বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘ই-হেলথ’ কার্ড চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

জনগণের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে ‘ই-হেলথ’ কার্ড চালুর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে স্বাস্থ্য মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন।

বৈঠক শেষে তার অতিরিক্তি প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য সাংবাদিকদের জানান।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ই-হেলথ কার্ড চালু করার কাজ শুরু করতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে যথাযথ নির্দেশনা দিয়েছেন। সরকারের নীতি হচ্ছে স্বাস্থ্য সেবা জনগনের দ্বারগোড়ায় পৌঁছাতে হবে। এইব্যাপারে মন্ত্রণালয়কে আরও সক্রিয় হওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রী বলেছেন।

বৈঠকে সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার পরিত্যক্ত ভবনসমসূহ চিহ্নিত করে সেগুলোকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে এসে স্বাস্থ্য কেন্দ্র করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, শুধুমাত্র এলডিইডি‘র পরিত্যক্ত ভবন বা বিল্ডিং রয়েছে ১৭০টি। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সরকারি ও তার অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার এরকম পরিত্যক্ত ভবন বা বিল্ডিং রয়েছে সেগুলো ক্লিনিট ও স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এই ব্যাপারে মন্ত্রণালয়কে তিনি(প্রধানমন্ত্রী) নির্দেশনা দিয়েছেন।

দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি সভায় আলোচনায় উঠে এসেছে। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে, প্রতিবছর ৩৪ লাখ নবজাতক জন্ম গ্রহণ করে।

অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, ‘প্রতিবছর নবজাতক জন্মের যে পরিসংখ্যান দেয়া হয় বৈঠকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে মন্ত্রণালয়কে তৎপর হতে বলা হয়েছে।’

বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এক লাখ স্বাস্থ্য কর্মী যার মধ্যে নারী ৮০ শতাংশ এবং পুরুষ ২০ শতাংশ তা নিয়োগ এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের শূণ্য পদে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মী নিয়োগের বিষয় নিয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে বলে জানান অতিরিক্ত প্রেস সচিব।

দূর্গম এলাকায় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসকরা যান সেজন্য মন্ত্রীকে তাগাদা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বলে অতিরিক্ত প্রেস সচিব।

বৈঠকে স্বাস্থ্য মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিতসহ সরকারের উধর্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

‘সারাদেশে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি জোরদারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর’

সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ সংক্রান্ত সেল এর সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সেলের কার্যক্রমের সর্বশেষ অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, ‘‘ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সারাদেশে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি জোরদার করতে বলেছেন। সারাদেশে ৫ বছরের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপনের কর্মপরিকল্পনার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সরকারি নার্সারি ছাড়াও বিভিন্ন বেসরকারি নার্সারি থেকে চারা সংগ্রহ করা হবে।”

‘‘ সারাদেশে খাসজমি, চরাঞ্চল, নদীর দুই পারে, সড়ক-মহাসড়কের দুই ধারে, বনাঞ্চলে যেখানে বৃক্ষ নেই সেসব স্থানে, সরকারি প্রতিষ্ঠানের আঙ্গিনায় প্রভৃতি স্থানে এই সব বৃক্ষ রোপন করা হবে। প্রতি শিক্ষার্থী একটি করে বৃক্ষ রোপন করবে এবং সেই বৃক্ষ তারা পরিচর্চা করবে।”

বৈঠকে বন ও পরিবেশ মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, মন্ত্রি পরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তারসহ সরকারের উধর্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দিনের কর্মনূচিতে সকালে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেন আনসার ও ভিডিপি এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী দেশের শান্তি, নিরাপত্তা এবং জনগণের স্বার্থে জনসেবামূলক কাজ অব্যাহত রাখতে মহাপরিচালককে নির্দেশনা দিয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

‘ই-হেলথ’ কার্ড চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত সময় : ০৭:৩৩:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

জনগণের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে ‘ই-হেলথ’ কার্ড চালুর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে স্বাস্থ্য মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন।

বৈঠক শেষে তার অতিরিক্তি প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য সাংবাদিকদের জানান।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ই-হেলথ কার্ড চালু করার কাজ শুরু করতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে যথাযথ নির্দেশনা দিয়েছেন। সরকারের নীতি হচ্ছে স্বাস্থ্য সেবা জনগনের দ্বারগোড়ায় পৌঁছাতে হবে। এইব্যাপারে মন্ত্রণালয়কে আরও সক্রিয় হওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রী বলেছেন।

বৈঠকে সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার পরিত্যক্ত ভবনসমসূহ চিহ্নিত করে সেগুলোকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে এসে স্বাস্থ্য কেন্দ্র করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, শুধুমাত্র এলডিইডি‘র পরিত্যক্ত ভবন বা বিল্ডিং রয়েছে ১৭০টি। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সরকারি ও তার অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার এরকম পরিত্যক্ত ভবন বা বিল্ডিং রয়েছে সেগুলো ক্লিনিট ও স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এই ব্যাপারে মন্ত্রণালয়কে তিনি(প্রধানমন্ত্রী) নির্দেশনা দিয়েছেন।

দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি সভায় আলোচনায় উঠে এসেছে। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে, প্রতিবছর ৩৪ লাখ নবজাতক জন্ম গ্রহণ করে।

অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, ‘প্রতিবছর নবজাতক জন্মের যে পরিসংখ্যান দেয়া হয় বৈঠকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে মন্ত্রণালয়কে তৎপর হতে বলা হয়েছে।’

বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এক লাখ স্বাস্থ্য কর্মী যার মধ্যে নারী ৮০ শতাংশ এবং পুরুষ ২০ শতাংশ তা নিয়োগ এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের শূণ্য পদে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মী নিয়োগের বিষয় নিয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে বলে জানান অতিরিক্ত প্রেস সচিব।

দূর্গম এলাকায় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসকরা যান সেজন্য মন্ত্রীকে তাগাদা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বলে অতিরিক্ত প্রেস সচিব।

বৈঠকে স্বাস্থ্য মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিতসহ সরকারের উধর্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

‘সারাদেশে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি জোরদারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর’

সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ সংক্রান্ত সেল এর সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সেলের কার্যক্রমের সর্বশেষ অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, ‘‘ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সারাদেশে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি জোরদার করতে বলেছেন। সারাদেশে ৫ বছরের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপনের কর্মপরিকল্পনার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সরকারি নার্সারি ছাড়াও বিভিন্ন বেসরকারি নার্সারি থেকে চারা সংগ্রহ করা হবে।”

‘‘ সারাদেশে খাসজমি, চরাঞ্চল, নদীর দুই পারে, সড়ক-মহাসড়কের দুই ধারে, বনাঞ্চলে যেখানে বৃক্ষ নেই সেসব স্থানে, সরকারি প্রতিষ্ঠানের আঙ্গিনায় প্রভৃতি স্থানে এই সব বৃক্ষ রোপন করা হবে। প্রতি শিক্ষার্থী একটি করে বৃক্ষ রোপন করবে এবং সেই বৃক্ষ তারা পরিচর্চা করবে।”

বৈঠকে বন ও পরিবেশ মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, মন্ত্রি পরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তারসহ সরকারের উধর্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দিনের কর্মনূচিতে সকালে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেন আনসার ও ভিডিপি এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী দেশের শান্তি, নিরাপত্তা এবং জনগণের স্বার্থে জনসেবামূলক কাজ অব্যাহত রাখতে মহাপরিচালককে নির্দেশনা দিয়েছেন।