েছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত তার জীবনের শেষ পোস্ট হিসেবে রয়ে গেল।

পুলিশ বর্তমানে কোমালির ফোন রেকর্ড এবং ডিজিটাল তথ্য খতিয়ে দেখছে এবং ঘটনাটিকে একটি রহস্যজনক মৃত্যু হিসেবে মামলা করে তদন্ত শুরু করেছে।

 

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন